offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ২ · টপিক ৯

আসক্তি থেকে মুক্তি

পড়ার নোট

আসক্ত হয়ে পড়ার পর মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করার চেয়ে আসক্ত না হওয়াই অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান।

গেমের ক্ষেত্রে:

  • আসক্তি জন্মেছে এটা আগে নিজের কাছে স্বীকার করতে হবে।
  • জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকা করো: লেখাপড়া, হোমওয়ার্ক, মাঠে খেলাধুলা, extra curricular activities, পরিবারের সঙ্গে সময়, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ। আরেকটি তালিকায় নিজের সমস্যাগুলো লেখো এবং কোনটি গেমের কারণে হয়েছে তা চিহ্নিত করো।
  • আগে ওই সব কাজে সময় ভাগ করে দাও। এরপর সময় পেলে তবেই গেম খেলো।
  • ধীরে ধীরে গেমের সময় কমিয়ে সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকো।

সামাজিক যোগাযোগ সাইটের ক্ষেত্রে:

  • নিজেকে বোঝাও যে অতিরিক্ত সময় দেওয়া এক ধরনের আসক্তি।
  • প্রতিবার সাইটে ঢোকার ইচ্ছা হলে নিজেকে জিজ্ঞেস করো সত্যি দরকার আছে কিনা; না থাকলে নিবৃত্ত করো।
  • প্রতিদিন, সপ্তাহে ও মাসে কত সময় গেল তার হিসাব রাখো, তারপর ভাবো ওই সময়ে কী সৃজনশীল কাজ করা যেত।
  • যোগাযোগের প্রয়োজন নেই এমন মানুষকে কাটছাঁট করে অপরিচিত বন্ধুর সংখ্যা কমাও।
  • জরুরি কাজ শেষ করার পর সময় থাকলেই কেবল সাইটে ঢোকো।
  • পরীক্ষা বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের সময় সাইট deactivate করে রাখো।

সহায়ক অভ্যাস: মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা, বই পড়া, স্কুলের ক্লাবে যোগ দেওয়া, সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। অভিভাবক ও শিক্ষকরা সন্তানের স্ক্রিনে সময়ের দিকে নজর রাখবেন, বন্ধুরাও লক্ষণ দেখলে সাহায্য করতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে কমিয়ে একসময় পুরোপুরি মুক্ত হওয়া যায়।

মনে রাখো: স্ক্রিন সময়ের হিসাব রাখো, লেখাপড়া, খেলাধুলা ও পরিবারকে আগে রাখো এবং ধাপে ধাপে কমিয়ে আসক্তি থেকে মুক্ত থাকো।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে আসক্তি বলতে কী বোঝায় এবং এ আসক্তি থেকে মুক্ত থাকতে একজন শিক্ষার্থীর করণীয় দুটি মূল উপায় পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বা ইন্টারনেট কার্যক্রমে (যেমন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন গেম) তীব্র মানসিক নির্ভরতা তৈরি হওয়া এবং এর ফলে স্বাভাবিক পড়াশোনা, ঘুম ও দৈনন্দিন দায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে আসক্তি বলে। এ আসক্তি থেকে মুক্ত হতে প্রথমত কম্পিউটারে কাটানো দৈনন্দিন সময় (স্ক্রিন টাইম) সুনির্দিষ্ট করে তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং দ্বিতীয়ত ভার্চুয়াল জগতের বাইরে খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ ও পরিবার-বন্ধুদের সাথে বাস্তব সামাজিক মেলামেশা বৃদ্ধি করতে হবে।

    1. পাঠ্যপুস্তক অনুসারে অতিরিক্ত সময় কম্পিউটার ব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়ার অবস্থাই হলো আসক্তি, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।
    2. দৈনন্দিন কাজের সুষম রুটিন তৈরি, কম্পিউটার ব্যবহারের সময় নির্দিষ্টকরণ এবং বাস্তব জীবনে খেলাধুলা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো