পড়ার নোট
ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায়, তাকে রাশি বলে: দৈর্ঘ্য, ভর, তাপমাত্রা, বেগ, ঘনত্ব, চাপ, গলনাঙ্ক, এমন অসংখ্য রাশি। অবাক করার মতো বিষয় হলো, মাত্র সাতটি রাশির সাতটি একক ঠিক করে নিলে সেগুলো দিয়ে অন্য সব রাশির একক বের করা যায়।
মৌলিক রাশি: যে সাতটি রাশি অন্য রাশির ওপর নির্ভর করে না: দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, বৈদ্যুতিক প্রবাহ, তাপমাত্রা, পদার্থের পরিমাণ ও দীপন তীব্রতা। এদের একককে মৌলিক একক বলে: মিটার (m), কিলোগ্রাম (kg), সেকেন্ড (s), অ্যাম্পিয়ার (A), কেলভিন (K), মোল (mol) ও ক্যান্ডেলা (cd)।
লব্ধ রাশি: মৌলিক রাশি ব্যবহার করে যে রাশি প্রকাশ করা হয়, তাকে লব্ধ রাশি বলে; এর একক লব্ধ একক, যা মৌলিক একক গুণ বা ভাগ করে পাওয়া যায়।
| লব্ধ রাশি | সম্পর্ক | SI একক |
|---|---|---|
| ক্ষেত্রফল | দৈর্ঘ্য প্রস্থ | m |
| আয়তন | দৈর্ঘ্য প্রস্থ উচ্চতা | m |
| বেগ | সরণ সময় | m s |
| ত্বরণ | বেগের পরিবর্তন সময় | m s |
| ঘনত্ব | ভর আয়তন | kg m |
| বল | ভর ত্বরণ | kg m s বা N |
উদাহরণ: একটি ধাতব ব্লকের ভর kg এবং আয়তন m। ঘনত্ব kg m। এখানে ঘনত্ব, ভর (kg) এবং আয়তন (m)। লক্ষ করো, উত্তরের এককও মৌলিক একক kg ও m দিয়ে তৈরি।
বলের একক নিউটন (N) আলাদা নাম পেলেও আসলে এটি মৌলিক এককের সমন্বয়: N kg m s।
সাধারণ ভুল হলো ক্ষেত্রফল বা বেগকে মৌলিক রাশি ভাবা, কারণ এগুলো খুব পরিচিত। কোনো রাশি অন্য রাশির গুণ বা ভাগ দিয়ে লেখা গেলে সেটি লব্ধ রাশি।
মনে রাখো: মৌলিক রাশি সাতটি এবং এদের একক থেকেই সব লব্ধ রাশির একক তৈরি হয়; লব্ধ একক পাওয়া যায় মৌলিক একক গুণ বা ভাগ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।