offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ১

জীবের (উদ্ভিদ ও প্রাণী) প্রজনন

পড়ার নোট

প্রজনন হলো সেই জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জীব নিজের প্রজাতির নতুন সদস্য বা বংশধর সৃষ্টি করে। উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়েরই এটি একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। একটি জীবের মৃত্যু হলেও তার বংশধরের মাধ্যমে প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। তবে সব জীব একই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে না।

প্রজননের দুটি প্রধান ধরন রয়েছে:

  • অযৌন প্রজনন: পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলন ছাড়াই নতুন জীব সৃষ্টি হয়। সাধারণত একটি জনিতৃ জীব এতে অংশ নেয়। অ্যামিবা ও ব্যাকটেরিয়ার মতো সরল জীব কোষ বিভাজনের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। এভাবে অল্প সময়ে ও কম শক্তি ব্যয় করে অনেক নতুন জীব তৈরি হতে পারে। বংশধর সাধারণত জনিতৃ জীবের মতো হয়, তাই বৈচিত্র্য কম দেখা যায়।
  • যৌন প্রজনন: পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের মাধ্যমে নতুন জীবের সূচনা হয়। প্রজননে অংশ নেওয়া এই বিশেষ কোষগুলোকে গ্যামেট বা জননকোষ বলে। পুং জননকোষকে শুক্রাণু এবং স্ত্রী জননকোষকে ডিম্বাণু বলে; উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের যৌন প্রজননে এগুলো দেখা যায়। যৌন প্রজননের জন্য সব ক্ষেত্রে দুটি পৃথক জীব থাকা আবশ্যক নয়; কোনো কোনো উদ্ভিদে উভয় ধরনের জননকোষ একই গাছে তৈরি হয়।

উদ্ভিদ ও প্রাণীর যৌন প্রজননের সাধারণ ধারাটি হলো:

  • প্রথমে জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস বিভাজনে ভাগ হয়ে পুং ও স্ত্রী জননকোষ তৈরি করে। জননকোষে দেহকোষের তুলনায় অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।
  • জননকোষ দুটির মিলনকে নিষেক বলে। এতে জাইগোট বা নিষিক্ত ডিম্বাণু তৈরি হয় এবং পূর্ণ ক্রোমোজোম সংখ্যা ফিরে আসে।
  • জাইগোট বারবার মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করে। ভ্রূণ থেকে নতুন জীব বিকশিত হয়।

সপুষ্পক উদ্ভিদে ফুল যৌন প্রজননের অঙ্গ। নিষেকের পর বীজাণ্ড বীজে পরিণত হয়; উপযুক্ত পরিবেশে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে নতুন গাছ তৈরি করে। প্রাণীতে মাছ, পাখি ও মানুষ যৌন প্রজনন করে। গঠন ও বিকাশের পরিবেশ আলাদা হলেও জননকোষের মিলন এবং জাইগোট গঠন এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। যৌন প্রজননে সৃষ্ট বংশগত বৈচিত্র্য পরিবর্তিত পরিবেশে প্রজাতির টিকে থাকতে সহায়তা করতে পারে।

মনে রাখো: উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রজননপদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বংশধর সৃষ্টি হয়ে প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো