পড়ার নোট
চুম্বক লোহাজাতীয় পদার্থকে আকর্ষণ করে; চুম্বক ও লোহার মাঝে কিছু না থাকলেও একটি অদৃশ্য বল লোহাকে টেনে আনে। লোহা, কোবাল্ট ও নিকেল এই তিনটি ধাতুর বিশেষ চৌম্বকীয় ধর্ম আছে।
চুম্বকের মেরু
প্রতিটি চুম্বকের দুটি মেরু থাকে। একটি চুম্বককে মুক্তভাবে ঝুলিয়ে দিলে সেটি উত্তর-দক্ষিণ বরাবর থামে। যে প্রান্ত উত্তর দিকে থাকে তাকে উত্তর মেরু বা উত্তরসন্ধানী মেরু (N), আর যে প্রান্ত দক্ষিণ দিকে থাকে তাকে দক্ষিণ মেরু বা দক্ষিণসন্ধানী মেরু (S) বলে। এমন হয় কারণ পৃথিবীর একটি চৌম্বক ক্ষেত্র আছে, আর ঝোলানো চুম্বক সেই ক্ষেত্র বরাবর নিজেকে সাজিয়ে নেয়। কম্পাসের কাঁটা আসলে একটি ছোট চুম্বক, তাই এটি দিক নির্দেশ করে।
আকর্ষণ ও বিকর্ষণ
- সমমেরু (N-N বা S-S) পরস্পরকে বিকর্ষণ করে।
- বিপরীত মেরু (N-S) পরস্পরকে আকর্ষণ করে।
চৌম্বক ক্ষেত্র ও বলরেখা
চুম্বকের চারপাশে যে অঞ্চলে তার প্রভাব অনুভূত হয়, তাকে চৌম্বক ক্ষেত্র বলে। ক্ষেত্রের দিক বরাবর কল্পিত রেখাগুলো চৌম্বক বলরেখা; চুম্বকের বাইরে এগুলো উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুর দিকে যায়। চৌম্বক বলরেখা সব সময় আবদ্ধ বা বদ্ধ রেখা।
চৌম্বকত্ব ও বিদ্যুৎপ্রবাহকে আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হলেও এরা একই শক্তির ভিন্ন রূপ: বিদ্যুৎপ্রবাহ চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে, আবার চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি করে।
উদাহরণ: একটি দণ্ড চুম্বকের দুই প্রান্তে কোনো চিহ্ন নেই। কোন প্রান্ত উত্তর মেরু, কীভাবে বুঝবে?
- চুম্বকটিকে সুতায় মুক্তভাবে ঝোলাও; যে প্রান্ত উত্তর দিকে থামবে, সেটি উত্তর মেরু।
- অথবা একটি চিহ্নিত চুম্বকের উত্তর মেরু কাছে আনো; যে প্রান্ত বিকর্ষিত হবে, সেটিও উত্তর মেরু।
লক্ষ করো, আকর্ষণ দিয়ে মেরু চেনা নিশ্চিত নয়, কারণ চুম্বক সাধারণ লোহাকেও আকর্ষণ করে; বিকর্ষণই মেরু চেনার নিশ্চিত পরীক্ষা।
মনে রাখো: চুম্বকের উত্তর ও দক্ষিণ দুটি মেরু; সমমেরু বিকর্ষণ ও বিপরীত মেরু আকর্ষণ করে, আর মুক্তভাবে ঝোলানো চুম্বক পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের কারণে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর থাকে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।