পড়ার নোট
আইসোটোপের পরিচয়
একই মৌলের যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা এবং ভরসংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলে। প্রোটন সংখ্যা একই থাকায় মৌলের পরিচয় বদলায় না। নিউট্রনের সংখ্যা বদলালে নিউক্লিয়াসের মোট কণিকা সংখ্যা এবং পরমাণুর ভর বদলে যায়।
হাইড্রোজেনের তিনটি প্রাকৃতিক আইসোটোপ তুলনা করো:
| নাম | প্রতীক | প্রোটন | নিউট্রন | ভরসংখ্যা |
|---|---|---|---|---|
| প্রোটিয়াম | 1 | 0 | 1 | |
| ডিউটেরিয়াম | 1 | 1 | 2 | |
| ট্রিটিয়াম | 1 | 2 | 3 |
ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়ামকে যথাক্রমে D ও T দিয়েও প্রকাশ করা হয়। তিনটির প্রত্যেক নিরপেক্ষ পরমাণুতে একটি ইলেকট্রন থাকে। তাই শুধু ভর আলাদা বলে এগুলোকে তিনটি আলাদা মৌল বলা যাবে না।
আইসোটোপের রাসায়নিক ধর্ম সাধারণভাবে একই রকম, কিন্তু ভরসংক্রান্ত ভৌত ধর্ম ভিন্ন হতে পারে। হাইড্রোজেনের আরও আইসোটোপ গবেষণাগারে প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণ হাইড্রোজেনে নিউট্রন নেই বলে হাইড্রোজেনের সব আইসোটোপই নিউট্রনহীন—এমন ধারণা ভুল।
অন্য একটি তুলনা করি: কার্বন-12 ও কার্বন-14-এর পারমাণবিক সংখ্যা 6। সূত্র -এ নিউট্রন সংখ্যা, ভরসংখ্যা এবং পারমাণবিক সংখ্যা; সবগুলো এককহীন গণনা। প্রথমটির জন্য , দ্বিতীয়টির জন্য । প্রোটন একই কিন্তু নিউট্রন ভিন্ন, তাই তারা আইসোটোপ।
তেজস্ক্রিয়তা ও ব্যবহার
যেসব আইসোটোপের নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিবর্তিত হয়ে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃসরণ করে, তাদের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে। সব আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় নয়। তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ।
কোবাল্ট-60 টিউমার নির্ণয় ও নিরাময়ে এবং আয়োডিন-131 থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। টেকনিশিয়ামের সাহায্যে দেহের রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি নেওয়া যায়। তেজস্ক্রিয় ফসফরাস দিয়ে উদ্ভিদের সার গ্রহণ অনুসরণ করা হয়; ইউরেনিয়াম-235 বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে। কার্বন-14 প্রাচীন জৈব বস্তুর বয়স নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশের ধানখেতে সারের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা এই ধারণার একটি পরিচিত প্রয়োগ।
মনে রাখো: আইসোটোপে প্রোটন সংখ্যা একই, নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন; সব আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।