offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৭ · টপিক ৬

প্রতিধ্বনির ব্যবহার

পড়ার নোট

প্রতিধ্বনির মূল নীতি: শব্দ পাঠিয়ে প্রতিফলিত শব্দ ফিরে আসার সময় মাপলে দূরত্ব জানা যায়, d=vt2d = \frac{vt}{2}। এই নীতি প্রকৃতিতে ও প্রযুক্তিতে নানাভাবে কাজে লাগে।

বাদুড়ের চলাফেরা

বাদুড়ের চোখ আছে এবং বেশ ভালো দেখে, তবু ওড়ার সময় সে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। ওড়ার সময় বাদুড় কণ্ঠ থেকে শব্দ তৈরি করে; সামনে কিছু থাকলে শব্দ প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে, আর কত সময় পর ফিরল তা থেকে বাদুড় দূরত্ব আন্দাজ করে। তাই অন্ধকারেও বাদুড় ধাক্কা না খেয়ে উড়তে পারে। বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পাঙ্কের শব্দ তৈরি করে, যা আল্ট্রাসাউন্ড; তাই আমরা শুনতে পাই না।

ত্রিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে

মাটির নিচে গ্যাস বা তেল আছে কি না দেখতে মাটির খানিকটা নিচে ছোট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের শব্দ মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরে প্রতিফলিত হয়ে উপরে ফেরে, আর জিওফোন নামের রিসিভার তা ধারণ করে। উৎস ও জিওফোনের অবস্থান জানা থাকায় শব্দ আসার সময় থেকে প্রতিটি স্তরের দূরত্ব নিখুঁতভাবে বের করা যায় এবং মাটির নিচের ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়।

আল্ট্রাসনোগ্রাফি

মায়ের গর্ভের শিশুকে বাইরে থেকে দেখার উপায় ছিল না। এখন আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে দেহের ভেতর আল্ট্রাসাউন্ড পাঠিয়ে প্রতিফলিত তরঙ্গ থেকে ভেতরের ছবি তৈরি করে তা দেখা যায়।

উদাহরণ ১: একটি বাদুড়ের পাঠানো শব্দ একটি গাছ থেকে 0.02 s পরে ফিরে এল। বাতাসে শব্দের বেগ 330 m/s হলে গাছটি কত দূরে? d=vt2=330×0.022=3.3d = \frac{vt}{2} = \frac{330 \times 0.02}{2} = 3.3 m।

উদাহরণ ২: বাদুড় যদি আল্ট্রাসাউন্ডের বদলে ইনফ্রাসাউন্ড (20 Hz এর কম) ব্যবহার করত, কী সমস্যা হতো? কম কম্পাঙ্কে তরঙ্গদৈর্ঘ্য অনেক বড়; 20 Hz এ λ=33020=16.5\lambda = \frac{330}{20} = 16.5 m, যা পোকামাকড় বা ডালের চেয়ে অনেক বড়। এত বড় তরঙ্গ ছোট বস্তু থেকে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়ে ফিরত না, তাই বাদুড় ছোট জিনিস টের পেত না। 100 kHz এ λ=330100000=0.0033\lambda = \frac{330}{100000} = 0.0033 m, যা ছোট বস্তু থেকেও প্রতিফলিত হয়।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বাদুড় অন্ধ বলে প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড় দেখতে পায়, তবু অন্ধকারে প্রতিধ্বনিই তার নির্ভরযোগ্য পথনির্দেশ।

মনে রাখো: প্রতিফলিত শব্দ ফিরে আসার সময় মেপে দূরত্ব জানা যায়; বাদুড়ের চলাফেরা, সিসমিক সার্ভেতে তেল-গ্যাস খোঁজা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি প্রতিধ্বনির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • কূপে প্রতিধ্বনি ও দূরত্বচালিয়ে দেখো

    একটি শুকনো গভীর কূপের মুখে দাঁড়িয়ে একজন শিক্ষার্থী চিৎকার করল। বাতাসের তাপমাত্রা ৩০ °C হওয়ায় শব্দের বেগ ৩৫০ m/s। কূপের তলদেশের দূরত্ব ৩৫ m হলে ০.২০ s পর প্রতিধ্বনি ফিরে আসে। তলদেশের দূরত্ব দ্বিগুণ অর্থাৎ ৭০ m হলে কত সময় পর প্রতিধ্বনি শোনা যাবে?

  • আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে প্রতিধ্বনি ও অঙ্গের গভীরতাচালিয়ে দেখো

    একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হচ্ছে। মানবদেহের নরম কলায় (টিস্যু) আল্ট্রাসাউন্ডের বেগ ১৫৪০ m/s। ত্বকের পৃষ্ঠ থেকে ০.০৭৭ m (৭.৭ cm) গভীরে থাকা একটি অঙ্গ থেকে প্রতিধ্বনি ১×১০⁻⁴ s পর ফিরে আসে। ডাক্তার যদি আরও গভীরে থাকা ০.১৫৪ m (১৫.৪ cm) দূরত্বের একটি অঙ্গ পর্যবেক্ষণ করেন, তবে প্রতিধ্বনি ফিরে আসতে কেমন সময় লাগবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বাদুড় চোখে ভালো দেখতে পায় না, তবুও রাতের অন্ধকারে গাছের ডালপালা বা কোনো বাধার সাথে ধাক্কা না খেয়ে কীভাবে নির্ভুলভাবে চলাচল ও শিকার করে — পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    বাদুড় উড়ে চলার সময় মুখ বা নাক দিয়ে ক্রমাগত উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর (ultrasound) তরঙ্গ নির্গত করে চারদিকে পাঠায়। এই শব্দ সামনে থাকা কোনো বাধা বা শিকারে প্রতিফলিত হয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে এলে বাদুড়ের সংবেদনশীল কান তা গ্রহণ করে। শব্দ নির্গমন ও প্রতিধ্বনি প্রাপ্তির সময়ের ব্যবধান বিশ্লেষণ করে বাদুড় বাধার দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করে এবং অন্ধকারেও নির্ভুলভাবে গতিপথ পরিবর্তন করে চলাচল করে।

    1. বাদুড় ২০,০০০ Hz-এর চেয়ে বেশি কম্পাঙ্কের শব্দোত্তর (ultrasound) তরঙ্গ তৈরি করতে ও শুনতে পারে।
    2. সামনে থাকা কোনো বাধা থেকে এই শব্দ প্রতিফলিত হয়ে প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে।
    d=vt2d = \frac{vt}{2}
    1. প্রতিধ্বনি শোনার সময়ের ব্যবধান t হিসাব করে বাদুড় মস্তিষ্কে বাধার দূরত্ব d ও অবস্থান নির্ণয় করে নিরাপদে গতিপথ পরিবর্তন করে।
  2. রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সোনোগ্রাফি বিভাগে একজন রোগীর পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হচ্ছে। আল্ট্রাসাউন্ড ট্রান্সডিউসার (transducer) থেকে রোগীর পেটের ত্বকে প্রবেশ করানো শব্দোত্তর তরঙ্গ পিত্তথলির (gallbladder) একটি পাথর থেকে প্রতিফলিত হয়ে ১.০ × ১০⁻⁴ s পর প্রতিধ্বনি হিসেবে ফিরে আসে। মানবদেহের নরম কলায় আল্ট্রাসাউন্ডের বেগ ১৫৪০ m/s হলে, ত্বকের পৃষ্ঠ থেকে পিত্তথলির পাথরটির গভীরতা কত মিটার (m)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.০৭৭ m

    1. প্রতিধ্বনি শোনার ক্ষেত্রে শব্দের অতিক্রান্ত দূরত্ব ২d = vt, যেখানে d হলো প্রতিফলক অঙ্গের গভীরতা, v হলো কলায় শব্দের বেগ এবং t হলো প্রতিধ্বনির সময়।
    2d=vt  ⟹  d=vt22d = vt \implies d = \frac{vt}{2}
    1. এখানে v = ১৫৪০ m/s এবং t = ১.০ × ১০⁻⁴ s বসিয়ে পাই, d = (১৫৪০ × ১.০ × ১০⁻⁴) / ২ = ০.১৫৪ / ২ = ০.০৭৭ m।
    d=1540×1.0×10−42=0.077 md = \frac{1540 \times 1.0 \times 10^{-4}}{2} = 0.077\text{ m}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো