পড়ার নোট
বংশবিস্তার ও বংশ রক্ষার জন্য প্রজনন অত্যন্ত প্রয়োজন; এ প্রক্রিয়ায় মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং সন্তান জন্ম নেয়। মানুষ একলিঙ্গ প্রাণী, অর্থাৎ পুরুষ ও নারীর প্রজননের অঙ্গ আলাদা দেহে থাকে।
বয়ঃসন্ধিকাল
জন্মের সময় শিশুর প্রজননতন্ত্র অপরিপক্ব থাকে। শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে, অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিকালে, প্রজনন অঙ্গগুলো বাড়ে, হরমোনের প্রভাবে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য দেখা দেয় এবং দেহে ভেতরের ও বাইরের পরিবর্তন ঘটে।
- ছেলেদের: দাড়ি-গোঁফ ওঠা, কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া, কাঁধ চওড়া হওয়া।
- মেয়েদের: ত্বক কোমল হয় এবং মাসিক বা ঋতুস্রাব শুরু হয়; নিয়মিত বিরতিতে জরায়ু থেকে রক্ত ও শ্লেষ্মা নির্গত হয়। বয়ঃসন্ধির 1–2 বছর পর মেয়েরা প্রজননক্ষম হয়, এবং ডিম্বাশয়ে স্ত্রী জনন মাতৃকোষ থেকে ডিম্বাণু তৈরি শুরু হয়। এটি সাধারণত 40–50 বছর বয়স পর্যন্ত চলে; তারপর স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়াকে রজোনিবৃত্তি বলে। গর্ভাবস্থায় মাসিক সাময়িক বন্ধ থাকে।
নিষেক
শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি হয় জনন মাতৃকোষের মিয়োসিস বিভাজনে, তাই প্রতিটিতে এক সেট বা হ্যাপ্লয়েড ক্রোমোজোম থাকে। শুক্রাণুর লেজ আছে, যা দিয়ে এটি স্ত্রী প্রজননতন্ত্রে সাঁতরে চলে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটে ডিম্বনালিতে; একটি ডিম্বাণু মাত্র একটি শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত হয়। এভাবে মানুষে অন্তঃনিষেক হয় এবং ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি হয়।
বিয়ে ও মাতৃস্বাস্থ্য
বিয়ে একটি সামাজিক, আত্মিক ও পারিবারিক বন্ধন। বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম বয়স থাকা উচিত; 20 বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে হওয়া উচিত নয়। অল্প বয়সে বিয়েতে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ হয়, যা মা ও শিশু দুজনের জন্যই ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।
উদাহরণ: মানুষের প্রজননের ধাপগুলো ক্রমানুসারে সাজাও:
- পুং জনন মাতৃকোষ () মিয়োসিসে শুক্রাণু () তৈরি করে।
- স্ত্রী জনন মাতৃকোষ () মিয়োসিসে ডিম্বাণু () তৈরি করে।
- ডিম্বনালিতে একটি শুক্রাণু ও একটি ডিম্বাণুর নিষেক হয়।
- জাইগোট () তৈরি হয়ে জরায়ুতে ভ্রূণে পরিণত হয়।
মনে রাখো: মানুষ একলিঙ্গ প্রাণী; বয়ঃসন্ধিকালে প্রজনন অঙ্গ পরিণত হয়, আর ডিম্বনালিতে একটি শুক্রাণু ও একটি ডিম্বাণুর অন্তঃনিষেকে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।