পড়ার নোট
আজকের দিনে তথ্য মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি। প্রবেশাধিকার বিবেচনায় তথ্য দুই ধরনের।
- উন্মুক্ত তথ্য: সবার জন্য খোলা, কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই যে কেউ শেয়ার করতে পারে। যেমন সংবাদ, প্রবন্ধ, প্রতিষ্ঠানের প্রেস রিলিজ। এর জন্য জটিল নিরাপত্তা লাগে না।
- গোপনীয় তথ্য: শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেখতে পারে এবং আইনি বাধ্যবাধকতায় সুরক্ষিত। যেমন বাণিজ্যিক চুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসওয়ার্ড। অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করলে আইনি জটিলতা বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে নানা প্রয়োজনে আমরা ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করি। ডিজিটাল প্রযুক্তি হলো এমন ইলেকট্রনিক যন্ত্র, ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম, যা বাইনারি আকারে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও প্রেরণ করে। বিকাশে টাকা পাঠানো, অনলাইনে ফলাফল দেখা, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে আবেদন করা সবই এর উদাহরণ।
কিন্তু এর বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সাইবার অপরাধের ঝুঁকিতে পড়ে এবং তথ্যের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। সাইবার জগৎ হলো একটি ডিজিটাল স্থান, যেখানে মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ও তথ্য পায়। এটি বাইরের জগতের সমান্তরাল একটি জগৎ, যা ইন্টারনেট, ডেটা ও কোড দিয়ে গঠিত এবং ক্রমাগত বাড়ছে।
তাই তথ্য কতটা গোপনীয়, তা বুঝে সেই অনুযায়ী সুরক্ষা নেওয়া দরকার।
একটি অনুশীলন: নিচের তথ্যগুলো কোন ধরনের, তা ভেবে দেখো। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর ও কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রেস রিলিজ উন্মুক্ত তথ্য। অন্যদিকে তোমার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন কোড, ই-মেইলের পাসওয়ার্ড এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গোপনীয়। গোপনীয় তথ্য শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনে শেয়ার করা যায়; অনুমতি ছাড়া তা প্রকাশ করা যাবে না।
সাধারণ ভুল হলো পরিচিত বা বিশ্বস্ত মনে হওয়া কারও ফোন বা বার্তা পেয়ে পিন কোড বা পাসওয়ার্ড বলে দেওয়া। কেউ নিজের যে পরিচয়ই দিক, পিন বা পাসওয়ার্ড কাউকে জানানো যাবে না; একবার প্রকাশ হলে আর্থিক ক্ষতি ও তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি হয়।
মনে রাখো: উন্মুক্ত তথ্য সবার জন্য, কিন্তু গোপনীয় তথ্য, যেমন পাসওয়ার্ড ও পরিচয়পত্রের তথ্য, নিরাপদে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।