offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৭ · টপিক ১০

ফুসফুসের ক্যান্সার

পড়ার নোট

বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার ব্যাপক ও ভয়াবহভাবে বিস্তৃত। আমাদের দেশে পুরুষ ক্যান্সার রোগীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এটি। ফুসফুসের কোষের অস্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণহীন বিভাজনে এ রোগ হয়। এটি সংক্রামক নয়, অর্থাৎ এক জন থেকে আরেক জনে ছড়ায় না। যক্ষ্মা বা নিউমোনিয়ায় ফুসফুসে যে ক্ষত হয়, পরে তা থেকেও এক ধরনের ক্যান্সার হতে পারে।

কারণ:

  • ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান কারণগুলোর একটি।
  • বায়ু ও পরিবেশদূষণ।
  • কর্মক্ষেত্রে বা বাসায় অ্যাসবেস্টস, আর্সেনিক, ক্রোমিয়াম, নিকেল ও কঠিন ধাতুর গুঁড়ার মতো দূষকের সংস্পর্শ।
  • খাদ্যে আঁশের অভাব রোগের সম্ভাবনা বাড়ায় বলে ধারণা করা হয়।

লক্ষণ (প্রাথমিক পর্যায়ে):

  • দীর্ঘস্থায়ী শুকনো খুসখুসে কাশি।
  • বুকে ব্যথা ও গলার স্বর ভেঙে যাওয়া।
  • দিন দিন ওজন কমা ও ক্ষুধামান্দ্য।
  • হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্ট ও ঘন ঘন জ্বর।
  • বারবার নিউমোনিয়া ও ব্রংকাইটিসে আক্রান্ত হওয়া।
  • হাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা, জন্ডিস ইত্যাদি।

প্রাথমিক লক্ষণ যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু হয়, রোগীর দীর্ঘদিন বাঁচার সম্ভাবনা তত বাড়ে।

প্রতিরোধ: ধূমপান ও তামাক পরিহার করা, দূষিত পরিবেশ এড়ানো, কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর ধূলিকণা থেকে সুরক্ষা নেওয়া এবং আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া।

উদাহরণ: জাহাজভাঙা শিল্পে কাজ করা একজন শ্রমিক অনেক দিন ধরে শুকনো কাশি ও বুকে ব্যথায় ভুগছেন এবং তাঁর ওজন কমে যাচ্ছে। এ ধরনের কাজে অ্যাসবেস্টস ও ধাতুর গুঁড়ার সংস্পর্শের সম্ভাবনা থাকে, যা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়; দ্রুত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো দরকার।

সাধারণ ভুল হলো দীর্ঘদিনের শুকনো কাশিকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে অবহেলা করা। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে চিকিৎসার সুযোগ অনেক বেশি থাকে।

মনে রাখো: ফুসফুসের ক্যান্সার কোষের নিয়ন্ত্রণহীন বিভাজনে হওয়া অসংক্রামক রোগ; ধূমপান ও দূষণ প্রধান কারণ, আর দ্রুত শনাক্ত করলে বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো