offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৯ · টপিক ৩

অস্থি

পড়ার নোট

অস্থি হলো রূপান্তরিত যোজক টিস্যু এবং দেহের সবচেয়ে শক্ত টিস্যু। অস্থির ধাত্র বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ জৈব যৌগে গঠিত, আর এর মধ্যে অস্থিকোষ ছড়িয়ে থাকে।

অস্থির গঠন উপাদান

  • অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগে গঠিত।
  • এতে প্রায় 40–50% পানি থাকে।
  • জীবিত অস্থিকোষে প্রায় 40% জৈব ও 60% অজৈব পদার্থ থাকে।
  • ধাত্রে ক্যালসিয়াম জমা হয় বলেই অস্থি মজবুত হয়।

অস্থির ক্ষয় ও গঠন

অস্থি স্থির কিছু নয়; পুরোনো অস্থি ক্ষয় হয় এবং একই সাথে নতুন অস্থি তৈরি হয়। এই ক্ষয় ও গঠনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানা ধরনের অস্থির রোগ হয়। বেশি বয়সে অস্থির ক্ষয় গঠনের চেয়ে বেশি হয়, তাই বয়স্কদের অস্থি দুর্বল হতে থাকে।

অস্থি গঠনে ভিটামিন D ও ক্যালসিয়াম

অস্থিকোষ গঠনে ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য দরকার; এদের অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। সূর্যালোক ত্বকের কোলেস্টেরলে পড়লে কিছু পরিবর্তন ঘটে, যা পরে যকৃৎ ও বৃক্কে আরও পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিটামিন D তৈরি করে। তাই পর্যাপ্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা দরকার। যারা সব সময় ঘরে থাকেন বা সারা দেহ ঢাকা পোশাক পরেন, তাদের ভিটামিন D এর অভাবের সম্ভাবনা থাকে।

অস্থির কাজ

দেহের কাঠামো ও দৃঢ়তা দেওয়া, নরম অঙ্গ রক্ষা করা, পেশি যুক্ত হয়ে চলনে সাহায্য করা, অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং খনিজ লবণ সঞ্চয়।

উদাহরণ: একটি জীবিত অস্থির নমুনার কঠিন অংশের ভর 50 g। এর মধ্যে জৈব ও অজৈব পদার্থ কত? জৈব =50×40100=20= 50 \times \frac{40}{100} = 20 g, অজৈব =50×60100=30= 50 \times \frac{60}{100} = 30 g। অজৈব অংশ বেশি বলেই অস্থি শক্ত; আর জৈব অংশ অস্থিকে একেবারে ভঙ্গুর হতে দেয় না।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে অস্থি একবার তৈরি হলে আর বদলায় না। সারা জীবন অস্থির ক্ষয় ও নতুন গঠন চলে, আর এর ভারসাম্যই অস্থি সুস্থ রাখে।

মনে রাখো: অস্থি দেহের সবচেয়ে শক্ত, রূপান্তরিত যোজক টিস্যু; এতে প্রায় 40% জৈব ও 60% অজৈব পদার্থ থাকে, আর সুস্থ অস্থির জন্য ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D ও সূর্যালোক দরকার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে সংগৃহীত একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানবদেহের সম্পূর্ণ শুষ্ক ফিমার (Femur) অস্থির মোট ভর পরিমাপ করে পাওয়া গেল ০.৫০ kg। এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক অনুসারে স্বাভাবিক শুষ্ক অস্থির মাত্রিকার শতকরা প্রায় ৬০ ভাগই হলো অজৈব খনিজ লবণ (প্রধানত ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট), যা অস্থিকে দৃঢ় ও শক্ত করে, এবং অবশিষ্ট শতকরা ৪০ ভাগ হলো জৈব পদার্থ (কোলাজেন ও ওসিন)। ওই শুষ্ক ফিমার অস্থিটিতে উপস্থিত অজৈব খনিজ লবণের ভর কত কিলোগ্রাম (kg)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ০.৩ kg

    1. মোট শুষ্ক অস্থির ভর M = ০.৫০ kg এবং শুষ্ক অস্থিতে অজৈব খনিজ লবণের শতকরা হার = ৬০% = ০.৬০।
    M=0.50 kg,Inorganic percentage=60%=0.60M = 0.50\text{ kg},\quad \text{Inorganic percentage} = 60\% = 0.60
    1. শুষ্ক ফিমার অস্থিতে উপস্থিত অজৈব খনিজ লবণের ভর = ০.৫০ kg × ০.৬০ = ০.৩ kg।
    Minorganic=0.50 kg×0.60=0.3 kgM_{\text{inorganic}} = 0.50\text{ kg} \times 0.60 = 0.3\text{ kg}
  2. বোর্ড পাঠ্যবইয়ে উল্লিখিত উপাদানের শতকরা হার অনুসারে, সুমাইয়ার পাত্রে অবশিষ্ট অজৈব পদার্থের ভর কত গ্রাম হবে?

    1. ক

      24 g24\text{ g}

    2. খ

      36 g36\text{ g}

    3. গ

      48 g48\text{ g}

    4. ঘ

      72 g72\text{ g}

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) 36 g36\text{ g}

    1. বোর্ড পাঠ্যবই অনুসারে, শুষ্ক অস্থির প্রায় 40%40\% জৈব এবং 60%60\% অজৈব যৌগ (যেমন ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম কার্বনেট) দ্বারা গঠিত।
    2. উদ্দীপকে শুষ্ক অস্থির ভর 60 g60\text{ g}। সমুদয় জৈব উপাদান দূর করার পর পাত্রে কেবল অজৈব অংশ অবশিষ্ট থাকে, যার ভর = 60 g×60%=36 g60\text{ g} \times 60\% = 36\text{ g}।
    minorganic=60 g×0.60=36 gm_{\text{inorganic}} = 60\text{ g} \times 0.60 = 36\text{ g}
    1. জৈব অংশের অনুপাত (40%40\%) বিবেচনা করলে 24 g24\text{ g} পাওয়া যায় এবং শুষ্ক অস্থির পরিবর্তে তাজা অস্থির ওপর হিসাব করলে ভুল উত্তর 72 g72\text{ g} বা 48 g48\text{ g} আসে।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো