পড়ার নোট
অস্থিসন্ধি হলো দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থল। সন্ধি অস্থিগুলোকে যুক্ত রাখে এবং সন্ধির ধরন অনুযায়ী নড়াচড়ার সুযোগ দেয়। সব সন্ধি সমানভাবে নড়ে না। সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি হলো এমন সচল সন্ধি, যেখানে তরুণাস্থি-আবৃত অস্থিপ্রান্তের মাঝে সাইনোভিয়াল তরলযুক্ত গহ্বর থাকে এবং চারপাশে একটি আবরণ থাকে।
নড়াচড়ার ক্ষমতা অনুযায়ী অস্থিসন্ধি তিন ধরনের:
- অনড় সন্ধি: অস্থিগুলো দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে, নড়াচড়া হয় না; যেমন করোটির অস্থিসন্ধি।
- ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি: সীমিত নড়াচড়া হয়; যেমন মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর মধ্যকার সন্ধি, যা দেহ বাঁকাতে সাহায্য করে।
- পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি: সহজে নড়াচড়া করা যায়; যেমন কাঁধ ও কনুইয়ের সন্ধি।
সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির গঠন বুঝতে বাইরে থেকে ভেতরে অংশগুলো চিনে নাও:
- আর্টিকুলার ক্যাপসুল: শক্ত তন্তুময় আবরণ, যা সন্ধিকে ঘিরে ধরে রাখে। এর ভেতর দিকে সাইনোভিয়াল পর্দা থাকে।
- লিগামেন্ট: অস্থিগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রেখে সহজে স্থানচ্যুত হতে বাধা দেয়।
- তরুণাস্থি: সন্ধিতে মিলিত অস্থিপ্রান্তগুলো ঢেকে রাখে।
- সাইনোভিয়াল গহ্বর: অস্থিপ্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান, যেখানে সাইনোভিয়াল তরল থাকে। এই তরল ও তরুণাস্থি ঘর্ষণ কমায়।
চিহ্নিত চিত্রে অস্থির বাইরের পেরিঅস্টিয়াম, শক্ত অস্থি এবং ভেতরের স্পঞ্জি অস্থিও দেখা যায়। দুইয়ের বেশি অস্থি মিলে এ ধরনের সন্ধি তৈরি করলে তাকে জটিল সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে।
সাইনোভিয়াল সন্ধির দুটি পরিচিত উদাহরণ হলো:
- বল ও কোটর সন্ধি: একটি অস্থির গোলাকার মাথা অন্যটির পেয়ালার মতো কোটরে বসে। বিভিন্ন দিকে নড়তে পারে; যেমন কাঁধ ও নিতম্বের সন্ধি।
- কবজা সন্ধি: দরজার কবজার মতো এক সমতলে নড়ে; যেমন কনুই, হাঁটু ও আঙুলের সন্ধি।
হাঁটার সময় পেশির টানে হাঁটুর অস্থিগুলো সন্ধিতে নড়ে। তখন তরুণাস্থি ও সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমায়, ফলে নড়াচড়ায় শক্তি কম ব্যয় হয়। ক্যাপসুল ও লিগামেন্ট অস্থিগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। তাই পূর্ণ সচল হলেও সব সন্ধি সব দিকে নড়তে পারে না; নড়ার দিক নির্ভর করে সন্ধির গঠনের ওপর।
মনে রাখো: সাইনোভিয়াল সন্ধিতে তরুণাস্থি ও সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমিয়ে নড়াচড়া সহজ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।