পড়ার নোট
একটি চার্জের চারপাশে যেমন তড়িৎ ক্ষেত্র থাকে, তেমনি একটি তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে তারের চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়। একে বিদ্যুতের চৌম্বক ক্রিয়া বলে।
পরীক্ষা
একটি কার্ডবোর্ডের মাঝখান দিয়ে একটি খাড়া তার ঢোকাও এবং কার্ডের উপর তারের চারপাশে কয়েকটি ছোট কম্পাস রাখো।
- প্রবাহ নেই (): সব কম্পাসের কাঁটা উত্তর-দক্ষিণ বরাবর থাকে।
- মোটামুটি শক্তিশালী প্রবাহ দিলে: কাঁটাগুলো তারকে ঘিরে একটির পেছনে আরেকটি বৃত্তাকারে সারিবদ্ধ হয়। অর্থাৎ তারকে ঘিরে একটি বৃত্তাকার চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
- প্রবাহ বন্ধ করলে: কাঁটাগুলো আবার উত্তর-দক্ষিণ বরাবর ফিরে যায়।
- প্রবাহের দিক উল্টালে: কাঁটাগুলো আবার বৃত্তাকারে সাজে, কিন্তু উল্টো দিকে।
প্রবাহ যত বেশি, চৌম্বক ক্ষেত্র তত শক্তিশালী।
ডান হাতের নিয়ম
ডান হাত দিয়ে তারটি এমনভাবে মুঠো করে ধরো যেন বুড়ো আঙুল বিদ্যুৎপ্রবাহের দিক দেখায়; তাহলে বাকি আঙুলগুলো যেদিকে বাঁকানো, চৌম্বক বলরেখা সেদিকে তারকে ঘিরে থাকে।
চৌম্বক ও বৈদ্যুতিক বলরেখার পার্থক্য
চৌম্বক বলরেখা সব সময় আবদ্ধ, অর্থাৎ শুরু বা শেষ নেই; কিন্তু বৈদ্যুতিক বলরেখা ধনাত্মক চার্জে শুরু হয়ে ঋণাত্মক চার্জে শেষ হয়।
উদাহরণ: একটি খাড়া তারে বিদ্যুৎ বইয়ের পাতার ভেতর থেকে উপরের দিকে, অর্থাৎ তোমার দিকে আসছে। উপর থেকে তাকালে চৌম্বক বলরেখার দিক ঘড়ির কাঁটার দিকে, না বিপরীত দিকে?
ডান হাতের বুড়ো আঙুল তোমার দিকে রাখলে বাকি আঙুলগুলো ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে বাঁকে। তাই বলরেখা ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে। প্রবাহ উল্টে পাতার ভেতরের দিকে গেলে বলরেখা হবে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে চৌম্বক ক্ষেত্র শুধু চুম্বক থেকেই আসে। যেকোনো বিদ্যুৎপ্রবাহী তার নিজের চারপাশে চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে।
মনে রাখো: বিদ্যুৎপ্রবাহী তারের চারপাশে বৃত্তাকার চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি হয়; ডান হাতের বুড়ো আঙুল প্রবাহের দিকে রাখলে বাঁকানো আঙুল ক্ষেত্রের দিক দেখায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।