পড়ার নোট
সমাজ বা আইনবিরোধী কাজ অপরাধ। এই কাজ অনলাইনে বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে করা হলে তাকে সাইবার অপরাধ বলে। এতে কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহার হয়, আবার কখনো ডিভাইস বা নেটওয়ার্কই আক্রমণের লক্ষ্য হয়।
- হ্যাকিং (Hacking): অনুমতি ছাড়া কোনো ওয়েবসাইট বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। যিনি এটা করেন তিনি হ্যাকার। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের সিস্টেম পরীক্ষার জন্য হ্যাকার নিয়োগ দেয়, এরা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার, ক্ষতি করে না। যারা অবৈধভাবে ডেটা চুরি বা নষ্ট করে, তারা ক্রেকার বা ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকার।
- ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack): চোর যেমন অনেক চাবি দিয়ে তালা খোলার চেষ্টা করে, তেমনি সফটওয়্যার দিয়ে সম্ভাব্য সব পাসওয়ার্ড একে একে চেষ্টা করা। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড থাকলে এটা সফল হওয়া কঠিন।
- ডেটা ইন্টারসেপশন (Data Interception): প্রেরক ও প্রাপকের মাঝপথে কেউ তথ্য আড়ি পেতে চুরি করা। এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন (Encryption) থাকলে মাঝের লোক তথ্য পড়তে বা বুঝতে পারে না।
- ডি ডস আক্রমণ (DDoS): একসঙ্গে অনেক ডিভাইস দিয়ে একটি ওয়েবসাইটে প্রচুর ট্রাফিক পাঠিয়ে সেটি ধীর বা অচল করে দেওয়া, যাতে প্রকৃত ব্যবহারকারী ঢুকতে না পারে।
- ম্যালওয়্যার (Malware): ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতি করার জন্য বানানো সফটওয়্যার। যেমন ভাইরাস, ওয়ার্ম, ট্রোজান হর্স, স্পাইওয়্যার, র্যানসমওয়্যার ও অ্যাডওয়্যার। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে বলে সফটওয়্যার বাগ, ম্যালওয়্যার নয়।
- সাইবার বুলিং (Cyber bullying): অনলাইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ও বারবার কাউকে অপমান, গুজব বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে মানসিক ক্ষতি করা। এতে হীনম্মন্যতা, হতাশা ও আতঙ্ক হয়।
- ফেইক নিউজ (Fake News): মানুষকে ঠকাতে বা মত প্রভাবিত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর খবর। "কান নিয়ে গেছে" শুনে চিলের পেছনে না ছুটে আগে কান দেখার মতো, কোনো খবর যাচাই করে বিশ্বাস করতে হবে। তথ্য ও প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী সাইবার বুলিং ও ফেইক নিউজ ছড়ালে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
আক্রান্ত হলে করণীয়
- জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা
- বাবা-মা বা পরিবারকে জানানো, অপরিচিতের সঙ্গে প্রকাশ না করা
- নিকটস্থ থানায় জিডি করা (অনলাইনেও করা যায়)
- অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করা
মনে রাখো: সাইবার আক্রমণের শিকার হলে চুপ না থেকে প্রমাণ রেখে দ্রুত পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।