offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ৩

তড়িৎ প্রতীক: সুইচ (একমুখী, দ্বিমুখী), কোষ, ব্যাটারি, স্থির রোধ, পরিবর্তনশীল রোধ, তড়িৎ উৎস (এসি ও ডিসি), ফিউজ, লোড, অ্যামিটার, ভোল্টমিটার, গ্যালভানোমিটার, ভূ-সংযোগ, আড়াআড়ি তার, প্যাঁচানো তার, ধারক

পড়ার নোট

তড়িৎ প্রতীক হলো বর্তনীর যন্ত্র ও সংযোগ বোঝানোর নির্দিষ্ট চিহ্ন। আসল যন্ত্রের ছবি না এঁকে এসব চিহ্ন ব্যবহার করলে কোন অংশ কোথায় যুক্ত আছে তা সহজে বোঝা যায়। যেমন, বাড়ির একটি বাতির বর্তনীতে উৎস, সুইচ ও বাতির অবস্থান প্রতীক দিয়ে দেখানো যায়।

  • একমুখী সুইচ একটি পথ খুলে বা বন্ধ করে; প্রতীকে ফাঁক ও চলমান সংযোগদণ্ড থাকে। দ্বিমুখী সুইচ একটি সাধারণ প্রান্তকে দুটি প্রান্তের যেকোনো একটির সঙ্গে যুক্ত করে; প্রতীকে দুটি বিকল্প সংযোগ দেখানো হয়।
  • কোষ তড়িৎ শক্তির উৎস; একটি লম্বা ও একটি ছোট সমান্তরাল রেখা দিয়ে দেখানো হয়। লম্বাটি ধনাত্মক, ছোটটি ঋণাত্মক প্রান্ত। ব্যাটারি একাধিক কোষের সমন্বয়; একাধিক লম্বা-ছোট রেখার জোড়া থাকে।
  • স্থির রোধ নির্দিষ্ট রোধ দেয়; আয়তক্ষেত্র দিয়ে বোঝানো যায়। পরিবর্তনশীল রোধ বা রিওস্টেট-এর রোধ পরিবর্তন করা যায়; রোধের চিহ্নে তীর থাকে।
  • এসি তড়িৎ উৎস পর্যায়ক্রমে প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে; বৃত্তে তরঙ্গচিহ্ন থাকে। ডিসি তড়িৎ উৎস একমুখী প্রবাহ দেয়; ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত চিহ্নিত থাকে। কোষ ডিসি উৎসের উদাহরণ।
  • ফিউজ অতিরিক্ত প্রবাহে গলে বর্তনী বিচ্ছিন্ন করে; প্রতীকে ছোট আয়তক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে রেখা থাকে। লোড তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করে; বাতির জন্য বৃত্তের মধ্যে ক্রসচিহ্ন ব্যবহার করা হয়।
  • অ্যামিটার প্রবাহমাত্রা মাপে, শ্রেণিতে যুক্ত হয়; বৃত্তে A থাকে। ভোল্টমিটার বিভব পার্থক্য মাপে, সংশ্লিষ্ট অংশের সমান্তরালে যুক্ত হয়; বৃত্তে V থাকে। গ্যালভানোমিটার অল্প প্রবাহ শনাক্ত করে; বৃত্তে G থাকে।
  • ভূ-সংযোগ মাটির সঙ্গে সংযোগ বোঝায়; একটি রেখার শেষে ক্রমশ ছোট তিনটি সমান্তরাল রেখা থাকে। এটি নিরাপত্তার কাজে এবং শূন্য বিভবের নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • আড়াআড়ি বা সংযোগহীন তার পরস্পর অতিক্রম করলেও বৈদ্যুতিকভাবে যুক্ত নয়; সংযোগবিন্দু থাকে না। সংযুক্ত তার-এর মিলনস্থানে ভরাট বিন্দু থাকে। কুণ্ডলী প্যাঁচানো তার; পরপর বাঁকা পাক দিয়ে দেখানো হয়।
  • ধারক আধান সঞ্চয় করে; সমান দৈর্ঘ্যের দুটি সমান্তরাল রেখা দিয়ে দেখানো হয়।

একটি সাধারণ ভুল হলো তারের প্রতিটি ছেদকে সংযোগ ভাবা। এতে আঁকা বর্তনীর অর্থ বদলে যায়। আর ধারকের সমান রেখা ও কোষের অসমান রেখা আলাদা করে চিনতে হবে। প্রতীক চেনার পাশাপাশি তারের পথ অনুসরণ করলেই বোঝা যায় কোনো যন্ত্র শ্রেণিতে নাকি সমান্তরালে যুক্ত।

মনে রাখো: সঠিক প্রতীকের সঙ্গে সঠিক সংযোগ দেখালেই বর্তনীর অর্থ স্পষ্ট হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • টর্চের বর্তনী ও সুইচের কাজচালিয়ে দেখো

    একটি টর্চলাইটে ১টি ১.৫ V কোষ, একটি একমুখী সুইচ, একটি ৩ Ω বাল্ব ও একটি অ্যামিটার শ্রেণি সমবায়ে যুক্ত আছে। সুইচটি অন (বন্ধ) অবস্থায় বর্তনীতে ০.৫ A তড়িৎ প্রবাহিত হচ্ছে এবং বাল্বটি টিমটিম করে জ্বলছে। এখন যদি সুইচটি অফ (খোলা) করা হয়, তবে অ্যামিটারে কত অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ দেখাবে?

এই টপিকের পার্থক্য

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো