offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ২ · টপিক ৪

তথ্যের নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকি

পড়ার নোট

আজকের দিনে তথ্য মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি। প্রবেশাধিকার বিবেচনায় তথ্য দুই ধরনের।

  • উন্মুক্ত তথ্য: সবার জন্য খোলা, কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যে কেউ শেয়ার করতে পারে। যেমন সংবাদ, প্রবন্ধ, প্রতিষ্ঠানের প্রেস রিলিজ। এর জন্য জটিল নিরাপত্তা লাগে না।
  • গোপনীয় তথ্য: শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেখতে পারে এবং আইনি বাধ্যবাধকতায় সুরক্ষিত। যেমন বাণিজ্যিক চুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসওয়ার্ড। অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে আইনি জটিলতা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে নানা প্রয়োজনে আমরা ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করি। ডিজিটাল প্রযুক্তি হলো এমন ইলেকট্রনিক যন্ত্র, ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম, যা বাইনারি আকারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও প্রেরণ করে। বিকাশে টাকা পাঠানো, অনলাইনে ফলাফল দেখা, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে আবেদন করা সবই এর উদাহরণ।

কিন্তু এর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সাইবার অপরাধের ঝুঁকিতে পড়ে এবং তথ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সাইবার জগৎ হলো একটি ডিজিটাল স্থান, যেখানে মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ও তথ্য পায়। এটি বাইরের জগতের সমান্তরাল একটি জগৎ, যা ইন্টারনেট, ডেটা ও কোড দিয়ে গঠিত এবং ক্রমাগত বাড়ছে।

তাই তথ্য কতটা গোপনীয়, তা বুঝে সেই অনুযায়ী সুরক্ষা নেওয়া দরকার।

একটি অনুশীলন: নিচের তথ্যগুলো কোন ধরনের, তা ভেবে দেখো। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর ও কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রেস রিলিজ উন্মুক্ত তথ্য। অন্যদিকে তোমার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন কোড, ই-মেইলের পাসওয়ার্ড এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গোপনীয়। গোপনীয় তথ্য শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনে শেয়ার করা যায়; অনুমতি ছাড়া তা প্রকাশ করা যাবে না।

সাধারণ ভুল হলো পরিচিত বা বিশ্বস্ত মনে হওয়া কারও ফোন বা বার্তা পেয়ে পিন কোড বা পাসওয়ার্ড বলে দেওয়া। কেউ নিজের যে পরিচয়ই দিক, পিন বা পাসওয়ার্ড কাউকে জানানো যাবে না; একবার প্রকাশ হলে আর্থিক ক্ষতি ও তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়।

মনে রাখো: উন্মুক্ত তথ্য সবার জন্য, কিন্তু গোপনীয় তথ্য, যেমন পাসওয়ার্ড ও পরিচয়পত্রের তথ্য, নিরাপদে রাখা আমাদের দায়িত্ব।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • পাসওয়ার্ডের শক্তিমত্তা: দৈর্ঘ্য বনাম বিশেষ চিহ্নচালিয়ে দেখো

    আদনান তার কম্পিউটারের জন্য কেবল ছোট হাতের ইংরেজি বর্ণ (a–z, মোট ২৬টি বর্ণ) দিয়ে ৮ অক্ষরের একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করল। একজন আক্রমণকারী শক্তিশালী জিপিইউ (GPU) ব্যবহার করে প্রতি সেকেন্ডে ১০০০ কোটি (১০¹⁰) বার পাসওয়ার্ড অনুমান করার চেষ্টা করছে, যার ফলে এই পাসওয়ার্ডটি ভাঙতে গড়ে মাত্র ১০.৪ সেকেন্ড লাগে। আদনান পাসওয়ার্ডটি আরও শক্তিশালী করতে চায়। সে ভাবছে: ৮ অক্ষরের পাসওয়ার্ডেই ৩২টি বিশেষ চিহ্ন যোগ করবে নাকি কোনো চিহ্ন না রেখে কেবল ছোট হাতের বর্ণ দিয়েই দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ১২ অক্ষর করবে? কোনটি পাসওয়ার্ডকে বহুগুণ বেশি সুরক্ষিত করবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. উক্ত অপরিচিত ব্যক্তি অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে কী ঘটবে?

    1. ক

      পাসওয়ার্ড সঠিক হওয়ায় কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারবে

    2. খ

      সাদিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ডিলিট হয়ে যাবে

    3. গ

      অপরিচিত ব্যক্তির ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে পড়বে

    4. ঘ

      সাদিয়ার নিবন্ধিত মোবাইল ফোনে পাঠানো ওটিপি (OTP) কোড ছাড়া প্রবেশ করতে পারবে না

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) সাদিয়ার নিবন্ধিত মোবাইল ফোনে পাঠানো ওটিপি (OTP) কোড ছাড়া প্রবেশ করতে পারবে না

    1. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) একটি দ্বি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে সঠিক পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরও নিবন্ধিত ফোনে আসা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) প্রয়োজন হয়।
    2. অতএব অপরিচিত ব্যক্তি পাসওয়ার্ড জেনে ফেললেও সাদিয়ার মোবাইলে আসা ওটিপি ছাড়া অ্যাকাউন্টে লগইন করতে পারবে না।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো