offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৯ · টপিক ৬

অস্থিসন্ধি ও এর কাজ: সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি

পড়ার নোট

অস্থিসন্ধি হলো দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থল। সন্ধি অস্থিগুলোকে যুক্ত রাখে এবং সন্ধির ধরন অনুযায়ী নড়াচড়ার সুযোগ দেয়। সব সন্ধি সমানভাবে নড়ে না। সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি হলো এমন সচল সন্ধি, যেখানে তরুণাস্থি-আবৃত অস্থিপ্রান্তের মাঝে সাইনোভিয়াল তরলযুক্ত গহ্বর থাকে এবং চারপাশে একটি আবরণ থাকে।

নড়াচড়ার ক্ষমতা অনুযায়ী অস্থিসন্ধি তিন ধরনের:

  • অনড় সন্ধি: অস্থিগুলো দৃঢ়ভাবে যুক্ত থাকে, নড়াচড়া হয় না; যেমন করোটির অস্থিসন্ধি।
  • ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধি: সীমিত নড়াচড়া হয়; যেমন মেরুদণ্ডের কশেরুকাগুলোর মধ্যকার সন্ধি, যা দেহ বাঁকাতে সাহায্য করে।
  • পূর্ণ সচল অস্থিসন্ধি: সহজে নড়াচড়া করা যায়; যেমন কাঁধ ও কনুইয়ের সন্ধি।

সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধির গঠন বুঝতে বাইরে থেকে ভেতরে অংশগুলো চিনে নাও:

  • আর্টিকুলার ক্যাপসুল: শক্ত তন্তুময় আবরণ, যা সন্ধিকে ঘিরে ধরে রাখে। এর ভেতর দিকে সাইনোভিয়াল পর্দা থাকে।
  • লিগামেন্ট: অস্থিগুলোকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রেখে সহজে স্থানচ্যুত হতে বাধা দেয়।
  • তরুণাস্থি: সন্ধিতে মিলিত অস্থিপ্রান্তগুলো ঢেকে রাখে।
  • সাইনোভিয়াল গহ্বর: অস্থিপ্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান, যেখানে সাইনোভিয়াল তরল থাকে। এই তরল ও তরুণাস্থি ঘর্ষণ কমায়।

চিহ্নিত চিত্রে অস্থির বাইরের পেরিঅস্টিয়াম, শক্ত অস্থি এবং ভেতরের স্পঞ্জি অস্থিও দেখা যায়। দুইয়ের বেশি অস্থি মিলে এ ধরনের সন্ধি তৈরি করলে তাকে জটিল সাইনোভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে।

সাইনোভিয়াল সন্ধির দুটি পরিচিত উদাহরণ হলো:

  • বল ও কোটর সন্ধি: একটি অস্থির গোলাকার মাথা অন্যটির পেয়ালার মতো কোটরে বসে। বিভিন্ন দিকে নড়তে পারে; যেমন কাঁধ ও নিতম্বের সন্ধি।
  • কবজা সন্ধি: দরজার কবজার মতো এক সমতলে নড়ে; যেমন কনুই, হাঁটু ও আঙুলের সন্ধি।

হাঁটার সময় পেশির টানে হাঁটুর অস্থিগুলো সন্ধিতে নড়ে। তখন তরুণাস্থি ও সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমায়, ফলে নড়াচড়ায় শক্তি কম ব্যয় হয়। ক্যাপসুল ও লিগামেন্ট অস্থিগুলোকে একত্রে ধরে রাখে। তাই পূর্ণ সচল হলেও সব সন্ধি সব দিকে নড়তে পারে না; নড়ার দিক নির্ভর করে সন্ধির গঠনের ওপর।

মনে রাখো: সাইনোভিয়াল সন্ধিতে তরুণাস্থি ও সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমিয়ে নড়াচড়া সহজ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সিলেটে একটি বিভাগীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে একজন ফাস্ট বোলার দ্রুতগতিতে বল করছিলেন। মানবদেহের সাইনুভিয়াল অস্থিসন্ধিতে (Synovial joint) অঙ্গ সঞ্চালনের সময় দুটি অস্থির মুখোমুখি প্রান্তভাগকে সরাসরি ঘর্ষণ ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করার জন্য কোন উপাদান দ্বারা আবৃত থাকে?

    1. ক

      তরুণাস্থি (Cartilage)

    2. খ

      টেনডন (Tendon)

    3. গ

      অস্থিমজ্জা (Bone marrow)

    4. ঘ

      পেরিঅস্টিয়াম (Periosteum)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) তরুণাস্থি (Cartilage)

    1. সাইনুভিয়াল অস্থিসন্ধিতে দুটি অস্থির সংযোগস্থলে অস্থির প্রান্তভাগ মসৃণ ও স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি (articular cartilage) দ্বারা আবৃত থাকে।
    2. এই তরুণাস্থি নড়াচড়ার সময় অস্থির মুখোমুখি ঘর্ষণজনিত ক্ষয় রোধ করে এবং বাইরের আকস্মিক চাপ ও ঝাঁকুনি শোষণ করে।
  2. সাইনুভিয়াল অস্থিসন্ধি (Synovial joint) মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গে কোনো প্রকার ঘর্ষণ বা ক্ষয় ছাড়াই মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে পারে কেন? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এর গঠনগত কারণ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    সাইনুভিয়াল অস্থিসন্ধিতে দুটি অস্থির সংযোগস্থল মসৃণ ও স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি (articular cartilage) দ্বারা আবৃত থাকে, যা অস্থির সরাসরি সংঘর্ষ রোধ করে এবং ঝাঁকুনি শোষণ করে। এছাড়া অস্থিসন্ধির ক্যাপসুলের ভেতরের সাইনুভিয়াল ঝিল্লি থেকে নিঃসৃত পিচ্ছিল সাইনুভিয়াল রস (synovial fluid) সন্ধি গহ্বরকে সর্বদা আর্দ্র ও পিচ্ছিল রাখে, ফলে অঙ্গ সঞ্চালনের সময় অস্থি দুটির মধ্যে কোনো ঘর্ষণ ছাড়াই অত্যন্ত মসৃণভাবে নড়াচড়া সম্ভব হয়।

    1. তরুণাস্থির প্রতিরক্ষা: অস্থিসন্ধিতে যুক্ত অস্থির প্রান্তভাগের মসৃণ তরুণাস্থি আবরণী হাড়ের মধ্যকার সরাসরি ঘর্ষণ রোধ করে এবং বহিরাগত চাপ ও ঝাঁকুনি শোষণ করে।
    2. সাইনুভিয়াল রসের পিচ্ছিলকারিতা: সাইনুভিয়াল ঝিল্লি থেকে ক্ষরিত তরল সন্ধি গহ্বরকে সার্বক্ষণিক পিচ্ছিল রাখে, যার ফলে অস্থিসন্ধির চলাচল সম্পূর্ণ ঘর্ষণহীন ও সহজ হয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো