offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৪ · টপিক ১

জীবনীশক্তি (Bioenergetics) ও এটিপির ভূমিকা

পড়ার নোট

জীবদেহে শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহারের মৌলিক প্রক্রিয়াকে জীবনীশক্তি (Bioenergetics) বলে। জীবদেহের অণুগুলোর রাসায়নিক বন্ধন তৈরি ও ভাঙার মধ্য দিয়ে যে শক্তি পাওয়া যায়, তা-ই জীবনীশক্তি। জীব পরিবেশ থেকে প্রতিনিয়ত শক্তি সংগ্রহ করে, এক রূপ থেকে আরেক রূপে বদলায়, কখনো সঞ্চয় করে এবং আবার পরিবেশে ছেড়ে দেয়। শক্তির মূল উৎস সূর্য; সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর করে শর্করা তৈরি করে।

এটিপির গঠন: অ্যাডেনিন একটি নাইট্রোজেন বেস। একটি অ্যাডেনিন ও একটি পাঁচ কার্বনের রাইবোজ শর্করা মিলে অ্যাডেনোসিন হয়। এর সঙ্গে একটি, দুটি বা তিনটি ফসফেট যুক্ত হলে যথাক্রমে AMP, ADP ও ATP (অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট) তৈরি হয়। ফসফেট যুক্ত করতে বাইরে থেকে শক্তি দিতে হয়; এ প্রক্রিয়া ফসফোরাইলেশন। উল্টো প্রক্রিয়ায় ফসফেট সরালে শক্তি মুক্ত হয়; এটি ডিফসফোরাইলেশন।

ATP⟶ADP+Pi+\mathrm{ATP\longrightarrow ADP+P_i}+ শক্তি

প্রতি মোল ATP এর ফসফেট গ্রুপে প্রায় 7.37.3 কিলোক্যালরি, অর্থাৎ প্রায় 30.5530.55 kJ শক্তি সঞ্চিত থাকে। শক্তির SI একক জুল (J)।

কোষের দুটি অঙ্গাণু, মাইটোকন্ড্রিয়া ও প্লাস্টিড, পরিবেশ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে কোষের ব্যবহারযোগ্য রূপে আনে। এদের ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম প্রাপ্ত শক্তিকে ATP এর ফসফেট গ্রুপে জমা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়ায় শক্তির উৎস গ্লুকোজের মতো খাদ্য, আর ক্লোরোপ্লাস্টে সূর্যালোক।

পেশি সংকোচন থেকে খাদ্য পরিপাক, কথা বলা থেকে হাসি, বৃদ্ধি থেকে প্রজনন এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, সবকিছুই ATP এর রাসায়নিক বন্ধন ভাঙার ফলে মুক্ত শক্তিতে চলে। প্রয়োজনে ATP ভেঙে শক্তি দেয়, আবার খাদ্যের জারণের শক্তি নিয়ে তৈরি হয়, ঠিক রিচার্জেবল ব্যাটারির মতো। তাই ATP কে জৈবিক মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলে।

উদাহরণ: রোদে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে গেলে পায়ের পেশি বারবার সংকুচিত হয়। প্রতিটি সংকোচনে ATP ভেঙে ADP হয়; শ্বসনে খাদ্যের জারণের শক্তি দিয়ে ADP আবার ATP তে ফিরে যায়।

সাধারণ ভুল হলো ATP কে খাদ্য বা শক্তির স্থায়ী ভান্ডার ভাবা। ATP হলো শক্তি বহনের মাধ্যম; খাদ্যে সঞ্চিত শক্তি শ্বসনের মাধ্যমে ATP তে আসে, তারপর কাজে লাগে।

মনে রাখো: ATP এর ফসফেট বন্ধনে শক্তি জমা থাকে; ফসফেট সরালে শক্তি মুক্ত হয় বলে ATP কোষের শক্তি মুদ্রা।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • স্প্রিন্ট দৌড়, অবাত শ্বসন ও এটিপি: পেশি ক্লান্তিচালিয়ে দেখো

    স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দৌড়ে অংশ নিল নবম শ্রেণির ছাত্রী রিমি। তীব্র গতিতে দৌড়ে প্রথম হয়ে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করার পরপরই তার পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভূত হতে লাগল এবং সে হাঁপাতে লাগল। স্বাভাবিক অবস্থায় কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ১ অণু গ্লুকোজ সবাত শ্বসনে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে মোট ৩৮টি ATP উৎপন্ন করে। কিন্তু তীব্র দৌড়ের সময় পেশিকোষে অক্সিজেনের চরম ঘাটতি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে অবাত শ্বসন (ল্যাকটিক অ্যাসিড সন্ধান) ঘটে। অক্সিজেনের এই ঘাটতিতে রিমির পেশিকোষে ১ অণু গ্লুকোজ থেকে শেষ পর্যন্ত কতটি ATP অণু উৎপন্ন হয়?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. উদ্ভিদকোষে সালোকসংশ্লেষণের আলোক-নির্ভর পর্যায়ে সূর্যালোকের শক্তি ব্যবহার করে ADP ও অজৈব ফসফেটের (PiP_i) সংযোগে ATP তৈরির প্রক্রিয়াকে কী বলে?

