পড়ার নোট
ওহমের সূত্র অনুযায়ী, তাপমাত্রা ও অন্যান্য ভৌত অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহমাত্রা তার দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক। অর্থাৎ একই পরিবাহীতে বিভব পার্থক্য দ্বিগুণ করলে প্রবাহমাত্রাও দ্বিগুণ হয়, যদি শর্তগুলো অপরিবর্তিত থাকে।
সম্পর্কটি হলো এবং । এখানে প্রবাহমাত্রা, এসআই একক অ্যাম্পিয়ার (A); বিভব পার্থক্য, একক ভোল্ট (V); রোধ, একক ওহম ()। রোধ হলো তড়িৎপ্রবাহে বাধার পরিমাপক রাশি। একই বিভব পার্থক্যে রোধ বেশি হলে প্রবাহ কম, রোধ কম হলে প্রবাহ বেশি হয়। কোনো পরিবাহীতে ১ ভোল্ট বিভব পার্থক্য দিলে ১ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ হলে তার রোধ ১ ওহম।
সম্পর্কটি পরীক্ষায় দেখতে একটি রোধ ও অ্যামিটারকে কোষের সঙ্গে শ্রেণিতে এবং ভোল্টমিটারকে রোধের দুই প্রান্তে সমান্তরালে যুক্ত করা যায়। কোষের সংখ্যা পরিবর্তন করে বিভিন্ন বিভব পার্থক্য প্রয়োগ করা হয়। প্রতিবার বিভব পার্থক্য ও প্রবাহমাত্রা লিখে রাখলে তাদের অনুপাত পরীক্ষা করা যায়। রোধের তাপমাত্রা যেন উল্লেখযোগ্যভাবে না বদলায়, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।
অনুভূমিক অক্ষে বিভব পার্থক্য এবং উল্লম্ব অক্ষে প্রবাহমাত্রা বসালে মূলবিন্দুগামী সরলরেখা পাওয়া যায়। এই রেখার ঢাল , যার একক । অক্ষ উল্টে উল্লম্ব অক্ষে বিভব পার্থক্য বসালে ঢাল হবে রোধ। তাই শুধু রেখা দেখে ঢালের অর্থ বলা যায় না। কোষের মেরু উল্টালে বিভব পার্থক্য ও প্রবাহের দিক দুটোই উল্টে যায়।
ধরো, বাড়িতে কোষ দিয়ে পরীক্ষার জন্য একটি রোধে ৪ ভোল্ট দিলে ০.২ অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ পাওয়া গেল।
- রোধ নির্ণয়: ।
- একই অবস্থায় ৬ ভোল্ট দিলে: ।
বিভব পার্থক্য দেড় গুণ হওয়ায় প্রবাহও দেড় গুণ হয়েছে। সাধারণ ভুল হলো গরম হয়ে রোধ বদলে গেলেও একই সমানুপাত ধরে হিসাব করা।
মনে রাখো: ওহমের সূত্রে বিভব পার্থক্য ও প্রবাহের সমানুপাত বজায় থাকে যখন তাপমাত্রাসহ ভৌত অবস্থা অপরিবর্তিত থাকে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।