offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ১২ · টপিক ৯

ট্রান্সফরমারের মূলনীতি

পড়ার নোট

ট্রান্সফরমার এমন একটি যন্ত্র, যা সরাসরি বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই এক কয়েল থেকে অন্য কয়েলে বিদ্যুৎ পাঠায় এবং এসি ভোল্টেজ বাড়াতে বা কমাতে পারে। এর মূলনীতি তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ: চৌম্বক ক্ষেত্রের পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ তৈরি হয়।

গঠন

  • একটি আয়তাকার লোহার মজ্জা বা কোর।
  • কোরের এক পাশে প্যাঁচানো প্রাইমারি কয়েল বা মুখ্য কুণ্ডলী, যেখানে এসি ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়।
  • অন্য পাশে প্যাঁচানো সেকেন্ডারি কয়েল বা গৌণ কুণ্ডলী, যেখানে ভোল্টেজ আবিষ্ট হয়।

তারগুলো অপরিবাহী আস্তরণে ঢাকা, যাতে ধাতব কিছু ছুঁলেও শর্ট সার্কিট না হয়।

কীভাবে কাজ করে

  1. প্রাইমারিতে এসি প্রবাহ দিলে লোহার কোরে চৌম্বকত্ব তৈরি হয়, আর এসি বলে তা অবিরাম বাড়ে-কমে ও দিক বদলায়।
  2. এই পরিবর্তনশীল চৌম্বক বলরেখা কোরের ভেতর দিয়ে সেকেন্ডারি কয়েলে পৌঁছায়।
  3. সেকেন্ডারিতে চৌম্বক ক্ষেত্রের এই পরিবর্তন তড়িচ্চালক শক্তি বা ভোল্টেজ আবিষ্ট করে।

ডিসিতে কাজ করে না: স্থির ডিসি প্রবাহে কোরের চৌম্বক ক্ষেত্র বদলায় না, তাই সেকেন্ডারিতে ভোল্টেজ শূন্য।

সূত্র

প্রাইমারি ও সেকেন্ডারির প্যাঁচসংখ্যা npn_p ও nsn_s, ভোল্টেজ VpV_p ও VsV_s হলে

Vpnp=Vsns,Vs=(nsnp)Vp\frac{V_p}{n_p} = \frac{V_s}{n_s}, \quad V_s = \left(\frac{n_s}{n_p}\right) V_p

শক্তির সংরক্ষণ থেকে VpIp=VsIsV_p I_p = V_s I_s, তাই Is=(npns)IpI_s = \left(\frac{n_p}{n_s}\right) I_p। এখানে VV ভোল্টে (V) এবং II অ্যাম্পিয়ারে (A); প্যাঁচসংখ্যার একক নেই। প্রতি সেকেন্ডের বৈদ্যুতিক শক্তি VIVI দুই পাশে সমান, তাই ভোল্টেজ বাড়লে প্রবাহ ঠিক ততগুণ কমে; ট্রান্সফরমার থেকে বাড়তি শক্তি পাওয়া যায় না।

উদাহরণ: একটি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে 1100 প্যাঁচ ও সেকেন্ডারিতে 60 প্যাঁচ। প্রাইমারিতে 220 V AC দিলে Vs=601100×220=12V_s = \frac{60}{1100} \times 220 = 12 V। প্রাইমারিতে 0.5 A প্রবাহ হলে সেকেন্ডারিতে সর্বোচ্চ Is=220×0.512≈9.2I_s = \frac{220 \times 0.5}{12} \approx 9.2 A। একই প্রাইমারিতে 220 V ডিসি দিলে সেকেন্ডারিতে ভোল্টেজ শূন্য।

মনে রাখো: ট্রান্সফরমার তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশে শুধু এসিতে কাজ করে; VsVp=nsnp\frac{V_s}{V_p} = \frac{n_s}{n_p} এবং VpIp=VsIsV_p I_p = V_s I_s।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • মোবাইল চার্জারে ট্রান্সফরমার ও ভোল্টেজ রূপান্তরচালিয়ে দেখো

    বাসাবাড়ির মেইন লাইনে ২২০ V পরিবর্তী বিভব থাকে, কিন্তু একটি মোবাইল ফোন চার্জ করতে প্রয়োজন হয় মাত্র ৫ V। এজন্য চার্জারের ভেতরে একটি ছোট স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার থাকে যার মুখ্য কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা ২২০০ এবং গৌণ কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা ৫০। গৌণ কুণ্ডলীর তারের পাকসংখ্যা দ্বিগুণ করে ১০০ করা হলে চার্জারের আউটপুট ভোল্টেজ (গৌণ বিভব) কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. একটি মোবাইল ফোনের চার্জারের ভেতরে থাকা ট্রান্সফরমারের মুখ্য কুণ্ডলীতে ১২ V-এর একটি ডিসি (DC) ব্যাটারি যুক্ত করা হলে এর গৌণ কুণ্ডলীতে কোনো অবিচ্ছিন্ন আবিষ্ট বিভব পার্থক্য পাওয়া যায় না কেন?

    1. ক

      ডিসি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট চৌম্বক ফ্লাক্সে কোনো পরিবর্তন ঘটে না

    2. খ

      ডিসি প্রবাহের ভোল্টেজ ট্রান্সফরমারের জন্য অত্যন্ত বেশি

    3. গ

      কুণ্ডলীর তামার তার ডিসি বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে না

    4. ঘ

      ট্রান্সফরমারের লোহার কোর কেবল এসি বিদ্যুৎ শোষণ করে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) ডিসি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট চৌম্বক ফ্লাক্সে কোনো পরিবর্তন ঘটে না

    1. ট্রান্সফরমার পারস্পরিক আবেশের (mutual induction) ওপর ভিত্তি করে কাজ করে, যার জন্য মুখ্য কুণ্ডলীর মধ্য দিয়ে পরিবর্তনশীল তড়িৎ প্রবাহ (যেমন এসি) চালনা করে পরিবর্তনশীল চৌম্বক ফ্লাক্স তৈরি করতে হয়।
    2. ডিসি (DC) প্রবাহের মান ও দিক স্থির থাকায় এটি একটি অপরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। চৌম্বক ফ্লাক্সের কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় ফ্যারাডের সূত্রানুসারে গৌণ কুণ্ডলীতে কোনো অবিচ্ছিন্ন ভোল্টেজ আবিষ্ট হতে পারে না।
  2. তামিম তার স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার জন্য একটি চার্জার ব্যবহার করছে। চার্জারটির ভেতরে থাকা স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমারের (step-down transformer) মুখ্য কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা ১০০০ এবং গৌণ কুণ্ডলীর পাকসংখ্যা ২৫। চার্জারটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের ২২০ V এসি (AC) সরবরাহ লাইনে যুক্ত থাকলে এর গৌণ কুণ্ডলীতে কত ভোল্ট (V) বিভব পার্থক্য তৈরি হবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৫.৫ V

    1. ট্রান্সফরমারের মুখ্য ও গৌণ কুণ্ডলীর ভোল্টেজ ও পাকসংখ্যার সম্পর্ক: V_p / V_s = N_p / N_s
    VpVs=NpNs\frac{V_p}{V_s} = \frac{N_p}{N_s}
    1. এখানে মুখ্য ভোল্টেজ V_p = ২২০ V, মুখ্য পাকসংখ্যা N_p = ১০০০ এবং গৌণ পাকসংখ্যা N_s = ২৫।
    2. মান বসিয়ে পাই, V_s = V_p × (N_s / N_p) = ২২০ × (২৫ / ১০০০) = ২২০ × ০.০২৫ = ৫.৫ V।
    Vs=Vp×NsNp=220×251000=5.5 VV_s = V_p \times \frac{N_s}{N_p} = 220 \times \frac{25}{1000} = 5.5\text{ V}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো