পড়ার নোট
একই উৎপত্তি এবং একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কয়েকটি টিস্যু মিলে যে ব্যবস্থা গঠন করে, তাকে টিস্যুতন্ত্র বলে। একটি টিস্যু একা যা পারে না, কয়েকটি টিস্যু মিলে তা সম্ভব হয়।
উদ্ভিদের টিস্যুতন্ত্র
উদ্ভিদদেহের টিস্যুগুলোকে অবস্থান ও কাজ অনুযায়ী তিনটি টিস্যুতন্ত্রে ভাগ করা যায়:
- ত্বকীয় টিস্যুতন্ত্র: উদ্ভিদের বাইরের আবরণ, যেমন ত্বক বা এপিডার্মিস। এটি ভেতরের টিস্যুকে রক্ষা করে এবং পাতার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে গ্যাস বিনিময়ে সাহায্য করে।
- ভিত্তি টিস্যুতন্ত্র: ত্বক ও পরিবহন টিস্যুর মাঝের প্রধান অংশ; মূলত প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা দিয়ে গঠিত। খাদ্য তৈরি (ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত কোষে), খাদ্য সঞ্চয় এবং উদ্ভিদকে দৃঢ়তা দেওয়া এর কাজ।
- ভাস্কুলার বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র: জাইলেম ও ফ্লোয়েম মিলে গঠিত ভাস্কুলার বান্ডল। জাইলেম পানি ও খনিজ লবণ এবং ফ্লোয়েম তৈরি খাদ্য পরিবহন করে।
প্রাণীর ক্ষেত্রে
প্রাণীতে চার ধরনের টিস্যু (আবরণী, যোজক, পেশি ও স্নায়ু) মিলে অঙ্গ ও অঙ্গতন্ত্র গঠন করে। যেমন রক্ত (তরল যোজক টিস্যু), হৃৎপেশি ও রক্তনালির প্রাচীরের টিস্যু মিলে দেহে রক্ত সংবহন চালু রাখে।
উদাহরণ: একটি আমগাছের পাতায় কোন টিস্যুতন্ত্র কী কাজ করছে?
| টিস্যুতন্ত্র | পাতায় অবস্থান | কাজ |
|---|---|---|
| ত্বকীয় | পাতার উপরের ও নিচের আবরণ | ভেতরের কোষ রক্ষা, পত্ররন্ধ্র দিয়ে গ্যাস বিনিময় |
| ভিত্তি | পাতার ভেতরের সবুজ কোষ | সালোকসংশ্লেষণে খাদ্য তৈরি |
| ভাস্কুলার | পাতার শিরা | পানি আনা ও তৈরি খাদ্য বাইরে পাঠানো |
তিনটি তন্ত্র একসাথে কাজ না করলে পাতা খাদ্য তৈরি করতে পারত না: পানি আসে ভাস্কুলার তন্ত্র দিয়ে, ঢোকে ত্বকের পত্ররন্ধ্র দিয়ে, আর খাদ্য তৈরি হয় ভিত্তি তন্ত্রে।
সাধারণ ভুল হলো টিস্যুতন্ত্র ও অঙ্গতন্ত্র এক করে ফেলা। টিস্যুতন্ত্র হলো একই কাজের টিস্যুর সমষ্টি, আর অঙ্গতন্ত্র হলো একই শারীরবৃত্তীয় কাজের কয়েকটি অঙ্গের সমষ্টি।
মনে রাখো: একই উৎপত্তি ও কাজের টিস্যু মিলে টিস্যুতন্ত্র গঠিত হয়; উদ্ভিদে ত্বকীয়, ভিত্তি ও ভাস্কুলার এই তিন টিস্যুতন্ত্র সুরক্ষা, খাদ্য তৈরি-সঞ্চয় ও পরিবহনের কাজ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।