পড়ার নোট
আসক্ত হয়ে পড়ার পর মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করার চেয়ে আসক্ত না হওয়াই অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান।
গেমের ক্ষেত্রে:
- আসক্তি জন্মেছে এটা আগে নিজের কাছে স্বীকার করতে হবে।
- জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকা করো: লেখাপড়া, হোমওয়ার্ক, মাঠে খেলাধুলা, extra curricular activities, পরিবারের সঙ্গে সময়, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ। আরেকটি তালিকায় নিজের সমস্যাগুলো লেখো এবং কোনটি গেমের কারণে হয়েছে তা চিহ্নিত করো।
- আগে ওই সব কাজে সময় ভাগ করে দাও। এরপর সময় পেলে তবেই গেম খেলো।
- ধীরে ধীরে গেমের সময় কমিয়ে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকো।
সামাজিক যোগাযোগ সাইটের ক্ষেত্রে:
- নিজেকে বোঝাও যে অতিরিক্ত সময় দেওয়া এক ধরনের আসক্তি।
- প্রতিবার সাইটে ঢোকার ইচ্ছা হলে নিজেকে জিজ্ঞেস করো সত্যি দরকার আছে কিনা; না থাকলে নিবৃত্ত করো।
- প্রতিদিন, সপ্তাহে ও মাসে কত সময় গেল তার হিসাব রাখো, তারপর ভাবো ওই সময়ে কী সৃজনশীল কাজ করা যেত।
- যোগাযোগের প্রয়োজন নেই এমন মানুষকে কাটছাঁট করে অপরিচিত বন্ধুর সংখ্যা কমাও।
- জরুরি কাজ শেষ করার পর সময় থাকলেই কেবল সাইটে ঢোকো।
- পরীক্ষা বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের সময় সাইট deactivate করে রাখো।
সহায়ক অভ্যাস: মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা, বই পড়া, স্কুলের ক্লাবে যোগ দেওয়া, সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। অভিভাবক ও শিক্ষকরা সন্তানের স্ক্রিনে সময়ের দিকে নজর রাখবেন, বন্ধুরাও লক্ষণ দেখলে সাহায্য করতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে কমিয়ে একসময় পুরোপুরি মুক্ত হওয়া যায়।
মনে রাখো: স্ক্রিন সময়ের হিসাব রাখো, লেখাপড়া, খেলাধুলা ও পরিবারকে আগে রাখো এবং ধাপে ধাপে কমিয়ে আসক্তি থেকে মুক্ত থাকো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।