offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৯ · টপিক ৮

অধিক মাত্রার এসিডিক ও ক্ষারীয় পদার্থ ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব

পড়ার নোট

গাঢ় এসিড ও গাঢ় ক্ষার অত্যন্ত ক্ষয়কারী হওয়ায় দেহ ও ব্যবহার্য পদার্থের ক্ষতি করতে পারে। সালফিউরিক ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং সোডিয়াম ও পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবহারে তাই সতর্কতা দরকার। কোনো পদার্থ উপকারী কাজে লাগে বলেই সেটি সব অবস্থায় নিরাপদ নয়।

ত্বকে লাগলে এসব রাসায়নিক পোড়া, ক্ষত ও গভীর আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। চোখে গেলে গুরুতর ক্ষতি, এমনকি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মুখে গেলে মুখ, গলা ও পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষার পিচ্ছিল মনে হয় বলে হাতে মেখে পরীক্ষা করা বিশেষভাবে ভুল; অনুভূতিটি নিরাপত্তার প্রমাণ নয়।

গাঢ় এসিড ও ক্ষার কাপড় নষ্ট করতে পারে। এসিড ধাতব পাত্র, পাইপ ও গাড়ির ধাতব অংশ ক্ষয় করতে পারে; অনুপযুক্ত ক্ষারীয় পরিষ্কারকও বিভিন্ন উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের বাড়িতে নালা বা অন্য কিছু পরিষ্কারের রাসায়নিক পানীয়ের বোতলে রাখলে ভুল করে ব্যবহারের বিপদ বাড়ে। তাই নাম লেখা উপযুক্ত পাত্রে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা দরকার।

দেহে এসিডের স্বাভাবিক ভূমিকা থাকলেও পাকস্থলীতে অতিরিক্ত এসিড জ্বালাপোড়া ও ক্ষতির কারণ হতে পারে। একইভাবে পরিবেশে এসিড-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হলেও সমস্যা হয়। কারখানার এসিডিক বা ক্ষারীয় বর্জ্য জলাশয়ের প্রকৃতি বদলে মাছ ও অন্যান্য জীবের ক্ষতি করে এবং পানির ব্যবহার সীমিত করে।

ইটভাটা ও কারখানার সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড বৃষ্টির পানিতে এসিড তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এমন বৃষ্টিতে মাটি, ফসল ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনুপযুক্ত সার ব্যবহারে মাটির এসিডিক বা ক্ষারীয় অবস্থাও বেড়ে যেতে পারে। বর্জ্য পরিশোধন, নিয়ন্ত্রিত প্রশমন ও দূষক নির্গমন কমানো এসব ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

কাজের সময় উপযুক্ত হাতমোজা ও চোখের সুরক্ষা ব্যবহার করতে হয়। লঘু করার সময় গাঢ় এসিড ধীরে পানিতে যোগ করতে হয়, এসিডে পানি ঢালতে হয় না; কাজটি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত। দেহে লাগলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে শিক্ষক বা বড়দের জানাও এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নাও।

সবল আর গাঢ়কে একই অর্থে ব্যবহার করাও ভুল: সবলতা আয়নিত হওয়ার মাত্রা, আর ঘনমাত্রা দ্রবণে পদার্থের পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

মনে রাখো: এসিডের মতো ক্ষারও গুরুতর ক্ষতি করতে পারে; পরিচিত ব্যবহার বা পিচ্ছিল অনুভূতি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো