পড়ার নোট
লেখক, শিল্পীসহ সৃজনশীল কর্মীদের নিজেদের সৃষ্টিকর্মের ওপর অধিকার দেওয়াই কপিরাইট আইন-এর লক্ষ্য; এই অধিকার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। মুদ্রিত বই নকল করা ঝামেলাপূর্ণ ও ব্যয়বহুল, কিন্তু কম্পিউটারে যেকোনো কিছুর হুবহু কপি করা খুব সহজ, বিশেষজ্ঞ হওয়াও লাগে না। তাই সফটওয়্যার, ছবি ও অ্যানিমেশনের কপিরাইট সুরক্ষায় বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হয়। কপিরাইট হোল্ডারের আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তাকে পাইরেসি বা সফটওয়্যার পাইরেসি বলে।
কপিরাইট আইনের আওতায় উদ্যোক্তা, লেখক বা প্রোগ্রামার তাঁদের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করতে পারেন। তাই মালিকের অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যারের প্রতিলিপি করা বা পরিমার্জন করে নতুন কিছু বানানো অবৈধ। এই ধরনের কপির আইনগত ভিত্তি থাকে না। যেমন টাকা দিয়ে কেনার সফটওয়্যারের ক্র্যাক করা কপি ব্যবহার, বা পেইড অ্যাপ ও সিনেমা বিনা অনুমতিতে ছড়িয়ে দেওয়া।
পাইরেসি সহজ হলেও সবাই করে না। বড়ো সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো মেধাস্বত্ব রক্ষা ও বিশ্বব্যাপী পাইরেসি নজরদারির জন্য BSA (Business Software Alliance) গড়েছে। সংস্থাটির ২০১১ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্সোনাল কম্পিউটারের ১০ জন ব্যবহারকারীর মধ্যে ৪ জন পাইরেসিমুক্ত; তবে সঠিক হিসাব করা কঠিন। বাংলাদেশেও সফটওয়্যার পাইরেসি নিষিদ্ধ।
কপিরাইট আইনের প্রয়োজনীয়তা।
- কবি, সাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, ওয়েবসাইট ডিজাইনার ও প্রোগ্রামাররা পরিশ্রম, মেধা ও অর্থ বিনিয়োগ করেন।
- বিক্রি বা বিনিময়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুফল পাওয়ার অধিকার তাঁদের আছে; বাণিজ্যিক মূল্য সৃষ্টিকারীরই প্রাপ্য।
- অর্থ না পেলে সৃজনশীল মানুষ নিরুৎসাহিত হন।
- আইন তাঁদের বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং আরও ভালো সৃষ্টিতে উৎসাহ দেয়।
মনে রাখো: মালিকের অনুমতি ছাড়া সফটওয়্যার কপি বা পরিবর্তন করা পাইরেসি, আর কপিরাইট আইন স্রষ্টার অধিকার ও আয় রক্ষা করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।