offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১২ · টপিক ১

বংশগতির ধারণা

পড়ার নোট

মাতা-পিতার আকৃতি ও প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সন্তান-সন্ততিতে সঞ্চারিত হওয়াকে বংশগতি বলে। এখানে আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য বলতে দেহের গঠনসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য বোঝায়। প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে জীবের বিভিন্ন স্বভাব ও কার্যকলাপের বৈশিষ্ট্যও অন্তর্ভুক্ত। বংশগতির মাধ্যমে এক প্রজন্মের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের সম্পর্ক বজায় থাকে। এই নিয়ম শুধু মানুষের জন্য নয়, উদ্ভিদসহ সব জীবের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

বাংলাদেশের গ্রামের বীজতলায় ধানের বীজ বুনলে ধানের চারাই জন্মায়, পাটগাছ জন্মায় না। একইভাবে আমের আঁটি থেকে আমগাছ এবং পাটের বীজ থেকে পাটগাছ হয়। বীজের মাধ্যমে নতুন গাছে পূর্ববর্তী প্রজন্মের বংশগতির উপাদান পৌঁছায় বলে প্রজাতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। তাই ধান, আম ও পাটের উদাহরণগুলো একই প্রাকৃতিক নিয়মের প্রকাশ।

মানুষের চোখের রং, চুলের ধরন ও ত্বকের বৈশিষ্ট্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে মিল দেখা যায়। কোনো সন্তানের চুল বাবার মতো হলেও মুখের গঠনে মায়ের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। সন্তান বাবা ও মা উভয়ের কাছ থেকেই বংশগতির উপাদান পায়। এসব উপাদানের মধ্যে থাকা জিন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে সন্তানকে কেবল একজন অভিভাবকের অনুরূপ ভাবা ঠিক নয়। একই পরিবারের ভাইবোনদের মধ্যেও কিছু মিল এবং কিছু অমিল থাকতে পারে।

বংশগতি নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করে জীববিজ্ঞানের যে শাখা, তাকে বংশগতিবিদ্যা বা জেনেটিক্স বলে। এই শাখায় বৈশিষ্ট্য কীভাবে বহন হয় এবং পরবর্তী প্রজন্মে কীভাবে প্রকাশ পায়, তা অনুসন্ধান করা হয়।

নিজে বোঝার জন্য চোখের রং, চুলের ধরন ও মুখের গঠনের একটি তালিকা করো। প্রতিটির পাশে নিজের, বাবার ও মায়ের বৈশিষ্ট্য লেখো। এরপর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আলাদা করো। শুধু বাইরের মিল দেখে কোনো বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণ বংশগত ব্যাখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।

একটি সাধারণ ভুল হলো, বংশগতি মানেই সন্তান বাবা বা মায়ের হুবহু অনুলিপি হবে। আসলে বংশগতি প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, কিন্তু সব ব্যক্তিকে একরকম করে না।

মনে রাখো: বংশগতি বাবা-মায়ের বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে পৌঁছে দেয়; সন্তান তাদের হুবহু অনুলিপি হওয়া জরুরি নয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রস: লম্বা ও খাটো মটরশুঁটিচালিয়ে দেখো

    একটি বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানের গবেষণা বাগানে দুটি সংকর লম্বা মটরশুঁটি উদ্ভিদের (Aa) মধ্যে পরপরাগায়ন (Aa × Aa) ঘটিয়ে বীজ সংগ্রহ করা হলো। মটরশুঁটি গাছে লম্বা বৈশিষ্ট্যের অ্যালিল (A) খাটো বৈশিষ্ট্যের (a) ওপর প্রকট। ক্লাসের অর্পিতা বলল, 'উভয় গাছই লম্বা, তাই তাদের অপত্যের সব চারা গাছই লম্বা হবে।' শান্ত বলল, 'না, সংকর জনকের কারণে অর্ধেক গাছ লম্বা ও অর্ধেক খাটো (১:১) হবে।' অল্প কয়েকটি চারা (যেমন ১০টি) পর্যবেক্ষণ করলে দৈবচয়নের প্রভাবে অনুপাত এলোমেলো হতে পারে। বহুসংখ্যক অপত্য উদ্ভিদের ক্ষেত্রে লম্বা ও খাটো উদ্ভিদের ফিনোটাইপিক অনুপাত কেমন হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. রাজশাহীর একটি কৃষি গবেষণা খামারে মেন্ডেলের মনোহাইব্রিড ক্রসের নিয়মানুসারে দুটি বিষমসংকর লম্বা (TtTt) মটরশুঁটি উদ্ভিদের মধ্যে পরাগায়ন ঘটিয়ে F2F_2 জনুতে মোট ৪০০টি চারা গাছ পাওয়া গেল। মেন্ডেলের ফিনোটাইপিক অনুপাত (৩:১৩:১) অনুসারে এদের মধ্যে সম্ভাব্য কতটি খাটো (tttt) উদ্ভিদ পাওয়া যাবে?

    1. ক

      ১০০টি

    2. খ

      ২০০টি

    3. গ

      ৩০০টি

    4. ঘ

      ১৩৩টি

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ১০০টি

    1. দুটি বিষমসংকর উদ্ভিদের সংকরায়নে (Tt×TtTt \times Tt) F2F_2 জনুর জিনোটাইপ অনুপাত হয় 1 TT:2 Tt:1 tt1\ TT : 2\ Tt : 1\ tt এবং ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৩টি লম্বা : ১টি খাটো।
    Tt×Tt→1 TT:2 Tt:1 ttTt \times Tt \rightarrow 1\ TT : 2\ Tt : 1\ tt
    1. মোট ৪ ভাগের ১ ভাগ (২৫%) উদ্ভিদ প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস খাটো (tttt) বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়।
    2. অতএব, ৪০০টি উদ্ভিদের মধ্যে সম্ভাব্য খাটো উদ্ভিদের সংখ্যা = ৪০০×১৪=১০০৪০০ \times \frac{১}{৪} = ১০০টি।
    Ndwarf=400×14=100N_{\text{dwarf}} = 400 \times \frac{1}{4} = 100

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো