পড়ার নোট
প্লাজমা হলো পদার্থের এমন একটি অবস্থা, যেখানে মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়নের মিশ্রণ থাকে। কঠিন, তরল ও গ্যাসের বাইরে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে একে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বলা হয়। দেখতে গ্যাসের মতো হলেও সাধারণ গ্যাসের সব ধর্ম প্লাজমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
একটি নিরপেক্ষ পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন থাকে, বাইরে ততটি ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন থাকে। সমান পরিমাণ বিপরীত চার্জ পরস্পরকে ভারসাম্য করে বলে পরমাণুর মোট চার্জ শূন্য হয়। বিশেষ অবস্থায় পরমাণু থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন আলাদা হয়ে যেতে পারে। ইলেকট্রন হারানো পরমাণু তখন ধনাত্মক আয়ন, অর্থাৎ চার্জযুক্ত কণায় পরিণত হয়। এই পরিবর্তনকে আয়নিত হওয়া বলা হয়।
আলাদা হওয়া ইলেকট্রন হারিয়ে যায় না; আয়নগুলোর সঙ্গে মিশে মুক্তভাবে চলতে পারে। এই চলমান চার্জযুক্ত কণার কারণে প্লাজমা তড়িৎ পরিবহন করতে পারে। সাধারণ গ্যাসের নির্দিষ্ট আকার নেই। প্লাজমারও কঠিনের মতো নিজস্ব স্থির আকার নেই, তবে চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে তার আকৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
গ্যাসকে প্রচণ্ড উত্তপ্ত করে প্লাজমা তৈরি করা যায়। আবার শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দিয়েও গ্যাসকে আয়নিত করা সম্ভব। তাই প্লাজমা তৈরির একমাত্র উপায় উত্তপ্ত করা—এমন ধারণা ঠিক নয়। কোনো গ্যাস শুধু উষ্ণ হলেই তাকে প্লাজমা বলা যাবে না; মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়নের উপস্থিতিই এখানে মূল বিষয়।
বাংলাদেশের ঘর বা দোকানের টিউবলাইট এবং নিওন বিজ্ঞাপনের ভেতরে প্লাজমা তৈরি হয়। বর্ষাকালে বজ্রপাতের বিজলির আলোও প্লাজমার উদাহরণ। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রের পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় থাকে; মহাবিশ্বের সাধারণ পদার্থের মধ্যে এই অবস্থা অত্যন্ত ব্যাপক।
হালকা নিউক্লিয়াস একত্র করে শক্তি উৎপাদনের ফিউশন পদ্ধতির গবেষণায় প্লাজমা গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভারী নিউক্লিয়াস ভাঙার ফিশান পদ্ধতি থেকে আলাদা।
সাধারণ ভুল হলো প্লাজমার প্রতিটি কণাকে ধনাত্মক ভাবা। এতে ধনাত্মক আয়নের পাশাপাশি ঋণাত্মক মুক্ত ইলেকট্রনও থাকে।
মনে রাখো: প্লাজমার স্বতন্ত্র ধর্মের মূল কারণ হলো মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়নের উপস্থিতি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।