offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ৮

বহিঃ ও অন্তঃ নিষেক

পড়ার নোট

যৌন প্রজননে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনকে নিষেক বলে। সক্রিয় শুক্রাণু ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং দুটির নিউক্লিয়াস মিলে জাইগোট তৈরি করে। নিষেক একটি সর্বজনীন জৈবিক প্রক্রিয়া, এবং এতে কিছু সময় লাগে।

নিষেকের বৈশিষ্ট্য

  • শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর পরিপক্বতা নিষেকের পূর্বশর্ত।
  • কেবল একই প্রজাতির পরিপক্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মধ্যে নিষেক হয়।
  • সাধারণত নিষেক অপরিবর্তনীয়: একবার নিষিক্ত ডিম্বাণু আর নিষিক্ত হয় না।

নিষেকের স্থান অনুযায়ী প্রকার

ক. বহিঃনিষেক: পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণীর দেহের বাইরে নিষেক ঘটলে তাকে বহিঃনিষেক বলে। পানিতে বাস করা অধিকাংশ প্রাণী, যেমন বিভিন্ন মাছ ও ব্যাঙে এটি দেখা যায়: স্ত্রী প্রাণী পানিতে ডিম ছাড়ে, পুরুষ প্রাণী তার কাছে শুক্রাণু ছাড়ে, আর পানিতেই মিলন ঘটে। তবে ব্যতিক্রম আছে, যেমন হাঙর।

খ. অন্তঃনিষেক: স্ত্রীদেহের জননাঙ্গে নিষেক ঘটলে তাকে অন্তঃনিষেক বলে। পুরুষ প্রাণী তার শুক্রাণু স্ত্রী জননাঙ্গে প্রবেশ করিয়ে এ নিষেক ঘটায়। ডাঙায় বাস করা অধিকাংশ প্রাণীর এটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বহিঃনিষেকঅন্তঃনিষেক
কোথায়দেহের বাইরে, সাধারণত পানিতেস্ত্রীদেহের জননাঙ্গে
কাদেরঅধিকাংশ জলজ প্রাণী (মাছ, ব্যাঙ)অধিকাংশ স্থলজ প্রাণী
ব্যতিক্রমহাঙরে অন্তঃনিষেক—

নিষেকের মৌলিক তাৎপর্য

  • ভ্রূণে ডিপ্লয়েড ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনঃস্থাপন করে।
  • ডিম্বাণুকে পরিস্ফুটনের জন্য সক্রিয় করে তোলে।
  • ক্রোমোজোমে বাহিত পিতা ও মাতার বৈশিষ্ট্য একত্র করে।
  • ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।

উদাহরণ: স্থলজ প্রাণীতে বহিঃনিষেক কেন সুবিধাজনক নয়? শুক্রাণুকে সাঁতরে ডিম্বাণুর কাছে যেতে তরল মাধ্যম লাগে। পানিতে সেই মাধ্যম চারপাশেই থাকে, কিন্তু ডাঙায় দেহের বাইরে শুক্রাণু শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই স্থলজ প্রাণীতে নিষেক স্ত্রীদেহের ভেতরের আর্দ্র জননাঙ্গে ঘটে।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে একটি ডিম্বাণু একাধিক শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত হয়। একটি ডিম্বাণু একবারই, একটিমাত্র শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত হয়।

মনে রাখো: শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনই নিষেক; দেহের বাইরে হলে বহিঃনিষেক (মাছ, ব্যাঙ), স্ত্রীদেহের ভেতরে হলে অন্তঃনিষেক (অধিকাংশ স্থলজ প্রাণী), আর নিষেক ভ্রূণে ডিপ্লয়েড অবস্থা ফিরিয়ে আনে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. চট্টগ্রামের হালদা নদীর রুই মাছ (Labeo rohita) পানিতে বহিঃনিষেকের মাধ্যমে এবং স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন গরু (Bos indicus) অন্তঃনিষেকের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। বহিঃনিষেককারী রুই মাছকে গরুর তুলনায় লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি ডিম্বাণু ও শুক্রাণু উৎপাদন করতে হয় কেন?

    1. ক

      জলীয় পরিবেশে ভ্রূণের বৃদ্ধি স্থলভাগের চেয়ে অনেক দ্রুত ঘটে বলে

    2. খ

      বহিঃনিষেকের ক্ষেত্রে প্রতিকূল জলস্রোত ও শিকারী প্রাণীর কারণে জননকোষের ব্যাপক অপচয় ঘটে এবং নিষেকের সম্ভাবনা কম থাকে বলে

    3. গ

      মাছের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র হওয়ায় পানিতে এদের মিলন নিশ্চিত থাকে না

    4. ঘ

      বহিঃনিষেককারী সকল প্রাণীর ডিম্বাণু সরাসরি খাদ্য তৈরি করতে পারে না বলে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) বহিঃনিষেকের ক্ষেত্রে প্রতিকূল জলস্রোত ও শিকারী প্রাণীর কারণে জননকোষের ব্যাপক অপচয় ঘটে এবং নিষেকের সম্ভাবনা কম থাকে বলে

    1. বহিঃনিষেকের ক্ষেত্রে পুরুষ ও স্ত্রী উভয় প্রাণী পানিতে সরাসরি শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মুক্ত করে। উন্মুক্ত জলীয় পরিবেশে পানির স্রোত, প্রতিকূল তাপমাত্রা এবং জলজ শিকারী প্রাণীদের উপস্থিতির কারণে বিপুল সংখ্যক জননকোষ নষ্ট হয়ে যায়।
    2. ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অন্তত কয়েকটি ডিম্বাণুর সফল নিষেক ও প্রজাতির অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে বহিঃনিষেককারী প্রাণীকে প্রচুর গ্যামেট তৈরি করতে হয়। পক্ষান্তরে, অন্তঃনিষেকের ক্ষেত্রে স্ত্রীদেহের অভ্যন্তরে ডিম্বাণু সুরক্ষিত থাকায় স্বল্পসংখ্যক জননকোষেই সফল নিষেক সম্ভব হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো