offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ১ · টপিক ১

একুশ শতক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

পড়ার নোট

গত শতাব্দীতে কৃষি, খনিজসম্পদ, শক্তি ও শিল্পকে সম্পদ ধরা হতো। একুশ শতকে প্রধান সম্পদ হলো জ্ঞান, আর সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বড়ো সম্পদ, কারণ মানুষ জ্ঞান অন্বেষণ, ধারণ ও ব্যবহার করতে পারে। তাই অর্থনীতি এখন জ্ঞানভিত্তিক।

এ শতকে বিশ্বায়ন (Globalization) ও আন্তর্জাতিকতা (Internationalization) দ্রুত বাড়ছে, আর এর পেছনের চালিকাশক্তি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। একটি দেশের ভৌগোলিক সীমানা এখন তার মানুষ যেখানে আছে সেখানেই ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি বিদেশে থাকেন, তাঁদের বসবাসের জায়গা যেন ছোট্ট বাংলাদেশ। শিল্প বিপ্লবে যারা এগিয়ে ছিল তারা এক সময় বিশ্ব শাসন করেছে; এখন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার বিপ্লবে যারা এগিয়ে থাকবে তারাই চালিকাশক্তি হবে।

এ যুগে বেঁচে থাকার জন্য দরকার কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দক্ষতা:

  • পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব ও যোগাযোগ দক্ষতা
  • সুনাগরিকত্ব
  • সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতা
  • বিশ্লেষণী চিন্তন দক্ষতা (critical thinking)
  • সৃজনশীলতা
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে পারদর্শিতা

আইসিটিতে পারদর্শিতা এখন সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে অনেক কাজ সহজে ও দ্রুত করা যাচ্ছে। যে শিক্ষার্থী এই প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত নয়, সে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংযোজন ও মূল্যায়ন করে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে পারবে না; ফলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে তার জায়গা হবে না।

এই পরিবর্তনটি ইতিহাসের ধারায় বোঝা সহজ। একসময় মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভর করত। যন্ত্র ও হাতিয়ার আবিষ্কার করে মানুষ সে নির্ভরতা কমিয়েছে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের পর যন্ত্র ও প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। একুশ শতকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি প্রাধান্য পেতে শুরু করায় ক্ষমতার তেমনই একটি পালাবদল ঘটছে।

একটি সহজ উদাহরণ: স্কুলের প্রকল্পের জন্য একজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে নিজের এলাকার বন্যা নিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য খুঁজল, তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখল কোনটি নির্ভরযোগ্য, তারপর একটি ছোট প্রতিবেদন বানিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগ করল। এখানে সে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে নতুন কিছু তৈরি করেছে, সহযোগিতা করেছে এবং যোগাযোগ দক্ষতাও কাজে লাগিয়েছে।

একটি সাধারণ ভুল হলো মনে করা যে আইসিটি দক্ষতা মানে শুধু ফোন চালানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা। আসল দক্ষতা হলো প্রযুক্তি দিয়ে তথ্য খুঁজে, যাচাই করে ও কাজে লাগিয়ে সমস্যার সমাধান করা।

মনে রাখো: একুশ শতকের সম্পদ জ্ঞান, আর সেই জ্ঞান তৈরি ও কাজে লাগানোর চাবি হলো আইসিটি দক্ষতা।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. একুশ শতকে টিকে থাকার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জ্ঞান এবং দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা দুটি মূল কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    একুশ শতকের বৈশ্বিক অর্থনীতি জ্ঞানভিত্তিক এবং এখানে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে মানুষের মেধা ও তথ্য ব্যবহারের দক্ষতাই প্রধান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ যুগে টিকে থাকতে হলে প্রথমত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রয়োগের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত বিশ্বায়নের ফলে সৃষ্ট বহুভাষিক ও বহুজাতিক কর্মক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে।

    1. পাঠ্যপুস্তক অনুসারে একুশ শতকের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, যেখানে আন্তর্জাতিকতা ও বিশ্বায়নের যুগে ভৌগোলিক সীমারেখা মুছে যাচ্ছে।
    2. যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ওপর ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নির্ভরশীল, তাই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন করা এখন অস্তিত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।
  2. উক্ত স্তম্ভগুলোর সমন্বিত বাস্তবায়নের ফলে দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত জাতীয় রূপান্তর হলো—

    i. প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়া ও সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানি কমা

    ii. তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি সুদৃঢ় হওয়া

    iii. ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নাগরিক সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়া

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i, ii ও iii

    1. ডিজিটাল সরকারের স্তম্ভটি ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি দূর করে (বিবৃতি i)।
    2. মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আইসিটি শিল্পের বিকাশ একুশ শতকের উপযোগী দক্ষ কর্মী তৈরি করে দেশকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেয় (বিবৃতি ii)।
    3. জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রান্তিক চরাঞ্চলের মানুষের কাছেও সরকারি সেবা ঘরে বসেই পৌঁছানো সম্ভব হয় (বিবৃতি iii)। ফলে তিনটি বিবৃতিই সঠিক।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো