পড়ার নোট
pH পেপার পানির সংস্পর্শে রং বদলায়; সেই রং নির্দিষ্ট রং চার্টের সঙ্গে মিলিয়ে পানির আনুমানিক pH জানা যায়। এই দলগত কাজের উদ্দেশ্য বিভিন্ন উৎসের পানির এসিডিক, ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ প্রকৃতি নির্ণয় ও তুলনা করা। শুধু উৎসের নাম শুনে পানির প্রকৃতি ধরে নেওয়া যাবে না।
উপকরণ হিসেবে pH পেপার, তার সঙ্গে দেওয়া রং চার্ট, পরিষ্কার বোতল, ছোট পাত্র বা টেস্টটিউব এবং লেখার খাতা নাও। বিদ্যালয়ের কল, নলকূপ, কাছের পুকুর, নদী ও বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা যেতে পারে। ফুটানো বা ফিল্টার করা পানি নিলে সেই তথ্যও লিখবে। দলের সদস্যরা নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা, রং মিলানো ও ফল লেখার কাজ ভাগ করে নাও।
পরীক্ষার ধাপগুলো অনুসরণ করো:
- প্রতিটি উৎসের পানি আলাদা পরিষ্কার বোতলে নাও। বোতলে উৎস ও সংগ্রহের সময় লিখে পরিচয় দাও।
- আলাদা পাত্রে সামান্য করে নমুনা ঢালো। পাত্রে আগের সাবান বা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকা চলবে না; এতে নমুনার pH বদলে যেতে পারে।
- প্রতিটি নমুনায় নতুন এক টুকরা pH পেপার ব্যবহার করো। একই কাগজ একাধিক নমুনায় ডোবাবে না।
- কাগজের ব্যবহারের নির্দেশ অনুযায়ী রং তৈরি হলে নির্দিষ্ট চার্টের সঙ্গে মিলিয়ে আনুমানিক মান লেখো।
- প্রতিটি মান ৭-এর সঙ্গে তুলনা করে প্রকৃতি নির্ণয় করো। উৎস, কাগজের রং, pH ও সিদ্ধান্ত পাশাপাশি নথিভুক্ত করো।
অনুশীলনের জন্য ধরো, ক, খ ও গ নমুনার পাঠ যথাক্রমে ৬, ৭ ও ৯। প্রথম ধাপে ৬-কে ৭-এর সঙ্গে তুলনা করলে কম পাওয়া যায়, তাই ক এসিডিক। দ্বিতীয় ধাপে ৭ সমান হওয়ায় খ নিরপেক্ষ। তৃতীয় ধাপে ৯ বেশি হওয়ায় গ ক্ষারীয়। এখানে pH এককবিহীন মান; এর কোনো SI একক নেই। এগুলো কাল্পনিক অনুশীলনী পাঠ, নির্দিষ্ট উৎসের স্থির বৈশিষ্ট্য নয়।
বাংলাদেশের কোনো বিদ্যালয়ের নলকূপ ও পাশের মাছচাষের পুকুরের ফল তুলনা করে পার্থক্য আলোচনা করা যায়। বৃষ্টির পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড দ্রবীভূত হয়ে এসিডিক প্রকৃতি দিতে পারে। সম্ভাব্য কারণকে নিশ্চিত পরীক্ষিত কারণ হিসেবে লিখবে না।
সাধারণ ভুল: pH দেখে কোন নমুনায় আর্সেনিক বেশি বলা। তার জন্য আলাদা পরীক্ষা দরকার; নিরপেক্ষ পানিতেও দূষক থাকতে পারে।
মনে রাখো: পরিষ্কার আলাদা নমুনা ও নতুন pH পেপার ব্যবহার করে প্রকৃতি নির্ণয় করো, পানযোগ্যতা নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।