অন্ধকার পর্যায়ে কী ঘটে
সালোকসংশ্লেষণের দুটি পর্যায়: আলোক নির্ভর পর্যায় আর আলোক নিরপেক্ষ বা অন্ধকার পর্যায়। অন্ধকার পর্যায়ে বায়ুর কার্বন ডাই-অক্সাইড পাতার পত্ররন্ধ্র দিয়ে কোষে ঢোকে এবং বিজারিত হয়ে শর্করা তৈরি করে। কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের এই গতিপথ সব উদ্ভিদে এক রকম নয়, আর সেই পার্থক্য থেকেই C₃ ও C₄ নাম।
C₃ উদ্ভিদ
ক্যালভিন চক্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণে প্রথম যে স্থায়ী যৌগ তৈরি হয়, তা তিন কার্বনের ফসফোগ্লিসারিক এসিড। তাই এই গতিপথকে C₃ গতিপথ, আর যে উদ্ভিদে কার্বন স্থিতিকরণের প্রথম স্থায়ী যৌগ তিন কার্বনবিশিষ্ট, তাকে C₃ উদ্ভিদ বলে। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদ, যেমন ধান ও গম, C₃ উদ্ভিদ।
C₄ উদ্ভিদ
১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার দুই বিজ্ঞানী এম. ডি. হ্যাচ ও সি. আর. স্ল্যাক কার্বন ডাই-অক্সাইড বিজারণের আরেকটি গতিপথ আবিষ্কার করেন। এতে প্রথম স্থায়ী যৌগ চার কার্বনের অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড, তাই একে C₄ গতিপথ বা হ্যাচ-স্ল্যাক চক্র বলে। C₄ উদ্ভিদে হ্যাচ-স্ল্যাক চক্র আর ক্যালভিন চক্র একসঙ্গে চলে, এবং এদের সালোকসংশ্লেষণের হার C₃ উদ্ভিদের চেয়ে বেশি।
মিল কোথায়
- দুটিতেই সালোকসংশ্লেষণ হয়, আর দুটিতেই শেষ পর্যন্ত ক্যালভিন চক্রে শর্করা তৈরি হয়।
- দুটিই সবুজ উদ্ভিদ; ক্লোরোফিল দিয়ে আলো শোষণ করে।
সাধারণ ভুল
- C₄ উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র চলে না ভাবা। C₄ উদ্ভিদে হ্যাচ-স্ল্যাক চক্রের সঙ্গে ক্যালভিন চক্রও চলে।
- "C₃" নামের তিনকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা অন্য কিছুর সংখ্যা ভাবা। তিন হলো প্রথম স্থায়ী যৌগের কার্বন সংখ্যা।