পড়ার নোট
অস্থি গঠন ও অস্থির শক্তির জন্য ক্যালসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, আর অস্থির বৃদ্ধির জন্য ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য অপরিহার্য। অস্টিওপোরোসিস একটি ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ, যাতে অস্থির ঘনত্ব ও পুরুত্ব কমে অস্থি ভঙ্গুর হয়ে যায়।
কেন হয়
অস্থিতে সারা জীবন পুরোনো অস্থির ক্ষয় ও নতুন অস্থির গঠন একসাথে চলে। বেশি বয়সে ক্ষয় গঠনের চেয়ে বেশি হয়; সাথে খনিজ লবণ, বিশেষ করে ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলে অস্থি পাতলা ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
কারা ঝুঁকিতে
- সাধারণত বয়স্ক নারী ও পুরুষ।
- রজোনিবৃত্তির পর নারীরা; এ সময় নারীদের অস্থির ঘনত্ব ও পুরুত্ব কমে।
- দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবনকারী পুরুষ।
- অলস জীবনযাপনকারী, যারা কম শারীরিক পরিশ্রম করেন।
- দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিসে ভোগা ব্যক্তি।
রোগ নির্ণয়
প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ টের পাওয়া যায় না; হঠাৎ কোমরের হাড় বা অন্য কোনো অস্থি ভেঙে যেতে পারে। অস্থির ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্রে অস্থির ঘনত্ব পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা হয়।
সংক্ষেপে প্রতিকার ও প্রতিরোধ
ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D সমৃদ্ধ খাদ্য, পর্যাপ্ত সূর্যালোক, নিয়মিত ব্যায়াম (আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে) এবং সুষম ও আঁশযুক্ত খাদ্য।
উদাহরণ: একই বয়সের দুজন বয়স্ক নারী: একজন প্রতিদিন হাঁটেন, রোদে বসেন ও দুধ খান; অন্যজন সারাদিন ঘরে থাকেন, ব্যায়াম করেন না, দুধজাতীয় খাবার কম খান। কার অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি? দ্বিতীয়জনের: ঘরে থাকায় সূর্যালোক থেকে ভিটামিন D কম পান, ক্যালসিয়াম কম খান এবং শারীরিক পরিশ্রম কম, আর রজোনিবৃত্তির পর বয়সের কারণে এমনিতেই অস্থি ক্ষয় বেশি।
সাধারণ ভুল হলো ব্যথা না থাকলে অস্থি সুস্থ ভাবা। অস্টিওপোরোসিস প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় নিঃশব্দে বাড়ে, প্রথম লক্ষণই হতে পারে হাড় ভাঙা।
মনে রাখো: অস্টিওপোরোসিস ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ, যাতে অস্থি পাতলা ও ভঙ্গুর হয়; বয়স্ক, রজোনিবৃত্তির পর নারী, স্টেরয়েড সেবনকারী ও অলস জীবনযাপনকারীদের ঝুঁকি বেশি, আর অস্থির ঘনত্ব মেপে এটি নির্ণয় করা হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।