offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ১৩ · টপিক ৭

অর্ধপরিবাহী ও সমন্বিত বর্তনী

  • এন-টাইপ অর্ধপরিবাহী
  • পি-টাইপ অর্ধপরিবাহী

পড়ার নোট

আধুনিক সভ্যতা ইলেকট্রনিকসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আর ইলেকট্রনিকসের ভিত্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর (অর্ধপরিবাহী)। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর সিলিকন। সিলিকন পরমাণুর শেষ কক্ষপথে চারটি ইলেকট্রন থাকে। কেলাসে প্রতিটি পরমাণু চারটি প্রতিবেশী পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন ভাগ করে নেয়, ফলে প্রতিটির শেষ কক্ষপথে আটটি ইলেকট্রন হয় এবং পরমাণুগুলো স্থিতিশীল থাকে।

এ অবস্থায় ইলেকট্রন পরমাণুর সাথে আটকে থাকে। তাপমাত্রা বাড়ালে এক-দুটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে সেমিকন্ডাক্টর খানিকটা পরিবাহীর মতো কাজ করে, কিন্তু ব্যবহারের জন্য এটি তেমন উপযোগী নয়। তাই এতে অন্য পরমাণু মেশানো হয়।

n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর

সিলিকন কেলাসে ফসফরাসের মতো পরমাণু মেশানো হয়, যার শেষ কক্ষপথে পাঁচটি ইলেকট্রন। পঞ্চম ইলেকট্রনটি বন্ধনে লাগে না, তাই বাড়তি থাকে এবং মুক্ত ইলেকট্রনের মতো ঘুরে বেড়ায়। ফসফরাস পরমাণু হয় পজিটিভ আয়ন। এভাবে মুক্ত ইলেকট্রন চার্জ বহন করে এবং সেমিকন্ডাক্টর অনেকটা পরিবাহী হয়ে যায়। একে বলে n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর।

p ধরনের সেমিকন্ডাক্টর

বোরনের মতো তিন ইলেকট্রনবিশিষ্ট পরমাণু মেশালে বোরনের পরমাণুতে একটি ইলেকট্রনের জায়গা ফাঁকা থাকে। প্রতিবেশী পরমাণুর ইলেকট্রন এসে সেটি পূরণ করলে সেখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। এভাবে ফাঁকা জায়গাটি পরমাণু থেকে পরমাণুতে সরে যায়। মনে হয় যেন একটি পজিটিভ চার্জের কণা ঘুরছে। একে বলে হোল। বোরন পরমাণু হয় নেগেটিভ আয়ন, আর পজিটিভ হোল পুরো কেলাসে ঘুরে চার্জ বহন করে। একে বলে p ধরনের সেমিকন্ডাক্টর।

আলাদাভাবে n ও p ধরনের সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার তেমন ছিল না। কিন্তু দুটি জুড়ে দেওয়ার পরই ডায়োড, ট্রানজিস্টর ও ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের যুগ শুরু হয়।

মনে রাখো: পাঁচ ইলেকট্রনের পরমাণু মেশালে n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর (মুক্ত ইলেকট্রন চার্জ বহন করে), তিন ইলেকট্রনের পরমাণু মেশালে p ধরনের (পজিটিভ হোল চার্জ বহন করে)।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

এই টপিকের পার্থক্য

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বিশুদ্ধ সিলিকন (Silicon) ক্রিস্টালের পরিবাহিতা বৃদ্ধির জন্য এতে ত্রিযোজী অপদ্রব্য হিসেবে বোরন (Boron) পরমাণু মিশিয়ে ডোপায়ন করা হলো। এর ফলে উৎপন্ন p-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধান আধান বাহক (majority charge carriers) কী এবং পুরো ক্রিস্টালটির সামগ্রিক নিট চার্জ কত?

    1. ক

      প্রধান আধান বাহক হোল এবং সামগ্রিক নিট চার্জ শূন্য (তড়িৎ নিরপেক্ষ)

    2. খ

      প্রধান আধান বাহক হোল এবং সামগ্রিক নিট চার্জ ধনাত্মক

    3. গ

      প্রধান আধান বাহক ইলেকট্রন এবং সামগ্রিক নিট চার্জ ঋণাত্মক

    4. ঘ

      প্রধান আধান বাহক ইলেকট্রন এবং সামগ্রিক নিট চার্জ শূন্য (তড়িৎ নিরপেক্ষ)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) প্রধান আধান বাহক হোল এবং সামগ্রিক নিট চার্জ শূন্য (তড়িৎ নিরপেক্ষ)

    1. চতুর্যোজী সিলিকনে ত্রিযোজী বোরন ডোপায়ন করলে সমযোজী বন্ধনে একটি ইলেকট্রনের ঘাটতির কারণে প্রচুর সংখ্যক হোল সৃষ্টি হয়, তাই p-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে প্রধান আধান বাহক হলো ধনাত্মক হোল।
    2. ডোপায়নের পূর্বে ও পরে প্রতিটি সিলিকন ও বোরন পরমাণুতে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে, ফলে কোনো অতিরিক্ত আধান তৈরি হয় না এবং ক্রিস্টালটি সামগ্রিকভাবে তড়িৎ নিরপেক্ষ (নিট চার্জ শূন্য) থাকে।
  2. তৈরি অর্ধপরিবাহীটিতে— i. ফসফরাসের পঞ্চম যোজ্যতা ইলেকট্রন তড়িৎ পরিবহনে অংশ নিতে পারে; ii. ইলেকট্রন সংখ্যাগরিষ্ঠ আধানবাহক হয়; iii. হোল সংখ্যাগরিষ্ঠ আধানবাহক হয়। নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও iii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i, ii ও iii

    4. ঘ

      i ও ii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i ও ii

    1. ফসফরাসের পাঁচটি যোজ্যতা ইলেকট্রনের চারটি সমযোজী বন্ধনে অংশ নেয়। পঞ্চমটি সহজে মুক্ত হয়ে তড়িৎ পরিবহনে অংশ নিতে পারে।
    2. এতে এন-টাইপ অর্ধপরিবাহী তৈরি হয়, যার সংখ্যাগরিষ্ঠ আধানবাহক ইলেকট্রন। তাই i ও ii সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো