পড়ার নোট
সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করা। সবুজ উদ্ভিদে শর্করা তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সালোকসংশ্লেষণ বলে। এতে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
সালোকসংশ্লেষণের প্রয়োজনীয় উপাদান চারটি: ক্লোরোফিল, আলো, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। বিক্রিয়াটি:
পাতার মেসোফিল টিস্যু সালোকসংশ্লেষণের প্রধান স্থান। স্থলজ উদ্ভিদ মূল দিয়ে মাটি থেকে পানি শোষণ করে মেসোফিলের ক্লোরোপ্লাস্টে পাঠায়, আর বায়ুমণ্ডলের পত্ররন্ধ্র দিয়ে প্রবেশ করে একই ক্লোরোপ্লাস্টে যায়। জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত শোষণ করে।
অক্সিজেন ও পানি সালোকসংশ্লেষণের উপজাত। প্রক্রিয়াটি একটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া: এখানে জারিত এবং বিজারিত হয়।
তৈরি খাদ্য উদ্ভিদ নিজের বিপাকের কাজে লাগায়, বাকিটা ফল, কাণ্ড বা পাতায় সঞ্চয় করে। মানুষসহ অন্য সব প্রাণীর অস্তিত্ব উদ্ভিদের তৈরি ও সঞ্চিত এই খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল।
উদাহরণ: বায়ুমণ্ডলে এর পরিমাণ এবং পানিতে । পানিতে বায়ুর তুলনায় গুণ বেশি। এ কারণে জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদের চেয়ে বেশি। পুকুরের শেওলা বা কলমিশাক এমন জলজ উদ্ভিদের পরিচিত উদাহরণ।
সমীকরণ পড়ার সময় খেয়াল করো: বাম পাশে অণু পানি লাগে, আর ডান পাশে অণু পানি নতুন করে তৈরি হয়। নির্গত অক্সিজেন আসে পানি থেকে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে উদ্ভিদ মাটি থেকে খাদ্য নেয়। মাটি থেকে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ লবণ নেয়; শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি হয় পাতায়, বাতাসের ও পানি থেকে।
মনে রাখো: সালোকসংশ্লেষণে সবুজ উদ্ভিদ আলো ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে ও পানি থেকে শর্করা তৈরি করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে; আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপ নেয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।