পড়ার নোট
অস্থি হলো রূপান্তরিত যোজক টিস্যু এবং দেহের সবচেয়ে শক্ত টিস্যু। অস্থির ধাত্র বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ জৈব যৌগে গঠিত, আর এর মধ্যে অস্থিকোষ ছড়িয়ে থাকে।
অস্থির গঠন উপাদান
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগে গঠিত।
- এতে প্রায় 40–50% পানি থাকে।
- জীবিত অস্থিকোষে প্রায় 40% জৈব ও 60% অজৈব পদার্থ থাকে।
- ধাত্রে ক্যালসিয়াম জমা হয় বলেই অস্থি মজবুত হয়।
অস্থির ক্ষয় ও গঠন
অস্থি স্থির কিছু নয়; পুরোনো অস্থি ক্ষয় হয় এবং একই সাথে নতুন অস্থি তৈরি হয়। এই ক্ষয় ও গঠনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানা ধরনের অস্থির রোগ হয়। বেশি বয়সে অস্থির ক্ষয় গঠনের চেয়ে বেশি হয়, তাই বয়স্কদের অস্থি দুর্বল হতে থাকে।
অস্থি গঠনে ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম
অস্থিকোষ গঠনে ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য দরকার; এদের অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। সূর্যালোক ত্বকের কোলেস্টেরলে পড়লে কিছু পরিবর্তন ঘটে, যা পরে যকৃৎ ও বৃক্কে আরও পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিটামিন D তৈরি করে। তাই পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা দরকার। যারা সব সময় ঘরে থাকেন বা সারা দেহ ঢাকা পোশাক পরেন, তাদের ভিটামিন D এর অভাবের সম্ভাবনা থাকে।
অস্থির কাজ
দেহের কাঠামো ও দৃঢ়তা দেওয়া, নরম অঙ্গ রক্ষা করা, পেশি যুক্ত হয়ে চলনে সাহায্য করা, অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং খনিজ লবণ সঞ্চয়।
উদাহরণ: একটি জীবিত অস্থির নমুনার কঠিন অংশের ভর 50 g। এর মধ্যে জৈব ও অজৈব পদার্থ কত? জৈব g, অজৈব g। অজৈব অংশ বেশি বলেই অস্থি শক্ত; আর জৈব অংশ অস্থিকে একেবারে ভঙ্গুর হতে দেয় না।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে অস্থি একবার তৈরি হলে আর বদলায় না। সারা জীবন অস্থির ক্ষয় ও নতুন গঠন চলে, আর এর ভারসাম্যই অস্থি সুস্থ রাখে।
মনে রাখো: অস্থি দেহের সবচেয়ে শক্ত, রূপান্তরিত যোজক টিস্যু; এতে প্রায় 40% জৈব ও 60% অজৈব পদার্থ থাকে, আর সুস্থ অস্থির জন্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D ও সূর্যালোক দরকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।