পড়ার নোট
গতিশক্তি ও দুর্ঘটনা
গতিশীল বস্তুর গতিশক্তি , এখানে ভর (kg), বেগ (m/s)। বেগ বর্গ হিসেবে আছে, তাই বেগ দ্বিগুণ হলে গতিশক্তি চার গুণ হয়। দুটি গাড়ির সংঘর্ষে এই শক্তির কারণেই গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরোহীরা আঘাত পায়। তাই দুর্ঘটনায় ক্ষতি কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় গতি কম রাখা। আমাদের দেশের বেশির ভাগ দুর্ঘটনা হয় গাড়ির বেগ বেশি রাখার কারণে; বেশি বেগে গাড়ি নিয়ন্ত্রণও কঠিন।
ভারী ও হালকা যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ
একটি ভারী পাথরবোঝাই ট্রাক () ও একটি ছোট গাড়ি () একই দ্রুতিতে মুখোমুখি আসছে; ট্রাকের বেগ হলে গাড়ির বেগ । গাড়ির ভর ট্রাকের তুলনায় এত কম যে হিসাবে শূন্য ধরলে ভরবেগ ও শক্তির নিত্যতা থেকে পাওয়া যায়:
- সংঘর্ষের পর ট্রাকের বেগ প্রায় , অর্থাৎ ট্রাক প্রায় কিছুই টের পায় না।
- গাড়ির বেগ থেকে হয় ; বেগের পরিবর্তন । গাড়িটি উল্টো দিকে ছিটকে যায় এবং দুমড়েমুচড়ে যায়।
(এখানে ধরে নেওয়া হয়েছে গতিশক্তি ছাড়া অন্য শক্তির আদান-প্রদান হয়নি, যা বাস্তবে পুরোপুরি ঠিক নয়, তবু ভয়াবহতা বোঝা যায়।) তাই ভারী ট্রাক ও বাস খুব সতর্কভাবে চালাতে হবে, কারণ দুর্ঘটনায় তারা কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ছোট গাড়ির অনেক বেশি ক্ষতি হয়।
নিরাপদ ভ্রমণের করণীয়
- নির্ধারিত সীমার মধ্যে কম গতিতে চালানো।
- বাঁক নেওয়া বা অন্য গাড়িকে পাশ কাটানোর সময় গতি কমানো।
- ভারী যানবাহনের চালকদের বিশেষ সতর্কতা।
উদাহরণ: 1000 kg ভরের একটি গাড়ি 20 m/s বেগে চললে গতিশক্তি J kJ। 40 m/s বেগে J kJ, অর্থাৎ চার গুণ। সংঘর্ষে এই চার গুণ শক্তিই গাড়ি ও আরোহীর উপর কাজ করে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বেগ সামান্য বাড়ালে ঝুঁকিও সামান্য বাড়ে। বেগ দ্বিগুণ হলে সংঘর্ষের শক্তি চার গুণ হয়।
মনে রাখো: গতিশক্তি বেগের বর্গের সমানুপাতিক, তাই বেগ দ্বিগুণ হলে ক্ষতির শক্তি চার গুণ; মুখোমুখি সংঘর্ষে হালকা গাড়ির বেগের পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি, তাই নিরাপদ ভ্রমণের মূল কথা গতি কম রাখা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।