পড়ার নোট
বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার ব্যাপক ও ভয়াবহভাবে বিস্তৃত। আমাদের দেশে পুরুষ ক্যান্সার রোগীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এটি। ফুসফুসের কোষের অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণহীন বিভাজনে এ রোগ হয়। এটি সংক্রামক নয়, অর্থাৎ এক জন থেকে আরেক জনে ছড়ায় না। যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ায় ফুসফুসে যে ক্ষত হয়, পরে তা থেকেও এক ধরনের ক্যান্সার হতে পারে।
কারণ:
- ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান কারণগুলোর একটি।
- বায়ু ও পরিবেশদূষণ।
- কর্মক্ষেত্রে বা বাসায় অ্যাসবেস্টস, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, নিকেল ও কঠিন ধাতুর গুঁড়ার মতো দূষকের সংস্পর্শ।
- খাদ্যে আঁশের অভাব রোগের সম্ভাবনা বাড়ায় বলে ধারণা করা হয়।
লক্ষণ (প্রাথমিক পর্যায়ে):
- দীর্ঘস্থায়ী শুকনো খুসখুসে কাশি।
- বুকে ব্যথা ও গলার স্বর ভেঙে যাওয়া।
- দিন দিন ওজন কমা ও ক্ষুধামান্দ্য।
- হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্ট ও ঘন ঘন জ্বর।
- বারবার নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হওয়া।
- হাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা, জন্ডিস ইত্যাদি।
প্রাথমিক লক্ষণ যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু হয়, রোগীর দীর্ঘদিন বাঁচার সম্ভাবনা তত বাড়ে।
প্রতিরোধ: ধূমপান ও তামাক পরিহার করা, দূষিত পরিবেশ এড়ানো, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর ধূলিকণা থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।
উদাহরণ: জাহাজভাঙা শিল্পে কাজ করা একজন শ্রমিক অনেক দিন ধরে শুকনো কাশি ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন এবং তাঁর ওজন কমে যাচ্ছে। এ ধরনের কাজে অ্যাসবেস্টস ও ধাতুর গুঁড়ার সংস্পর্শের সম্ভাবনা থাকে, যা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়; দ্রুত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো দরকার।
সাধারণ ভুল হলো দীর্ঘদিনের শুকনো কাশিকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে অবহেলা করা। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।
মনে রাখো: ফুসফুসের ক্যান্সার কোষের নিয়ন্ত্রণহীন বিভাজনে হওয়া অসংক্রামক রোগ; ধূমপান ও দূষণ প্রধান কারণ, আর দ্রুত শনাক্ত করলে বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।