পড়ার নোট
পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব
পৃথিবীতে জীবের বসবাসের উপযোগী অবস্থা বজায় রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ অপরিহার্য। অসংখ্য জীবের বেঁচে থাকার জন্য মাটি, পানি ও বায়ু দরকার, কিন্তু বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার চাহিদা মেটাতে এসব প্রাকৃতিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- জীববৈচিত্র্য রক্ষা: বন, পাহাড়, জলাশয় ও সমুদ্র জীববৈচিত্র্যের প্রধান আবাস; পরিবেশ সংরক্ষিত থাকলেই জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে। মনে রাখতে হবে, মানুষ ছাড়া জীববৈচিত্র্য টিকে থাকতে পারে, কিন্তু জীববৈচিত্র্য ছাড়া মানুষ টিকতে পারে না।
- বৃষ্টি ও ফসল: বন উজাড় হলে বৃষ্টিপাত কমে, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
- বর্ধিত গ্রিনহাউস প্রভাব থেকে রক্ষা: ও এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়লে তাপমাত্রা বাড়ে; একে বর্ধিত গ্রিনহাউস প্রভাব বলে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে বিস্তীর্ণ উপকূল প্লাবিত হবে, আবহাওয়া বদলাবে, বন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নানা পোকায় ফসল নষ্ট হবে এবং ঝড় ও টর্নেডোর তীব্রতা বাড়বে।
সংরক্ষণের উপায়
- সারা বিশ্বকে সুস্থ পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে এবং মানুষকে সংগঠিত করতে হবে।
- বৃক্ষরোপণ কোনো সাপ্তাহিক বা মাসিক কর্মসূচিতে সীমিত রাখা যাবে না; একটি গাছ কাটলে সাথে সাথে দুটি গাছ লাগাতে হবে।
- গাছ অপরিকল্পিতভাবে নয়, আশপাশের বাস্তুতন্ত্রের উপযোগী করে লাগাতে হবে।
- কোনো এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপনের আগে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে এবং শিল্পবর্জ্যের নিরাপদ নিষ্কাশন নিশ্চিত করতে হবে।
- নগরায়ণ পরিকল্পিত হতে হবে, পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
- জ্বালানি হিসেবে কাঠের বদলে সৌরশক্তি ব্যবহার করতে হবে।
- অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মাটির গুণাগুণ, উপকারী অণুজীব, কেঁচো ও কীটপতঙ্গ এবং জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে; তাই এগুলোর ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
উদাহরণ: একটি স্কুলের রাস্তা প্রশস্ত করতে 15টি গাছ কাটতে হবে। নিয়ম মেনে অন্তত টি গাছ লাগাতে হবে, এবং সেগুলো হতে হবে এলাকার মাটি ও জলবায়ুর উপযোগী দেশি প্রজাতি।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে পরিবেশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের কাজ। গাছ লাগানো, জৈব সার ব্যবহার ও বর্জ্য সঠিক জায়গায় ফেলার মতো কাজ প্রত্যেকেই করতে পারে।
মনে রাখো: জীববৈচিত্র্য ও মানুষের অস্তিত্বের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি; পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, নিরাপদ বর্জ্য নিষ্কাশন, সৌরশক্তি ও জৈব সারের ব্যবহার এর প্রধান উপায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।