পড়ার নোট
মাটির নিচে ও ভূ-পৃষ্ঠে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি যেসব কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করে অর্থনৈতিক কাজে লাগানো যায়, সেগুলোকে খনিজ সম্পদ বলে। সহজভাবে, যে পদার্থ ভূ-অভ্যন্তর থেকে তুলে শিল্পকারখানা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়, সেটিই খনিজ সম্পদ।
খনিজ সম্পদের তিন অবস্থা
- কঠিন: লোহা ও কপারের খনিজ, কয়লা, সোনা, হীরা। দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনা ও হীরার খনি আছে।
- তরল: পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পেট্রোলিয়াম সারা বিশ্বে রপ্তানি করে।
- গ্যাসীয়: প্রাকৃতিক গ্যাস। আমাদের দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রচুর, যা রান্না, যানবাহনের জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কোথায় পাওয়া যায়
আগে ধারণা ছিল খনিজ শুধু মাটির নিচেই থাকে, কিন্তু এখন জানা গেছে কিছু খনিজ ভূ-পৃষ্ঠেও পাওয়া যায়।
- সালফারের খনিজ মাটির গভীরে থাকে।
- নেত্রকোনার বিজয়পুরে ভূ-পৃষ্ঠে সাদা মাটি বা কেওলিন পাওয়া যায়।
- কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের বালিতে জিরকোনিয়ামের খনিজ জিরকন আছে।
- হ্যালোজেনের খনিজ থাকে সমুদ্রের পানিতে।
যেসব জায়গা থেকে খনিজ তোলা হয়, তাকে খনি বলে। খনিজ পদার্থগুলো মিশে শক্ত কণা তৈরি করে, আর সেসব কণা একত্র হয়ে শিলা গঠন করে।
ভূত্বকের উপাদান
ভূত্বকে মৌলগুলোর আনুমানিক শতকরা পরিমাণ: অক্সিজেন 46%, সিলিকন 27%, অ্যালুমিনিয়াম 8.4%, আয়রন 5%, ক্যালসিয়াম 4%, সোডিয়াম 3%, পটাশিয়াম 3%, ম্যাগনেসিয়াম 2% এবং অন্যান্য 2%।
উদাহরণ: ভূত্বকে অক্সিজেন ও সিলিকন মিলে কত শতাংশ? । অর্থাৎ ভূত্বকের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এই দুটি মৌল, আর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকা ধাতু অ্যালুমিনিয়াম (8.4%), তারপর আয়রন (5%)।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে খনিজ সম্পদ মানেই শুধু কঠিন ধাতব পাথর। পেট্রোলিয়াম তরল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস গ্যাসীয় খনিজ সম্পদ।
মনে রাখো: খনিজ সম্পদ কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় হতে পারে; এগুলো মাটির নিচে, ভূ-পৃষ্ঠে বা সমুদ্রের পানিতে পাওয়া যায়, আর ভূত্বকে সবচেয়ে বেশি আছে অক্সিজেন ও সিলিকন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।