পড়ার নোট
জীবদেহে শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহারের মৌলিক প্রক্রিয়াকে জীবনীশক্তি (Bioenergetics) বলে। জীবদেহের অণুগুলোর রাসায়নিক বন্ধন তৈরি ও ভাঙার মধ্য দিয়ে যে শক্তি পাওয়া যায়, তা-ই জীবনীশক্তি। জীব পরিবেশ থেকে প্রতিনিয়ত শক্তি সংগ্রহ করে, এক রূপ থেকে আরেক রূপে বদলায়, কখনো সঞ্চয় করে এবং আবার পরিবেশে ছেড়ে দেয়। শক্তির মূল উৎস সূর্য; সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা তৈরি করে।
এটিপির গঠন: অ্যাডেনিন একটি নাইট্রোজেন বেস। একটি অ্যাডেনিন ও একটি পাঁচ কার্বনের রাইবোজ শর্করা মিলে অ্যাডেনোসিন হয়। এর সঙ্গে একটি, দুটি বা তিনটি ফসফেট যুক্ত হলে যথাক্রমে AMP, ADP ও ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) তৈরি হয়। ফসফেট যুক্ত করতে বাইরে থেকে শক্তি দিতে হয়; এ প্রক্রিয়া ফসফোরাইলেশন। উল্টো প্রক্রিয়ায় ফসফেট সরালে শক্তি মুক্ত হয়; এটি ডিফসফোরাইলেশন।
শক্তি
প্রতি মোল ATP এর ফসফেট গ্রুপে প্রায় কিলোক্যালরি, অর্থাৎ প্রায় kJ শক্তি সঞ্চিত থাকে। শক্তির SI একক জুল (J)।
কোষের দুটি অঙ্গাণু, মাইটোকন্ড্রিয়া ও প্লাস্টিড, পরিবেশ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে কোষের ব্যবহারযোগ্য রূপে আনে। এদের ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম প্রাপ্ত শক্তিকে ATP এর ফসফেট গ্রুপে জমা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়ায় শক্তির উৎস গ্লুকোজের মতো খাদ্য, আর ক্লোরোপ্লাস্টে সূর্যালোক।
পেশি সংকোচন থেকে খাদ্য পরিপাক, কথা বলা থেকে হাসি, বৃদ্ধি থেকে প্রজনন এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, সবকিছুই ATP এর রাসায়নিক বন্ধন ভাঙার ফলে মুক্ত শক্তিতে চলে। প্রয়োজনে ATP ভেঙে শক্তি দেয়, আবার খাদ্যের জারণের শক্তি নিয়ে তৈরি হয়, ঠিক রিচার্জেবল ব্যাটারির মতো। তাই ATP কে জৈবিক মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলে।
উদাহরণ: রোদে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে গেলে পায়ের পেশি বারবার সংকুচিত হয়। প্রতিটি সংকোচনে ATP ভেঙে ADP হয়; শ্বসনে খাদ্যের জারণের শক্তি দিয়ে ADP আবার ATP তে ফিরে যায়।
সাধারণ ভুল হলো ATP কে খাদ্য বা শক্তির স্থায়ী ভান্ডার ভাবা। ATP হলো শক্তি বহনের মাধ্যম; খাদ্যে সঞ্চিত শক্তি শ্বসনের মাধ্যমে ATP তে আসে, তারপর কাজে লাগে।
মনে রাখো: ATP এর ফসফেট বন্ধনে শক্তি জমা থাকে; ফসফেট সরালে শক্তি মুক্ত হয় বলে ATP কোষের শক্তি মুদ্রা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।