offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ৭

স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ এবং কাজ

পড়ার নোট

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র মস্তিষ্ক ও সুষুম্না কাণ্ড নিয়ে গঠিত। মস্তিষ্ক করোটির ভেতরে এবং সুষুম্না কাণ্ড মেরুদণ্ডের ভেতরে সুরক্ষিত থাকে। এই ব্যবস্থা তথ্য গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ ও দেহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। মস্তিষ্কের প্রধান বিভাগ তিনটি: অগ্রমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক এবং পশ্চাৎমস্তিষ্ক।

সেরিব্রাম মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ। এর ডান ও বাম গোলার্ধ স্নায়ুতন্তুর গুচ্ছ করপাস ক্যালোসাম দিয়ে যুক্ত। ডান গোলার্ধ দেহের বাম পাশ এবং বাম গোলার্ধ ডান পাশ নিয়ন্ত্রণ করে। চিন্তা, স্মৃতি, বুদ্ধি, ইচ্ছা, কথা বলা, দেখা, শোনা এবং ঐচ্ছিক পেশির কাজ এর নিয়ন্ত্রণাধীন। এর বাইরের ধূসর অংশে কোষদেহ এবং ভেতরের শ্বেত অংশে মায়েলিনযুক্ত স্নায়ুতন্তু থাকে।

মধ্যমস্তিষ্ক অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের সংযোগ রক্ষা করে। পেশির কাজের সমন্বয়, ভারসাম্য, দেখা ও শোনায় এর ভূমিকা আছে। পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশগুলোর কাজ হলো:

  • সেরিবেলাম: পেশির টান, চলনের সমন্বয় ও দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।
  • পনস: সেরিবেলাম ও মেডুলা অবলংগাটার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
  • মেডুলা অবলংগাটা: শ্বাসক্রিয়া, হৃৎস্পন্দন ও খাদ্য গেলার মতো অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

সুষুম্না কাণ্ড মেডুলা অবলংগাটার পরবর্তী অংশ থেকে নিচে বিস্তৃত। এটি মস্তিষ্ক ও দেহের মধ্যে বার্তা বহন করে এবং হাত সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রতিবর্তী ক্রিয়া পরিচালনা করে। সেরিব্রামের বিপরীতে এর বাইরের অংশ শ্বেত পদার্থ ও ভেতরের অংশ ধূসর পদার্থ দিয়ে গঠিত।

প্রান্তীয় ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র

প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র হলো মস্তিষ্ক ও সুষুম্না কাণ্ড থেকে বেরিয়ে দেহে ছড়িয়ে থাকা স্নায়ুসমূহ। মস্তিষ্ক থেকে ১২ জোড়া এবং সুষুম্না কাণ্ড থেকে ৩১ জোড়া স্নায়ু বের হয়। সংবেদী স্নায়ু তথ্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে আনে; মোটর স্নায়ু নির্দেশ বাইরে বহন করে। মিশ্র স্নায়ুতে দুই ধরনের তন্তুই থাকে।

স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র হৃৎপিণ্ড, পাকস্থলী, অন্ত্র ও অগ্ন্যাশয়ের মতো অঙ্গের অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

রিকশাচালকের সামনে বাঁক দেখার তথ্য মস্তিষ্কে পৌঁছায়, সেরিব্রাম নির্দেশ দেয় এবং সেরিবেলাম পেশির কাজ ও ভারসাম্য সমন্বয় করে। পথটি হলো: গ্রাহক → সংবেদী স্নায়ু → কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র → মোটর স্নায়ু → পেশি।

সাধারণ ভুল হলো সেরিব্রাম, সেরিবেলাম ও মেডুলাকে মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান বিভাগ বলা; সেরিবেলাম ও মেডুলা পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ।

মনে রাখো: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে, আর প্রান্তীয় স্নায়ু তার সঙ্গে দেহের যোগাযোগ বজায় রাখে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. মানব মস্তিষ্কের কোন অংশটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা এবং পেশির টান নিয়ন্ত্রণ করে?

    1. ক

      গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum)

    2. খ

      মধ্যমস্তিষ্ক (Midbrain)

    3. গ

      লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)

    4. ঘ

      সুষুম্না শীর্ষক (Medulla oblongata)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)

    1. লঘুমস্তিষ্ক বা সেরিবেলাম (Cerebellum) দেহের পেশির টান নিয়ন্ত্রণ, চলন সমন্বয় এবং দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে।
    2. গুরুমস্তিষ্ক (Cerebrum) বুদ্ধি, চিন্তা ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সুষুম্না শীর্ষক (Medulla oblongata) হৃদস্পন্দন ও শ্বসনের মতো অনৈচ্ছিক কাজ পরিচালনা করে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো