পদ্মা সেতু থেকে রক্তকণিকা: কোন এককে লিখবে?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
পদ্মা সেতু ৬১৫০ মিটার লম্বা, আর একটি লোহিত রক্তকণিকা মাত্র ৭ মাইক্রোমিটার চওড়া। এত বড় আর এত ছোট সংখ্যা একই খাতায় লিখতে বিজ্ঞানীরা উপসর্গ আর আদর্শ রূপ (a × 10ⁿ) ব্যবহার করেন। ৭ µm কে মিটারে আদর্শ রূপে লিখলে কী হবে?
৭ µm মিটারে আদর্শ রূপে কত?
- ৭ × ১০⁻⁶ m: মাইক্রো মানে দশ লক্ষ ভাগের এক ভাগ
- ৭ × ১০⁻³ m, মাইক্রো আর মিলি একই
- ৭ × ১০⁶ m, মাইক্রো মানে মিলিয়ন
- ০.৭ × ১০⁻⁵ m, এটাই আদর্শ রূপ
যা বদলাতে পারবে
- যা মাপা হলো: পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য, এভারেস্টের উচ্চতা, লোহিত রক্তকণিকার ব্যাস, চুলের প্রস্থ, একটি ভাইরাস, একটি পরমাণু, পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব
- একক: কিলোমিটার (km), মিটার (m), সেন্টিমিটার (cm), মিলিমিটার (mm), মাইক্রোমিটার (µm), ন্যানোমিটার (nm)
যা মেপে দেখাবে
- আদর্শ রূপ
- এই এককে মান
- a এর মান (a × 10ⁿ)
- ঘাত n (a × 10ⁿ)
চালানোর সময় খেয়াল করো
- লোহিত কণিকা বেছে একক মিটার রাখো।
- একই জিনিস ভিন্ন এককে লিখলে n কীভাবে বদলায়?
নিজে করে দেখো
- পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব এমন এককে লেখো যাতে ঘাত ৮ হয়।
ইঙ্গিত
মিটারে ঘাত ১১।
- এমন জিনিস ও একক খুঁজে বের করো যাতে মান ঠিক ১০০ হয়।
ইঙ্গিত
খুব ছোট একটি জিনিস, খুব ছোট এককে।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
গুণিতক ও উপগুণিতক উপসর্গ এবং আদর্শ রূপ
খুব বড় বা খুব ছোট রাশি সহজে লিখতে এককের আগে উপসর্গ বসানো হয়: কিলো (k) = ১০³, মেগা (M) = ১০⁶, গিগা (G) = ১০⁹; সেন্টি (c) = ১০⁻², মিলি (m) = ১০⁻³, মাইক্রো (µ) = ১০⁻⁶, ন্যানো (n) = ১০⁻⁹। আদর্শ রূপে সংখ্যাকে a × ১০ⁿ আকারে লেখা হয়, যেখানে ১ ≤ a < ১০ আর n পূর্ণসংখ্যা: দশমিক বিন্দু যত ঘর বাঁয়ে সরে n তত বাড়ে, ডানে সরলে কমে (ঋণাত্মক)। তাই ৬১৫০ m = ৬.১৫ × ১০³ m = ৬.১৫ km, আর ৭ µm = ৭ × ১০⁻⁶ m। একই রাশি বড় এককে লিখলে সংখ্যা ছোট হয়: পৃথিবী থেকে সূর্য ১.৫ × ১০¹¹ m = ১.৫ × ১০⁸ km।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
মাইক্রো (µ) মানে ১০⁻⁶, মিলি (m) ১০⁻³ নয়। আর আদর্শ রূপে a অবশ্যই ১ থেকে ১০ এর মধ্যে, তাই ০.৭ × ১০⁻⁵ নয়, ৭ × ১০⁻⁶।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- মাইক্রো আর মিলি একই উপসর্গ
- ছোট জিনিসের ঘাত ধনাত্মক হয়
- আদর্শ রূপে a যেকোনো সংখ্যা হতে পারে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- মোবাইলের চিপে ট্রানজিস্টর কয়েক ন্যানোমিটার, আর গিগাবাইট মানে প্রায় ১০⁹ বাইট।