পড়ার নোট
আর্থ্রাইটিসের লক্ষণগুলো মূলত অস্থিসন্ধির প্রদাহ থেকে আসে। সন্ধিতে প্রদাহ হলে স্বাভাবিক মসৃণ নড়াচড়া ব্যাহত হয়।
প্রধান লক্ষণ
- প্রদাহ ও ব্যথা: অস্থিসন্ধি বা গিঁটে প্রদাহ হয় এবং ব্যথা করে।
- শক্ত হয়ে যাওয়া: অস্থিসন্ধিগুলো শক্ত হয়ে যায়, সহজে বাঁকানো যায় না।
- নাড়াতে কষ্ট: সন্ধি নাড়ানোর সময় ব্যথা ও কষ্ট হয়।
- ফুলে যাওয়া: গিঁট ফুলে যায়।
লক্ষণ কেন হয়
সুস্থ সাইনোভিয়াল সন্ধিতে অস্থির প্রান্তের তরুণাস্থি ও সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমিয়ে নড়াচড়া সহজ রাখে। প্রদাহ হলে সন্ধির ভেতরের টিস্যু ফুলে যায় ও স্পর্শকাতর হয়, ফলে নাড়ালে ব্যথা হয় এবং সন্ধি শক্ত লাগে। দীর্ঘদিন এমন চললে মানুষ সন্ধি কম নাড়ান, যা শক্তভাব আরও বাড়ায়।
লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্তে সতর্কতা
একই রকম লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন অস্থিসন্ধির রোগে দেখা দিতে পারে। কম বয়সীদের গিঁটে ব্যথা রিউমেটিক ফিভার বা বাতজ্বরের লক্ষণও হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে বাতের ধরন ঠিক করা যায় না; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরীক্ষা দরকার।
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
| কাজ | কেন কষ্ট হয় |
|---|---|
| সিঁড়ি দিয়ে ওঠা | হাঁটুর সন্ধি নাড়াতে ব্যথা |
| বোতলের ঢাকনা খোলা | আঙুলের ফোলা ও শক্ত গিঁট |
| সকালে বিছানা ছেড়ে ওঠা | রাতভর না নড়ায় সন্ধি শক্ত |
| মাটিতে বসা | হাঁটু ও কোমরের সন্ধি বাঁকাতে কষ্ট |
উদাহরণ: একজন বয়স্ক নারী বলেন, তার আঙুলের গিঁটগুলো ফোলা, সকালে মুঠো করতে কষ্ট হয় এবং রান্নার সময় হাঁড়ি ধরতে ব্যথা লাগে। এগুলো কোন রোগের লক্ষণের সাথে মেলে? গিঁটে প্রদাহ ও ব্যথা, ফোলা, শক্তভাব ও নাড়াতে কষ্ট রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাতের লক্ষণের সাথে মেলে; তবে নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সাধারণ ভুল হলো ব্যথা কমলেই রোগ সেরে গেছে ভেবে চিকিৎসা বন্ধ করা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা বন্ধ করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।
মনে রাখো: আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ হলো অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ ও ব্যথা, সন্ধি শক্ত হওয়া, নাড়াতে কষ্ট এবং গিঁট ফুলে যাওয়া; একই লক্ষণ ভিন্ন রোগেও হতে পারে বলে চিকিৎসকের পরীক্ষা জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।