পড়ার নোট
পানি চক্র হলো প্রকৃতিতে জলাশয়, বায়ুমণ্ডল, ভূমি ও জীবজগতের মধ্যে পানির অবিরাম চলাচল। এই চলাচলে পানি কখনো তরল, কখনো বাষ্প, আবার কখনো বরফ অবস্থায় থাকে। একই পানি বিভিন্ন পথে ঘুরে আবার জলাশয়ে ফিরতে পারে। তাই পানি চক্রের নির্দিষ্ট শুরু বা শেষ নেই।
সূর্যের তাপ এই চক্র চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমুদ্র, নদী, খাল, বিল ও পুকুরের উপরিভাগ থেকে পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে যায়। তরল পানি বাষ্পে পরিণত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। মাটির আর্দ্রতা থেকেও পানি বাষ্প হতে পারে। উদ্ভিদও পাতার মাধ্যমে জলীয় বাষ্প ছাড়ে।
জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র পানিকণায় পরিণত হওয়াকে ঘনীভবন বলে। বায়ুমণ্ডলে এই ক্ষুদ্র কণা জমে মেঘ তৈরি করে। মেঘ শুধু অদৃশ্য জলীয় বাষ্প নয়; এতে ক্ষুদ্র পানিকণা বা বরফকণা থাকে।
মেঘের কণা বড় হয়ে নিচে পড়লে বৃষ্টিপাত ঘটে। পরিবেশের অবস্থা অনুযায়ী পানি বৃষ্টি, তুষার বা শিলারূপে পড়তে পারে। বাংলাদেশে মৌসুমি বৃষ্টি নদী, পুকুর এবং কৃষিজমিতে পানির গুরুত্বপূর্ণ জোগান দেয়।
বৃষ্টির পর পানির সবটুকু একই পথে যায় না। কিছু পানি ভূমির ওপর দিয়ে খাল ও নদীতে যায়, পরে সমুদ্রে পৌঁছায়। কিছু নিচু জমি ও জলাশয়ে জমা থাকে। অন্য অংশ মাটির ভেতর প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ পানি হিসেবে সঞ্চিত হয়। এই পানি নলকূপের মাধ্যমে তোলা হয়।
মানুষ ও প্রাণী পানি পান করে এবং নানা কাজে ব্যবহার করে। উদ্ভিদ শিকড় দিয়ে পানি গ্রহণ করে। জীবের দেহ থেকে এবং ব্যবহারের পর পানি আবার পরিবেশে ফেরে। এরপর বাষ্পীভবন ও বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে চলাচল চলতেই থাকে।
বর্ষায় গ্রামের পুকুর ভরা এবং রোদে তার পানির স্তর কমা এই চক্রের পরিচিত অংশ। পানি চক্র মাটি আর্দ্র রাখে, ফসল ফলাতে সাহায্য করে, ভূগর্ভস্থ পানি পুনরায় পূরণ করে এবং জীবজগতের পানির সরবরাহ বজায় রাখে।
একটি সাধারণ ভুল হলো বাষ্পীভবনের সময় পানির সব দ্রবীভূত লবণও বাষ্পের সঙ্গে উঠে যায় ভাবা। সাধারণভাবে এসব লবণ থেকে যায়। তবে বাতাসের দূষক বৃষ্টিতে মিশতে পারে এবং ভূমিতে ফিরে পানি আবার দূষিত হতে পারে। তাই চক্র চললেই সব পানি নিরাপদ হয় না।
মনে রাখো: বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, বৃষ্টিপাত ও ফিরে আসার পথে প্রকৃতির পানি বারবার চলাচল করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।