পড়ার নোট
পরমাণু অত্যন্ত ছোট হলেও তার ভেতরে গঠন রয়েছে। পরমাণুর গঠন আলোচনায় ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। এগুলোই পরমাণুর তিন ধরনের স্থায়ী কণিকা হিসেবে পরিচিত। এখানে স্থায়ী কথাটি থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয় যে, কোনো অবস্থাতেই এদের পরিবর্তন সম্ভব নয়।
পরমাণুর কেন্দ্রের ক্ষুদ্র অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে থাকে, আর ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে চলাচল করে। ফলে তিন ধরনের কণিকা পরমাণুর একই জায়গায় জমা থাকে না। এদের অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে পরমাণুর আধান এবং ভরের উৎস বোঝা সহজ হয়।
- প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত কণিকা। এর প্রতীক । প্রোটনের সংখ্যা মৌলের পরিচয় নির্ধারণ করে।
- ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত কণিকা। এর প্রতীক । একটি ইলেকট্রনের আধানের পরিমাণ একটি প্রোটনের আধানের সমান, কিন্তু চিহ্ন বিপরীত।
- নিউট্রন আধানহীন কণিকা। এর প্রতীক । আধান না থাকলেও এর ভর আছে। এই তিনটি প্রতীক কণিকার নাম নির্দেশ করে; এগুলো কোনো পরিমাপের একক নয়।
নিরপেক্ষ পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান। তাই তাদের সমান পরিমাণ ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আধান পরস্পরকে সাম্যাবস্থায় রাখে। নিউট্রন এই আধানের হিসাবে কোনো ধনাত্মক বা ঋণাত্মক অবদান যোগ করে না।
প্রোটন ও নিউট্রনের ভর প্রায় সমান; নিউট্রনের ভর সামান্য বেশি। ইলেকট্রনের ভর প্রোটনের ভরের প্রায় 1840 ভাগের এক ভাগ। তাই সাধারণ আপেক্ষিক ভরের হিসাবে প্রোটন ও নিউট্রনের ভর 1 এবং ইলেকট্রনের ভর প্রায় 0 ধরা হয়। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে।
বাড়ির লোহার পেরেকের লোহার পরমাণু কিংবা পানির গঠনে থাকা অক্সিজেন পরমাণু—উভয়ের মধ্যেই এই ধরনের কণিকা আছে। তবে সব পরমাণুতে কণিকার সংখ্যা এক নয়। সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়ামের নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন আছে, কিন্তু নিউট্রন নেই।
সাধারণ ভুল হলো, ইলেকট্রনের আপেক্ষিক ভর প্রায় শূন্য বলে তার প্রকৃত ভরও নেই ভাবা। একইভাবে নিউট্রন আধানহীন বলে ভরহীন নয়।
মনে রাখো: প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে থাকে, ইলেকট্রন থাকে বাইরে; আধান ও ভর আলাদা বৈশিষ্ট্য।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।