পড়ার নোট
আমাদের চারপাশে নানা রকম বল দেখি: ধাক্কা, ট্রাকের টান, ঝড়ের ধাক্কা, চুম্বকের আকর্ষণ, বোমার বিস্ফোরণ, ক্রেনের টান। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রকৃতিতে মৌলিক বল মাত্র চারটি; বাকি সব এদেরই রূপ।
১. মহাকর্ষ বল
ভরের কারণে মহাবিশ্বের সব বস্তু একে অপরকে যে বলে আকর্ষণ করে, তা মহাকর্ষ বল। এর কারণে গ্যালাক্সিতে নক্ষত্র ঘোরে, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী আর পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। পৃথিবীর মহাকর্ষ যখন আমাদের উপর কাজ করে, তাকে মাধ্যাকর্ষণ বলে; এটি আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে টানে এবং এ কারণেই ওজন অনুভব করি। এর পাল্লা অসীম, কিন্তু চারটির মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্বল।
২. তড়িৎ চৌম্বক বল
চুল আঁচড়ানো চিরুনি কাগজ টানে, চুম্বক চুম্বককে আকর্ষণ-বিকর্ষণ করে; তড়িৎ ও চুম্বকের বল আলাদা মনে হলেও আসলে একই বল। এটি মহাকর্ষের চেয়ে প্রায় গুণ শক্তিশালী। চিরুনির সামান্য আধান পুরো পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণকে হারিয়ে কাগজ তুলে নেয়। এর পাল্লাও অসীম।
৩. দুর্বল নিউক্লীয় বল
তড়িৎ চৌম্বক বলের চেয়ে প্রায় ট্রিলিয়ন গুণ দুর্বল, কিন্তু মহাকর্ষের মতো দুর্বল নয়। এটি খুবই অল্প দূরত্বে ( m) কাজ করে। তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বিটা () রশ্মি বা ইলেকট্রন বের হওয়ার কারণ এই বল।
৪. সবল নিউক্লীয় বল
সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বল, তড়িৎ চৌম্বক বলের চেয়েও প্রায় একশ গুণ শক্তিশালী, কিন্তু খুব অল্প দূরত্বে ( m) কাজ করে। নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রনকে এটি একসাথে আটকে রাখে। এ কারণে নিউক্লিয়াসে অনেক শক্তি জমা থাকে; বড় নিউক্লিয়াস ভেঙে বা ছোট নিউক্লিয়াস জোড়া দিয়ে সেই শক্তি পাওয়া যায়।
| বল | আপেক্ষিক শক্তি | পাল্লা |
|---|---|---|
| সবল নিউক্লীয় | সবচেয়ে বেশি | m |
| তড়িৎ চৌম্বক | মহাকর্ষের গুণ | অসীম |
| দুর্বল নিউক্লীয় | তড়িৎ চৌম্বকের প্রায় ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগ | m |
| মহাকর্ষ | সবচেয়ে কম | অসীম |
তড়িৎ চৌম্বক ও দুর্বল নিউক্লীয় বলকে ইতিমধ্যে একই সূত্রে ব্যাখ্যা করা গেছে, তাই একে ইলেকট্রো-উইক বল বলা যায়।
উদাহরণ: ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ার বল কোন মৌলিক বল? বাতাসের অণু গাছের পাতা ও ডালে ধাক্কা দেয়; অণুগুলোর এই ধাক্কা আসলে অণুর ইলেকট্রনের মধ্যে বিকর্ষণ, অর্থাৎ তড়িৎ চৌম্বক বল।
মনে রাখো: মৌলিক বল চারটি: মহাকর্ষ, তড়িৎ চৌম্বক, দুর্বল নিউক্লীয় ও সবল নিউক্লীয় বল; মহাকর্ষ ও তড়িৎ চৌম্বক বলের পাল্লা অসীম, আর নিউক্লীয় বল দুটি খুব অল্প দূরত্বে কাজ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।