    1. ক

      ফটোলাইসিস (Photolysis)

    2. খ

      ফটোফসফোরাইলেশন (Photophosphorylation)

    3. গ

      অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন (Oxidative phosphorylation)

    4. ঘ

      গ্লাইকোলাইসিস (Glycolysis)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ফটোফসফোরাইলেশন (Photophosphorylation)

    1. সালোকসংশ্লেষণের আলোক-নির্ভর পর্যায়ে ক্লোরোফিল অণু সূর্যালোকের ফোটন কণা শোষণ করে উত্তেজিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
    2. এই ইলেকট্রনের শক্তি ব্যবহার করে ADP-এর সাথে অজৈব ফসফেট (PiP_i) যুক্ত হয়ে ATP সংশ্লেষিত হয়। আলোর উপস্থিতিতে সংঘটিত এই ফসফেট সংযোজনকে ফটোফসফোরাইলেশন (Photophosphorylation) বলে।
  2. সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় ১ অণু গ্লুকোজ সম্পূর্ণরূপে জারিত হলে মোট ৩৮টি ATP অণু উৎপন্ন হয়। মানবদেহে বিপাকীয় ক্রিয়ায় ১ মোল ATP-এর প্রান্তীয় ফসফেট আর্দ্রবিশ্লেষিত হলে ৩০.৫৫ kJ শক্তি মুক্ত হয়। একজন ব্যক্তির দেহে ২ mol গ্লুকোজের সম্পূর্ণ সবাত শ্বসনে উৎপাদিত মোট ATP থেকে কত কিলোজুল (kJ) শক্তি মুক্ত হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২,৩২১.৮ kJ

    1. ১ mol গ্লুকোজের সম্পূর্ণ সবাত জারণে ৩৮ mol ATP তৈরি হয়। সুতরাং ২ mol গ্লুকোজ থেকে মোট ATP তৈরি হয় = ২ × ৩৮ = ৭৬ mol।
    nATP=2×38=76 moln_{\text{ATP}} = 2 \times 38 = 76\text{ mol}
    1. ১ mol ATP ভেঙে নির্গত শক্তি ৩০.৫৫ kJ হলে, ৭৬ mol ATP থেকে মোট প্রাপ্ত শক্তি = ৭৬ × ৩০.৫৫ kJ = ২,৩২১.৮ kJ।
    E=76×30.55 kJ=2321.8 kJE = 76 \times 30.55\text{ kJ} = 2321.8\text{ kJ}
  3. জীবকোষে ATP অণুকে 'জৈব মুদ্রা' বা 'শক্তি মুদ্রা' (Biological coin / Energy currency) বলা হয় কেন? সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    কোষের সালোকসংশ্লেষণ বা খাদ্য জারণের ফলে উৎপন্ন শক্তি ADP-এর সাথে অজৈব ফসফেট যুক্ত করে ATP অণুর ফসফেট বন্ধনে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা থাকে। পরবর্তীতে কোষে যখনই প্রোটিন সংশ্লেষণ, পেশি সংকোচন বা পরিবহনের মতো বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়ায় শক্তির প্রয়োজন হয়, তখন ATP ভেঙে সেই শক্তি সরবরাহ করে। মুদ্রার মতো শক্তি সঞ্চয় এবং প্রয়োজন অনুসারে তাৎক্ষণিক লেনদেনে সার্বজনীন ব্যবহারের কারণেই ATP-কে কোষের জৈব মুদ্রা বা শক্তি মুদ্রা বলা হয়।

    1. শক্তি সঞ্চয়: শ্বসন বা সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে নির্গত শক্তি ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে ATP-তে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ফসফেট বন্ধনে সঞ্চিত হয়।
    2. শক্তির লেনদেন: কোষীয় সকল বিপাকীয় কাজের জন্য তাৎক্ষণিক শক্তির চাহিদা পূরণে ATP খরচ হয়, যা প্রচলিত মুদ্রার বিনিময়ের অনুরূপ।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো