পড়ার নোট
গলন হলো তাপ গ্রহণ করে কঠিন পদার্থের তরলে পরিণত হওয়া। বাষ্পীভবন হলো তাপ গ্রহণ করে তরল পদার্থের গ্যাস বা বাষ্পে পরিণত হওয়া। ঘনীভবন হলো তাপ বর্জন করে গ্যাস বা বাষ্পের তরলে পরিণত হওয়া। বরফ গলে পানি হওয়া, পানি থেকে জলীয় বাষ্প হওয়া এবং সেই বাষ্প থেকে আবার পানির ফোঁটা তৈরি হওয়া এই তিন প্রক্রিয়ার পরিচিত উদাহরণ।
বরফ থেকে পানি ও বাষ্প তৈরি হওয়ার ঘটনাটি ধাপে ধাপে বোঝা যায়:
- বরফে তাপ দিলে অণুগুলোর কম্পন বাড়ে। নির্দিষ্ট চাপে গলনাঙ্কে পৌঁছালে বরফ গলতে শুরু করে। তখন গৃহীত তাপ আন্তঃআণবিক বন্ধন শিথিল করতে কাজে লাগে। অণুগুলো আগের নির্দিষ্ট অবস্থান ছেড়ে পরস্পরের পাশ দিয়ে চলতে পারে।
- গলন চলার সময় তাপ দিলেও বরফ-পানির মিশ্রণের তাপমাত্রা বাড়ে না। পুরো বরফ গলে গেলে আরও তাপ দিলে পানির তাপমাত্রা বাড়ে।
- পানি স্ফুটনাঙ্কে পৌঁছে ফুটতে থাকলে অণুগুলো তাপ গ্রহণ করে পারস্পরিক আকর্ষণ কাটিয়ে বাষ্পে পরিণত হয়। নির্দিষ্ট চাপে ফোটার সময়ও পুরো পানি বাষ্প না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকে। তবে বাষ্প তৈরির জন্য সব সময় ফোটানো দরকার হয় না; ভেজা কাপড়ের পানি না ফুটেও শুকায়।
বাষ্পীভবন ও ঘনীভবনের পার্থক্য মনে রাখতে পরিবর্তনের দিক ও তাপের আদান-প্রদান দেখো:
| বিষয় | বাষ্পীভবন | ঘনীভবন |
|---|---|---|
| অবস্থার পরিবর্তন | তরল থেকে বাষ্প | বাষ্প থেকে তরল |
| তাপের আদান-প্রদান | তাপ গ্রহণ করে | তাপ বর্জন করে |
ঠান্ডা পানির গ্লাসের বাইরের গায়ে বাতাসের জলীয় বাষ্প তাপ হারিয়ে পানির ফোঁটা তৈরি করে। এটি ঘনীভবন; গ্লাসের ভেতরের পানি বাইরে চুইয়ে আসা নয়। অন্যদিকে, কঠিনীভবন হলো তাপ বর্জন করে তরলের কঠিন হওয়া, যেমন ফ্রিজে পানি জমে বরফ হওয়া। এটি গলনের বিপরীত প্রক্রিয়া।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ওপরে উঠে ঘনীভূত হলে আগে শোষিত সুপ্ততাপ মুক্ত হয়। এই শক্তি ঘূর্ণিঝড়ের প্রচণ্ড শক্তি জোগাতে ভূমিকা রাখে।
মনে রাখো: গলন ও বাষ্পীভবনে পদার্থ তাপ গ্রহণ করে, আর ঘনীভবনে তাপ বর্জন করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।