পড়ার নোট
তাপমাত্রার স্কেল হলো তাপমাত্রাকে সংখ্যায় প্রকাশের ব্যবস্থা। সেলসিয়াস, ফারেনহাইট ও কেলভিন একই তাপমাত্রাকে ভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশ করে। স্কেল তুলনা করতে স্থির বিন্দুর মধ্যবর্তী ব্যবধান কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তা বুঝতে হয়।
স্বাভাবিক চাপে বরফের গলনাঙ্ক ও পানির স্ফুটনাঙ্ক যথাক্রমে সেলসিয়াসে ও , ফারেনহাইটে ও এবং কেলভিনে ও । প্রথম ও তৃতীয় স্কেলে এই ব্যবধান ১০০ ভাগ, দ্বিতীয়টিতে ১৮০ ভাগ। তাই একই তাপমাত্রার বৃদ্ধি তিন স্কেলে একই সংখ্যায় প্রকাশিত হয় না।
একই তাপমাত্রার পাঠগুলোর সম্পর্ক:
।
এখানে , ও যথাক্রমে সেলসিয়াস, কেলভিন ও ফারেনহাইট পাঠ; তাদের একক যথাক্রমে , ও । তাপমাত্রার SI একক কেলভিন। সম্পর্কটি থেকে এবং পাওয়া যায়। এসব সম্পর্কে নির্দিষ্ট এককে পাঠের সংখ্যামান বসাতে হয়।
পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো সর্বনিম্ন সম্ভাব্য তাপমাত্রা, বা । এর কাছাকাছি যাওয়া যায়, কিন্তু ঠিক এই তাপমাত্রায় পৌঁছানো যায় না। কেলভিন স্কেলের স্থির বিন্দুর আলোচনায় পানির ত্রৈধ বিন্দু গুরুত্বপূর্ণ: নির্দিষ্ট চাপে বরফ, পানি ও জলীয় বাষ্প একসঙ্গে থাকে। এর তাপমাত্রা বা ।
উদাহরণ: ঢাকার একটি ঘরের তাপমাত্রা ধরা যাক।
- প্রথমে ফারেনহাইট পাঠ থেকে ৩২ বিয়োগ করি: ।
- সেলসিয়াস পাঠ ; অর্থাৎ ।
- কেলভিন পাঠ ; অর্থাৎ ।
সাধারণ ভুল হলো তাপমাত্রার পার্থক্যের সঙ্গেও ২৭৩.১৫ যোগ করা। সেলসিয়াসে ১০ ডিগ্রি বৃদ্ধি কেলভিনেও ১০ কেলভিন বৃদ্ধি; শুধু তাপমাত্রার পাঠ রূপান্তরে ওই সংখ্যা যোগ হয়। কেলভিনের সঙ্গে ডিগ্রি চিহ্ন লেখা হয় না।
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইটের পাঠ -এ সমান হয়। সেলসিয়াস ও কেলভিনের পাঠ কখনো সমান হয় না, কারণ তাদের ব্যবধান স্থির।
মনে রাখো: স্কেল বদলালে তাপমাত্রা বদলায় না; পাঠ রূপান্তরে শূন্যবিন্দু ও ভাগের আকার দুটিই বিবেচনা করতে হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।