পড়ার নোট
জন্ম হলে জীবের মৃত্যু অবধারিত। শুধু মৃত্যু ঘটলে একসময় সব প্রজাতি পৃথিবী থেকে বিলীন হয়ে যেত; তা হয়নি, কারণ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রজননের মাধ্যমে নতুন জীবের জন্ম হচ্ছে। যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে, তাকে প্রজনন বলে।
প্রজননের দুই ধরন
- অযৌন প্রজনন: জননকোষের মিলন ছাড়াই নতুন জীব তৈরি হয়; অপত্য জীব মাতৃজীবের প্রায় হুবহু মতো। সাধারণত নিম্নশ্রেণির জীবে দেখা যায়।
- যৌন প্রজনন: দুটি বিপরীতধর্মী জননকোষ মিলিত হয়: পুং জননকোষ বা শুক্রাণু এবং স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু। উচ্চশ্রেণির অধিকাংশ উদ্ভিদ ও সব উচ্চশ্রেণির প্রাণী এভাবে বংশধর সৃষ্টি করে।
দুই ধরনের জননকোষ একই দেহে তৈরি হলে সেই উদ্ভিদকে সহবাসী, আর আলাদা দেহে তৈরি হলে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ বলে।
যৌন প্রজননে ক্রোমোজোমের হিসাব
- জননকোষ তৈরির পূর্বশর্ত হলো জনন মাতৃকোষকে মিয়োসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হতে হয়; ফলে জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক হয়।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলে জাইগোট তৈরি করে, যাতে ক্রোমোজোম সংখ্যা আবার জনন মাতৃকোষের সমান হয়।
- জাইগোট মাইটোসিস বিভাজনে বারবার বিভাজিত হয়ে নতুন জীবদেহ তৈরি করে।
এভাবে একটি জীব বহু জীবের জন্ম দিয়ে বংশধারা রক্ষা করে। ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষ পর্যন্ত সব জীবই প্রজননের মাধ্যমে প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।
উদাহরণ: মানুষের জনন মাতৃকোষে ক্রোমোজোম 46টি। মিয়োসিসে তৈরি শুক্রাণু ও ডিম্বাণুতে থাকে টি করে। নিষেকে জাইগোটে হয় টি। এরপর মাইটোসিসে তৈরি শিশুর দেহের প্রতিটি কোষেও 46টি ক্রোমোজোম থাকে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে জাইগোট থেকে দেহ তৈরি হয় মিয়োসিসে। মিয়োসিস হয় শুধু জননকোষ তৈরির সময়; জাইগোট থেকে দেহ গড়ে ওঠে মাইটোসিসে।
মনে রাখো: যে প্রক্রিয়ায় জীব বংশধর সৃষ্টি করে তাই প্রজনন; এটি যৌন ও অযৌন দুই প্রকার, আর যৌন প্রজননে মিয়োসিসে তৈরি জননকোষ মিলে জাইগোট হয়, যা মাইটোসিসে নতুন দেহ গড়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।