পড়ার নোট
বায়ুমণ্ডলীয় চাপের পরিবর্তন আবহাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। আশপাশের তুলনায় কোনো অঞ্চলের বায়ুচাপ কম হলে তাকে নিম্নচাপ এলাকা এবং বেশি হলে উচ্চচাপ এলাকা বলা হয়। এখানে কম বা বেশি কথাটি অন্য এলাকার চাপের সঙ্গে তুলনা করে বুঝতে হয়; নিম্নচাপ মানে সেখানে বাতাস নেই, এমন নয়।
দুই অঞ্চলের চাপ আলাদা হলে বেশি চাপের অঞ্চল থেকে কম চাপের অঞ্চলের দিকে বাতাস প্রবাহিত হয়। এতে চাপের পার্থক্য কমার প্রবণতা থাকে। সমুদ্রের কোনো অঞ্চলে নিম্নচাপ তৈরি হলে আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে আসে। উপযুক্ত অবস্থায় এই প্রবাহে ঘূর্ণি তৈরি হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে প্রতিটি নিম্নচাপই ঘূর্ণিঝড় হয় না।
বাতাস উত্তপ্ত হলে প্রসারিত হয় এবং ঘনত্ব কমে। উষ্ণ বাতাস ওপরে ওঠার সঙ্গে নিচের অঞ্চলে নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে ঠান্ডা হলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ তৈরি করে; অনুকূল অবস্থায় বৃষ্টি হয়। উচ্চচাপ অঞ্চলে নিচে নামা বাতাস সাধারণত মেঘ তৈরি কমাতে সাহায্য করে, তাই পরিষ্কার আবহাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
জলীয় বাষ্প হলো পানির গ্যাসীয় অবস্থা। এটি বাতাসকে সব সময় ভারী করে—এ ধারণা ভুল। পানির আপেক্ষিক আণবিক ভর 18, নাইট্রোজেনের 28 এবং অক্সিজেনের 32; আপেক্ষিক ভরের কোনো একক নেই। একই তাপমাত্রা ও চাপে বাতাসের ভারী অণুর কিছু অংশের জায়গায় হালকা পানির অণু থাকলে আর্দ্র বাতাসের ঘনত্ব কম হয়। এই কারণে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি চাপ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে বর্ষা বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় আবহাওয়ার খবরে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কথা শোনা যায়। ব্যারোমিটার বায়ুচাপ মাপে; এর পাঠ সময়ের সঙ্গে কমতে থাকলে বৃষ্টি বা ঝড়ের সম্ভাবনার সংকেত পাওয়া যায়। চাপ দ্রুত অনেক কমে যাওয়া বিশেষভাবে লক্ষণীয়। চাপ বাড়া সাধারণত শুষ্ক ও পরিষ্কার আবহাওয়ার অনুকূল সংকেত।
সাধারণ ভুল হলো ব্যারোমিটারের একটি কম পাঠ দেখেই নিশ্চিত বৃষ্টি বা ঘূর্ণিঝড় ঘোষণা করা। চাপ কত দ্রুত বদলাচ্ছে এবং আশপাশের অবস্থাও বিবেচ্য। চাপের পরিবর্তন সম্ভাবনা বুঝতে সাহায্য করে, একা নিশ্চয়তা দেয় না।
মনে রাখো: বাতাস উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে যায়, আর চাপের পরিবর্তন আবহাওয়ার সম্ভাব্য পরিবর্তনের সংকেত দেয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।