পড়ার নোট
তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশে কুণ্ডলীর ভেতরে চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনের ফলে যে ভোল্টেজ তৈরি হয়, তাকে আবিষ্ট ভোল্টেজ বা আবিষ্ট বিভব পার্থক্য বলে; একে আবিষ্ট তড়িচ্চালক শক্তি (EMF) ও বলা হয়। এই ভোল্টেজের কারণে কুণ্ডলীতে যে প্রবাহ চলে, তাকে আবিষ্ট তড়িৎপ্রবাহ বলে।
দুটির সম্পর্ক
- চৌম্বক ক্ষেত্র বদলালেই কুণ্ডলীতে আবিষ্ট ভোল্টেজ তৈরি হয়।
- কুণ্ডলী যদি অ্যামিটার বা অন্য কোনো যন্ত্রের সাথে যুক্ত হয়ে সম্পূর্ণ বর্তনী গঠন করে, তবেই এই ভোল্টেজ বর্তনীতে আবিষ্ট প্রবাহ চালায়।
- তাই আবিষ্ট ভোল্টেজ হলো কারণ, আর আবিষ্ট প্রবাহ তার ফল।
দিক
আবিষ্ট প্রবাহের দিক নির্ভর করে চৌম্বক ক্ষেত্র কীভাবে বদলাচ্ছে তার উপর:
- চুম্বক ঢোকালে প্রবাহ এক দিকে, বের করলে উল্টো দিকে।
- চুম্বকের মেরু উল্টালে প্রবাহও উল্টে যায়।
- পাশের কয়েলের সুইচ অন করলে এক দিকে, অফ করলে উল্টো দিকে।
কতক্ষণ থাকে
আবিষ্ট প্রবাহ ও ভোল্টেজ থাকে শুধু যতক্ষণ ক্ষেত্র বদলাচ্ছে। চুম্বক থেমে গেলে বা সুইচ অন অবস্থায় স্থির থাকলে প্রবাহ থেমে যায়। তাই অবিরাম আবিষ্ট প্রবাহ পেতে ক্ষেত্রকে অবিরাম বদলাতে হয়; জেনারেটরে কুণ্ডলী ঘুরিয়ে আর ট্রান্সফরমারে এসি প্রবাহ দিয়ে এটি করা হয়। চুম্বক যত দ্রুত নাড়ানো হয়, অ্যামিটারের কাঁটা তত বেশি নড়ে।
উদাহরণ: একটি কয়েলের সাথে অ্যামিটার যুক্ত। একজন শিক্ষার্থী একটি দণ্ড চুম্বকের উত্তর মেরু কয়েলে ঢোকালে কাঁটা ডানে নড়ল। এখন কী দেখা যাবে?
- চুম্বক ভেতরে স্থির রাখলে: কাঁটা শূন্যে, কারণ ক্ষেত্র বদলাচ্ছে না।
- উত্তর মেরু টেনে বের করলে: কাঁটা বামে, কারণ পরিবর্তন উল্টো।
- দক্ষিণ মেরু ঢোকালে: কাঁটা বামে, কারণ মেরু উল্টো।
- দক্ষিণ মেরু বের করলে: কাঁটা ডানে, কারণ মেরু ও গতি দুটোই উল্টো।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে কয়েলের ভেতরে চুম্বক রেখে দিলেই অবিরাম বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ক্ষেত্র না বদলালে আবিষ্ট ভোল্টেজ বা প্রবাহ কিছুই হয় না।
মনে রাখো: চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তনে কুণ্ডলীতে আবিষ্ট ভোল্টেজ তৈরি হয় এবং সম্পূর্ণ বর্তনী থাকলে তা আবিষ্ট প্রবাহ চালায়; পরিবর্তনের ধরন উল্টালে প্রবাহের দিকও উল্টে যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।