পড়ার নোট
তথ্য এখন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি। তথ্য দুই রকম: উন্মুক্ত তথ্য, যা সবার জন্য খোলা, যেমন সংবাদ; আর গোপনীয় তথ্য, যা অনুমোদিত ব্যক্তির জন্য সীমিত, যেমন বাণিজ্যিক চুক্তি, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও পাসওয়ার্ড।
তথ্য অধিকার। তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তথ্য অধিকার (right to information) আইন প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা এবং তথ্য প্রাপ্তির অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত; জনগণই প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক। এই অধিকার নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ চালু হয়েছে।
এই আইনের ফলে:
- প্রত্যেক নাগরিক কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইতে পারেন এবং কর্তৃপক্ষ তা দিতে বাধ্য
- সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি বা বিদেশি অর্থে চলা বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে
- দুর্নীতি কমে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
- প্রতিষ্ঠানকে তথ্য সংরক্ষণ করতে হয়
নিরাপত্তাও কেন দরকার। সব তথ্য প্রকাশ করা যায় না। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা ন্যায্যতার সঙ্গে জড়িত কিছু তথ্য গোপন রাখতে হয়। যেমন:
- পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র চাওয়া যায় না, নইলে পুরো পরীক্ষা পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ হবে
- কোনো প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত, কারিগরি বা বৈজ্ঞানিক তথ্য ফাঁস হলে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে
- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, ঐক্য ও সার্বভৌমত্বে হুমকি হতে পারে এমন তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়
এসব তথ্য গোপন রাখা আইন ভঙ্গ নয়। ইন্টারনেটেও তথ্য অবাধে প্রবাহিত হয়, কিন্তু ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্যকে সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা করতে হয়।
মনে রাখো: নাগরিকের তথ্য পাওয়ার আইনি অধিকার আছে, তবে রাষ্ট্র, পরীক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার জন্য কিছু তথ্য গোপন থাকে; স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা একসঙ্গে চলে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।