পড়ার নোট
স্থির রোধ
যে রোধকের রোধের মান নির্দিষ্ট এবং ব্যবহারকারী প্রয়োজনমতো তা পরিবর্তন করতে পারেন না, তাকে স্থির রোধ বলে। অন্যদিকে, যে রোধের মান একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে পরিবর্তন করা যায়, তাকে পরিবর্তনশীল রোধ বা রিওস্টেট বলে। বর্তনীতে নির্দিষ্ট বাধা প্রয়োজন, নাকি সেই বাধা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন—তার ভিত্তিতে এদের ব্যবহার করা হয়।
বিদ্যুৎপ্রবাহের বাধাকে রোধ বলে। বর্তনীতে প্রয়োজনীয় রোধ পাওয়ার জন্য বিশেষভাবে তৈরি রোধক বা রেজিস্টর ব্যবহার করা হয়। রোধের এসআই একক ওহম, যার প্রতীক ।
স্থির রোধের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- বর্তনীতে সংযোগ দেওয়ার জন্য এর দুটি প্রান্ত থাকে।
- বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন নির্দিষ্ট মান, আকার ও ধরনের রোধক তৈরি করা হয়।
- পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত অনেক রোধকের গায়ে রঙিন ব্যান্ড দিয়ে রোধের মান প্রকাশ করা হয়।
- রোধের মানের পাশাপাশি সেটি কত বৈদ্যুতিক ক্ষমতা সহ্য করতে পারে, তাও নির্দিষ্ট থাকে। ক্ষমতার এসআই একক ওয়াট।
‘স্থির’ মানে ব্যবহারকারী মানটি বদলাতে পারেন না। তবে বর্তনীর প্রবাহ প্রয়োগ করা বিভব পার্থক্যের ওপরও নির্ভর করে।
পরিবর্তনশীল রোধ
পরিবর্তনশীল রোধে দুটি স্থির প্রান্তের পাশাপাশি একটি চলমান সংযোগ থাকে। নব ঘুরিয়ে বা সংযোগটি সরিয়ে একটি স্থির প্রান্ত ও চলমান সংযোগের মধ্যকার রোধ পরিবর্তন করা যায়। তাই একই রোধক ব্যবহার করেই প্রয়োজনমতো রোধ বাড়ানো বা কমানো সম্ভব।
একটি ব্যাটারিচালিত পরীক্ষার বর্তনী কল্পনা করো। রোধের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য একই রাখলে:
- রোধ বাড়ালে বিদ্যুৎপ্রবাহ কমে।
- রোধ কমালে বিদ্যুৎপ্রবাহ বাড়ে।
এভাবেই পরিবর্তনশীল রোধ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফ্যানের রেগুলেটর আর রেডিওর ভলিউম কন্ট্রোল এর পরিচিত উদাহরণ। তবে এর মান সীমাহীনভাবে পরিবর্তন করা যায় না; রোধকটির নির্ধারিত সীমার মধ্যেই সমন্বয় করতে হয়।
মনে রাখো: স্থির রোধের মান ব্যবহারকারী বদলাতে পারেন না, কিন্তু পরিবর্তনশীল রোধের মান নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সমন্বয় করতে পারেন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।