offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৯ · টপিক ২০

পানি দূষণ

  • পানির আর্সেনিক দূষণ
  • অন্যান্য দূষণ

পড়ার নোট

আর্সেনিক দূষণ

পানি দূষণ হলো পানিতে এমন পদার্থের প্রবেশ বা সঞ্চয়, যা পানিকে জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর বা ব্যবহারের অনুপযোগী করে। মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহের বড় অংশ পানি। তাই ভূপৃষ্ঠের পানি ও ভূগর্ভস্থ পানি—দুটির দূষণই গুরুত্বপূর্ণ।

আর্সেনিক দূষণ হলো পানিতে বিষাক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতিজনিত দূষণ। ভূগর্ভের মাটি ও শিলার আর্সেনিক পানিতে মিশতে পারে। বাংলাদেশে কিছু এলাকার নলকূপের পানিতে এ সমস্যা দেখা যায়। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও খনন ভূগর্ভের পরিবেশ বদলে দূষণের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নলকূপ নিজে আর্সেনিক তৈরি করে না।

আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে ত্বকে দাগ, ত্বকের রোগ ও ঘা হতে পারে। গুরুতর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মধ্যে ক্যান্সারও রয়েছে। অতিরিক্ত বিষক্রিয়া প্রাণঘাতী হতে পারে। পানি স্বচ্ছ ও গন্ধহীন হলেও আর্সেনিক থাকতে পারে, তাই চোখে দেখে এটি শনাক্ত করা যায় না।

ফোটানো জীবাণু নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগলেও দ্রবীভূত আর্সেনিক দূর করে না। বরং পানি বাষ্প হয়ে কমে গেলে অবশিষ্ট পানিতে আর্সেনিকের ঘনমাত্রা বাড়তে পারে। তাই আর্সেনিকের সমস্যা ও জীবাণুর সমস্যা একই শোধনপদ্ধতিতে সমাধান হয় ধরে নেওয়া ভুল।

অন্যান্য উৎস ও ক্ষতি

গৃহস্থালির আবর্জনা, রান্নাঘরের বর্জ্য, সাবান-ডিটারজেন্ট এবং পয়োবর্জ্য নর্দমা দিয়ে জলাশয়ে পৌঁছায়। হাসপাতালের বর্জ্য থেকেও জীবাণু ও ক্ষতিকর পদার্থ আসে। পলিথিন ও মোড়ক সরাসরি পানিতে ফেলা হলে জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়।

কৃষিজমির সার ও কীটনাশক বৃষ্টির পানির সঙ্গে পুকুর, খাল বা নদীতে মেশে। অতিরিক্ত পুষ্টি শৈবালের বৃদ্ধি বাড়াতে পারে। জৈব বর্জ্য ও মৃত জীবের পচনে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গেলে মাছের বেঁচে থাকা কঠিন হয়। সব দূষক অবশ্য একইভাবে অক্সিজেন কমায় না।

শিল্পকারখানার বর্জ্য থেকে এসিড, রং ও অন্যান্য রাসায়নিক পানিতে যায়। সিসা, ক্যাডমিয়াম, পারদ ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু বিষক্রিয়া ও গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে। যানবাহনের তেল ও জ্বালানিও নর্দমা বেয়ে পানিতে পৌঁছায়। এসিড বৃষ্টি জলাশয়ের অম্লত্ব বাড়িয়ে জলজ জীবের ক্ষতি করে।

বাংলাদেশের একটি পুকুরের পাশে ধানক্ষেত, বসতবাড়ি ও রাস্তা থাকলে একই পানিতে একাধিক উৎসের দূষক আসতে পারে। ফলে শুধু আবর্জনা তুলে ফেললেই সব দূষণ দূর হয় না। দূষণের উৎস এবং পানিতে কী আছে—দুটিই জানা জরুরি।

মনে রাখো: পানির দূষক দৃশ্যমান বা অদৃশ্য হতে পারে, এবং দূষক অনুযায়ী তার ক্ষতি ও শোধনপদ্ধতি আলাদা।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো