পড়ার নোট
যক্ষ্মা
যক্ষ্মা হলো ফুসফুসের একটি সংক্রামক রোগ। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, Mycobacterium tuberculosis-এর আক্রমণে হয়। এই ব্যাকটেরিয়া মূলত ফুসফুসে আক্রমণ করে, তবে দেহের অন্য অঙ্গ—যেমন হাড়, কিডনি বা লিভার—এও ছড়াতে পারে।
লক্ষণ
- দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকা (২ সপ্তাহের বেশি)
- কাশির সাথে কফ বা রক্ত আসা
- জ্বর হওয়া, বিশেষ করে সন্ধ্যায়
- রাতে ঘাম হওয়া
- দেহের ওজন কমে যাওয়া
- দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করা
কারণ
- যক্ষ্মারোগী ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ানো ব্যাকটেরিয়া শ্বাসের মাধ্যমে অন্যের ফুসফুসে প্রবেশ করে
- অস্বাস্থ্যকর ও ভিজে পরিবেশ, ঘিঞ্জি ঘর, ভালো বাতাস না পাওয়া
- খাদ্যে পুষ্টির অভাব, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
রোগ নির্ণয়
- কফ পরীক্ষা: কফে ব্যাকটেরিয়া আছে কি না তা দেখা হয়
- চামড়ার পরীক্ষা (MT test)
- চেস্ট এক্স-রে
- আধুনিক পদ্ধতিতে DNA ভিত্তিক পরীক্ষা (যেমন GeneXpert)
প্রতিকার
- যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য রোগ। ডাক্তারের নির্দেশমতো নিয়মিত ও পুরো কোর্সের ওষুধ খেলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে
- রোগীকে আলাদা ঘরে রাখা ভালো, যাতে অন্যদের সংক্রমণ না হয়
- পুষ্টিকর খাবার দেওয়া
প্রতিরোধ
- BCG টিকা শিশুদের যক্ষ্মা থেকে রক্ষা করে
- ভালো বাতাস ও আলোযুক্ত পরিবেশে বাস করা
- রোগীর কাছ থেকে দূরে থাকা, বিশেষ করে খোলা হাওয়ায় না থাকা
- হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকা
মনে রাখো: যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য, কিন্তু ওষুধ অনিয়মিত খেলে রোগটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।