পড়ার নোট
তরুণাস্থি একটি ভিন্ন ধরনের যোজক টিস্যু। এটি অস্থির মতো শক্ত নয়; তুলনামূলক নরম, স্থিতিস্থাপক ও নমনীয়।
গঠন
- তরুণাস্থির কোষগুলো একা বা জোড়ায় জোড়ায় ধাত্রের মধ্যে ঘনভাবে ছড়িয়ে থাকে।
- তরুণাস্থি টিস্যু থেকে এক ধরনের শক্ত, অর্ধস্বচ্ছ জৈব পদার্থ নিঃসৃত হয়, যার নাম কনড্রিন; ধাত্রটি কনড্রিন দিয়ে গঠিত এবং হালকা নীল রঙের।
- জীবিত তরুণাস্থি কোষে প্রোটোপ্লাজম স্বচ্ছ, নিউক্লিয়াস গোলাকার। কনড্রিনের মধ্যে কোষগুলো যে গহ্বরে থাকে, তাকে ক্যাপসুল বা ল্যাকুনা বলে; এর ভেতরে কনড্রোসাইট ও কনড্রোব্লাস্ট থাকে।
- সব তরুণাস্থি তন্তুময় যোজক টিস্যুর একটি স্তরে ঢাকা থাকে, যার নাম পেরিকনড্রিয়াম; এটি চকচকে সাদা। তাই তরুণাস্থি সাদা, নীলাভ ও চকচকে দেখায়।
অবস্থান ও কাজ
- কানের পিনা ও নাক তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি; তাই এগুলো বাঁকানো যায়, আবার আগের আকারে ফিরে আসে।
- বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে এবং কিছু অস্থির সংযোগ-তলে তরুণাস্থি থাকে। হিউমেরাস ও ফিমারের মতো অস্থির দুই প্রান্ত তরুণাস্থিতে ঢাকা, যা অস্থিকে ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে।
- সাইনোভিয়াল সন্ধিতে তরুণাস্থি ও সাইনোভিয়াল তরল মিলে ঘর্ষণ কমায়, ফলে সন্ধি নাড়াতে কম শক্তি লাগে।
অস্থি ও তরুণাস্থির পার্থক্য
| বিষয় | অস্থি | তরুণাস্থি |
|---|---|---|
| দৃঢ়তা | শক্ত, অনমনীয় | নরম, নমনীয়, স্থিতিস্থাপক |
| ধাত্র | ক্যালসিয়াম লবণ জমা, শক্ত | কনড্রিন, হালকা নীল |
| রং | সাদাটে | সাদা, নীলাভ, চকচকে |
| উদাহরণ | ফিমার, করোটি | কানের পিনা, নাক |
উদাহরণ: কানের পিনা বাঁকিয়ে ছেড়ে দিলে আবার আগের আকারে ফিরে আসে, কিন্তু কনুইয়ের উপরের হাড় বাঁকানো যায় না। কেন? পিনা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি, যার ধাত্র কনড্রিন নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। হাড়ের ধাত্রে ক্যালসিয়াম জমা থাকায় তা শক্ত ও অনমনীয়।
সাধারণ ভুল হলো তরুণাস্থিকে শুধু "নরম হাড়" ভাবা। এটি আলাদা ধরনের যোজক টিস্যু, যার ধাত্র কনড্রিন, আর এর কাজ নমনীয়তা দেওয়া ও সন্ধির ঘর্ষণ কমানো।
মনে রাখো: তরুণাস্থি নরম, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক যোজক টিস্যু, যার ধাত্র কনড্রিন ও আবরণ পেরিকনড্রিয়াম; কানের পিনা, নাক ও অস্থিসন্ধিতে এটি থাকে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।