পড়ার নোট
ঘর্ষণের একদিকে অনেক অসুবিধা, অন্যদিকে ঘর্ষণ ছাড়া আমাদের জীবন অচল। তাই ঘর্ষণকে বলা হয় একটি প্রয়োজনীয় উপদ্রব।
উপদ্রব কেন
- শক্তির অপচয়: ঘর্ষণে অপ্রয়োজনীয় তাপ তৈরি হয়ে শক্তি নষ্ট হয়। গাড়ির ইঞ্জিনের সিলিন্ডারে পিস্টনের ওঠানামায় ঘর্ষণে তাপ হয়, তাই ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা লাগে।
- বাড়তি জ্বালানি: গাড়ি, বিমান, জাহাজ ও সাবমেরিনকে ঘর্ষণ বল পরাস্ত করে এগোতে হয়, তাই অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয়।
- ক্ষয়: ঘর্ষণে যন্ত্রাংশ, জুতার তলা ও টায়ার ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।
প্রয়োজনীয় কেন
ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা:
- হাঁটতে পারি: স্থিতি ঘর্ষণে জুতার তলা মাটি আঁকড়ে ধরে।
- গাড়ি চালাতে ও থামাতে পারি: টায়ার ও রাস্তার ঘর্ষণ এবং ব্রেকের ঘর্ষণে।
- লিখতে পারি: কাগজ ও পেন্সিল বা কলমের ঘর্ষণে দাগ পড়ে।
- দালান গড়তে পারি: ইট, বালু ও সিমেন্টের কণা ঘর্ষণে একে অপরকে ধরে রাখে।
- প্যারাস্যুট দিয়ে নিরাপদে নামতে পারি: বাতাসের ঘর্ষণ পতনের বেগ কমায়।
- শীতে হাত গরম করতে পারি: দুই হাত ঘষলে ঘর্ষণে তাপ হয়।
ঘর্ষণ না থাকলে আমরা এসব প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারতাম না।
উদাহরণ: কল্পনা করো, এক দিনের জন্য পৃথিবী থেকে ঘর্ষণ উধাও হয়ে গেল।
- ঘুম থেকে উঠে মেঝেতে পা রাখলেই পিছলে পড়বে; সামনে এগোতে মাটিকে পেছনে ধাক্কা দেওয়া যাবে না।
- টেবিলের বই সামান্য ঢালেই গড়িয়ে পড়বে।
- কলম কাগজে দাগ ফেলবে না, গিঁট দেওয়া দড়ি খুলে যাবে।
- রাস্তার গাড়ি চলা শুরুই করতে পারবে না, আর চলন্ত গাড়ি ব্রেকে থামবে না।
- আবার ইঞ্জিন গরম হবে না, যন্ত্র ক্ষয় হবে না।
এ থেকে বোঝা যায় ঘর্ষণের সুবিধাগুলো অসুবিধার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি; তাই আমরা ঘর্ষণ বাদ না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কোথাও কমাই, কোথাও বাড়াই।
সাধারণ ভুল হলো ঘর্ষণকে শুধুই শত্রু ভাবা। যন্ত্রের ভেতরে এটি কমাতে হয়, কিন্তু হাঁটা, লেখা ও ব্রেকের জন্য এটি অপরিহার্য।
মনে রাখো: ঘর্ষণ তাপ তৈরি করে শক্তি অপচয় করে ও জ্বালানি বাড়ায়, কিন্তু হাঁটা, যানবাহন চালানো-থামানো, লেখা ও দালান নির্মাণ এর উপর নির্ভর করে; তাই ঘর্ষণ একটি প্রয়োজনীয় উপদ্রব।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।