পড়ার নোট
আসক্তি মানে ক্ষতিকর জেনেও কোনো কিছু ছাড়তে না পারা। সাধারণত আসক্তি বলতে মাদক বোঝায়, কিন্তু কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সীমা ছাড়িয়ে ব্যবহার করলে জীবনের একই ক্ষতি হতে পারে। লক্ষণ: খেলতে বসে সীমা পেরিয়ে যাওয়া, পড়া, খেলাধুলা বা পরিবারের সঙ্গে সময় দেওয়ার কথা থাকলেও ফেসবুকে লাইকের জন্য অপেক্ষা করা।
কম্পিউটার গেম। গেমের আসক্তি অনেক সময় শৈশবে শুরু হয়, কারণ অভিভাবকরা ভাবেন কম্পিউটারে যা করা হয় তাই ভালো। সীমার ভেতরে বিনোদন হিসেবে গেম ঠিক আছে, কিন্তু সীমা পেরোনো খুব সহজ। একজন কোরীয় ব্যক্তি টানা ৫০ ঘণ্টা গেম খেলে মারা গিয়েছিলেন। গবেষণায় আসক্ত গেমারের মস্তিষ্কে উত্তেজক রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আসক্তির লক্ষণ:
- সার্বক্ষণিক একটা গেমের কথাই ভাবা
- খেলতে বসলে উত্তেজিত হওয়া ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটা
- লেখাপড়ায় অমনোযোগী হওয়া
- জোর করে বিরত রাখলে অস্বস্তি হওয়া
গেম খেলে কম্পিউটার প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জ্ঞানও হয় না, শুধু খেলার আনন্দটা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ সাইট। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদি এখন সব বয়সের মানুষ ব্যবহার করে। ব্যবহারকারী যত বেশি আসে ও বেশিক্ষণ থাকে, সাইট তত সফল ও তত আয় করে, তাই এগুলো মনোযোগ ধরে রাখার জন্যই তৈরি। নিজেকে জাহির করার ও প্রশংসা পাওয়ার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা মনোবিজ্ঞানে narcissism; এই সাইটগুলো তা জাগিয়ে তোলে। মানুষ নিজের ছোটো ছোটো খবর পোস্ট করে, লাইক পেয়ে খুশি হয়, আবার পোস্ট করে। এটি মাদকের মতো কাজ করে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফল: সময় নষ্ট, খারাপ ফল, ঘুম কমে যাওয়া, পরিবার ও খেলাধুলার সময় কমে যাওয়া।
মনে রাখো: কম্পিউটার গেম ও সামাজিক সাইট মাদকের মতোই আসক্তি তৈরি করতে পারে, তাই সীমা মেনে ব্যবহার করো।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।